বাসন্তী পুজোই কি আদি দুর্গাপুজো? রাজা সুরথ কীভাবে এই পুজোর সূচনা করেন
চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে নবমী তিথি পর্যন্ত চলে দেবী বাসন্তীর আরাধনা। শ্রীরামচন্দ্র রাবণ বধের জন্য অকালে দেবীকে আহ্বান করার আগে পর্যন্ত এই বাসন্তী পুজোই ছিল দেবী দুর্গার প্রধান উৎসব। কিন্তু কে ছিলেন এই বাসন্তী দেবী এবং কেনই বা তাঁর পুজো শুরু হয়েছিল?
বসন্তের আগমনে প্রকৃতি যখন নবযৌবন লাভ করে, তখনই মর্ত্যে মর্ত্যে বেজে ওঠে শক্তির আবাহন—বাসন্তী পুজো। বাঙালি তথা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দুর্গাপূজা বলতেই এখন আমরা ‘শারদীয়া’ উৎসবকে বুঝি, কিন্তু শাস্ত্র অনুযায়ী আদিতে দেবী দুর্গার আরাধনা হতো বসন্তকালেই। তাই বাসন্তী দেবী মূলত দেবী দুর্গারই আদি রূপ।

চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে নবমী তিথি পর্যন্ত চলে দেবী বাসন্তীর আরাধনা। শ্রীরামচন্দ্র রাবণ বধের জন্য অকালে দেবীকে আহ্বান করার আগে পর্যন্ত এই বাসন্তী পুজোই ছিল দেবী দুর্গার প্রধান উৎসব। কিন্তু কে ছিলেন এই বাসন্তী দেবী এবং কেনই বা তাঁর পুজো শুরু হয়েছিল?
(আরও পড়ুন: ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবেই’, এমন নাকি বলেছিলেন বাবা ভাঙ্গা! ফের ভাইরাল তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী)
আদি ইতিহাস: রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্যের কাহিনি
শ্রী শ্রী চণ্ডী এবং ‘মার্কণ্ডেয় পুরাণ’ অনুযায়ী, ত্রেতাযুগে চিত্রবংশীয় রাজা সুরথ ছিলেন অত্যন্ত শক্তিশালী শাসক। কিন্তু যুদ্ধে পরাজিত হয়ে এবং নিজের মন্ত্রীদের ষড়যন্ত্রে তিনি রাজ্য হারান। মনের দুঃখে বনে বিচরণ করার সময় তাঁর দেখা হয় সমাধি নামক এক বৈশ্যের সঙ্গে। তাঁরা দুজনেই মহর্ষি মেধার আশ্রমে আশ্রয় নেন।
মহর্ষি মেধার উপদেশে রাজা সুরথ এবং সমাধি বৈশ্য নদীর তীরে মা দুর্গার মাটির মূর্তি গড়ে কঠোর তপস্যা শুরু করেন। বসন্তকালে তাঁরা এই পূজা করেছিলেন বলে এর নাম হয় ‘বাসন্তী পুজো’। কথিত আছে, দেবীর আশীর্বাদেই রাজা সুরথ তাঁর হারানো রাজ্য ফিরে পান এবং বৈশ্য লাভ করেন পরম জ্ঞান। সেই থেকে মর্ত্যে বাসন্তী পুজোর প্রচলন শুরু হয়।
(আরও পড়ুন: অত্যন্ত রহস্যময়ী এবং শক্তিশালী দেবী কাটেরি আম্মান, তাঁকে সকলে এত ভয় পান কেন? কী বলছে তন্ত্রশাস্ত্র)
ভারতীয় পুরাণের দৃষ্টিতে বাসন্তী দেবী
পুরাণ মতে, বাসন্তী দেবী হলেন জগতের আদিশক্তি। তিনি বসন্তের সজীবতা ও সৃষ্টির প্রতীক। শারদীয়া দুর্গাপূজা যেখানে অকালবোধন বা অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক, সেখানে বাসন্তী পুজো হলো ঋতু পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে জাগতিক সমৃদ্ধি এবং মানসিক শান্তি কামনার উৎসব। দেবী এখানে তাঁর পূর্ণ অলঙ্কারে এবং সৌম্য মূর্তিতে পূজিতা হন।
জ্যোতিষশাস্ত্র ও শক্তিবাদ কী বলছে?
জ্যোতিষশাস্ত্র: চৈত্র মাসে যখন সূর্য মীন রাশি থেকে মেষ রাশিতে গমন করে, তখন প্রকৃতির এক বিশাল পরিবর্তন ঘটে। জ্যোতিষ মতে, এই সময়টি শক্তির আরাধনার জন্য শ্রেষ্ঠ। বাসন্তী দেবীর পুজো করলে কুণ্ডলীতে অশুভ গ্রহের প্রভাব কমে এবং মন ও শরীরের রোগব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বিশেষ করে যাঁদের জীবনে মানসিক অস্থিরতা রয়েছে, তাঁদের জন্য এই পুজো অত্যন্ত ফলদায়ক।
শক্তিবাদ: শাক্ত দর্শনে বাসন্তী দেবী হলেন ব্রহ্মাণ্ডের চালিকা শক্তি। তিনি যেমন অসুরবিনাশিনী, তেমনই তিনি করুণাময়ী জননী। শক্তিবাদ অনুযায়ী, বসন্তকালে এই আরাধনা মানুষের ভেতরের ‘তামসিক’ প্রবৃত্তি জয় করে ‘সাত্ত্বিক’ ভাব জাগ্রত করতে সাহায্য করে।
(আরও পড়ুন: মনে করা হয়, তিনি ব্রহ্মবিদ্যার প্রতীক, সত্যের পথ দেখান! কে এই দেবী বিশালাক্ষী? কী তাঁর কাহিনি)
বাসন্তী পুজোর তাৎপর্য
বর্তমান যুগে শারদীয়া দুর্গোৎসবের জৌলুস অনেক বেশি হলেও, সাবেকি এবং ঐতিহ্যবাহী বহু পরিবার ও মঠে আজও বাসন্তী পুজো অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালিত হয়। এই পুজো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বিনাশ নয় বরং সৃষ্টি এবং স্থিতির জন্যই ঈশ্বরের আরাধনা করা প্রয়োজন। বসন্তের নির্মল বাতাসে দেবীর আগমণী বার্তা মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper











