কর্ণের কথা তো জানেন, কিন্তু তাঁর পুত্র বৃষসেনের কথা জানেন কি? তাঁর মৃত্যু কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের অন্যতম ট্র্যাজিক মুহূর্ত

কুরুক্ষেত্রের সমরাঙ্গনে বৃষসেনের বীরত্ব এবং তাঁর জীবনের করুণ পরিণাম কাহিনি অনেকেরই অজানা। কর্ণের সেই অপরাজেয় পুত্র, যাঁর রণকৌশল দেখে থমকে গিয়েছিলেন পাণ্ডবরা, জানুন তাঁর বীরত্বগাথা।

Published on: Feb 25, 2026, 11:46:54 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মহাভারতের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের বিশাল ক্যানভাসে অর্জুন, কর্ণ বা ভীষ্মের মতো বীরদের কথা বারবার আলোচিত হলেও, এমন অনেক তরুণ যোদ্ধা ছিলেন যাঁদের বীরত্ব দেখে স্বয়ং দেবতারাও বিস্মিত হয়েছিলেন। অঙ্গরাজ কর্ণের জ্যেষ্ঠ পুত্র বৃষসেন ছিলেন এমনই এক তেজস্বী যোদ্ধা। কর্ণের নয় পুত্রের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ এবং পিতার মতোই অপরাজেয় ধনুর্বীর।

কর্ণের কথা তো জানেন, কিন্তু তাঁর পুত্র বৃষসেনের কথা জানেন কি? তাঁর মৃত্যু কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের অন্যতম ট্র্যাজিক মুহূর্ত
কর্ণের কথা তো জানেন, কিন্তু তাঁর পুত্র বৃষসেনের কথা জানেন কি? তাঁর মৃত্যু কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের অন্যতম ট্র্যাজিক মুহূর্ত

কুরুক্ষেত্রের সমরাঙ্গনে বৃষসেনের বীরত্ব এবং তাঁর জীবনের করুণ পরিণাম কাহিনি অনেকেরই অজানা। কর্ণের সেই অপরাজেয় পুত্র, যাঁর রণকৌশল দেখে থমকে গিয়েছিলেন পাণ্ডবরা, জানুন তাঁর বীরত্বগাথা।

কর্ণের পুত্র বৃষসেন ছিলেন শৈশব থেকেই অস্ত্রবিদ্যায় পারদর্শী। পিতার মতো তিনিও ছিলেন মহাবীর এবং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কৌরব পক্ষের এক শক্তিশালী স্তম্ভ। যুদ্ধের প্রথম দশ দিন কর্ণ যখন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে ছিলেন (ভীষ্মের আপত্তিতে), তখন বৃষসেনও পিতার নির্দেশে অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু ১১তম দিনে যখন কর্ণ সেনাপতি দ্রোণাচার্যের অধীনে রণক্ষেত্রে নামলেন, তখন বৃষসেনও তাঁর ধনুক তুলে নিলেন পাণ্ডব নিধনে।

যুদ্ধের ১১তম দিন ও বৃষসেনের দাপট

যুদ্ধের ১১তম দিনে বৃষসেন তাঁর রণকৌশলের মাধ্যমে পাণ্ডব শিবিরে ত্রাস সৃষ্টি করেন। তাঁর তূণ থেকে নিক্ষিপ্ত বাণসমূহ পাণ্ডবদের ব্যুহ ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছিল। তিনি পাণ্ডব পক্ষীয় বীর সাত্যকি এবং বিরাট রাজকে নাজেহাল করে তুলেছিলেন। অর্জুন পুত্র অভিমনু্যর সাথেও তাঁর তুমুল যুদ্ধ হয়েছিল। বৃষসেনের অস্ত্রশিক্ষা এতটাই নিখুঁত ছিল যে, কৌরব শিবিরের প্রবীণ বীররা মনে করতেন, কর্ণের পর যদি কেউ অর্জুনকে সমকক্ষ চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন, তবে তিনি বৃষসেন।

কর্ণের পুত্র বনাম পাণ্ডব বীরদের লড়াই

যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে বৃষসেনকে নকুল, সহদেব এবং ভীমের মতো মহাবীরদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। নকুলের পুত্র শতানীককে তিনি পরাজিত করেছিলেন। একবার তো তিনি নকুলের রথ ধ্বংস করে তাঁকে প্রায় নিরস্ত্র করে ফেলেছিলেন। কর্ণের চোখের সামনে তাঁর পুত্র যেভাবে পাণ্ডবদের ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছিলেন, তাতে কর্ণ অত্যন্ত গর্বিত বোধ করতেন। কিন্তু এই বীরত্বই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।

বৃষসেনের পতন: অর্জুনের সেই ভয়ানক প্রতিশোধ

বৃষসেনের মৃত্যু ছিল কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের অন্যতম ট্র্যাজিক মুহূর্ত। যুদ্ধের ১৭তম দিনে যখন কর্ণ কৌরব বাহিনীর সেনাপতি, তখন বৃষসেন পাণ্ডব শিবিরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছিলেন। তিনি নকুলকে পরাজিত করে তাঁর ধনুক ভেঙে দেন এবং তাঁকে মারাত্মকভাবে জখম করেন। নকুলের এই অপমান এবং বিপদ দেখে অর্জুন প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হন।

অর্জুন প্রতিজ্ঞা করেন যে, কর্ণের চোখের সামনেই তিনি বৃষসেনকে বধ করবেন, ঠিক যেমন কর্ণের সহায়তায় কৌরবরা অভিমন্যুকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছিল। শুরু হয় এক বিধ্বংসী যুদ্ধ। কর্ণ তাঁর পুত্রকে রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন, কিন্তু অর্জুনের নিক্ষিপ্ত দিব্যাস্ত্রের সামনে বৃষসেনের রক্ষা কবচ ভেঙে যায়। সবশেষে, কর্ণের চোখের সামনেই অর্জুন একটি তীক্ষ্ণ বাণ দিয়ে বৃষসেনের মস্তক ছিন্ন করেন। নিজের প্রিয়তম পুত্রের এই করুণ মৃত্যু কর্ণকে মানসিকভাবে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল।

বৃষসেনের কাহিনী আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, যুদ্ধ কেবল বীরত্ব নয়, বরং ব্যক্তিগত লোকসানেরও এক নিষ্ঠুর মঞ্চ। তিনি ছিলেন তাঁর পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত এক অকুতোভয় যোদ্ধা। যদিও তিনি কৌরব পক্ষে লড়াই করেছিলেন, তবুও তাঁর সাহস ও পিতৃভক্তি মহাভারতের ইতিহাসে তাঁকে এক অবিস্মরণীয় তরুণ যোদ্ধা হিসেবে অমর করে রেখেছে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More