অত্যন্ত রহস্যময়ী এবং শক্তিশালী দেবী কাটেরি আম্মান, তাঁকে সকলে এত ভয় পান কেন? কী বলছে তন্ত্রশাস্ত্র

দেবী কাটেরি আম্মান কে? তন্ত্রশাস্ত্রে রয়েছে তাঁর বিরাট জায়গা। তাঁর রুদ্র রূপের কারণে অনেকেই তাঁকে ভয় পান। এই দেবীর কাহিনি কী? জেনে নিন এখান থেকে। 

Published on: Mar 3, 2026, 14:08:32 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারতীয় লোকধর্ম এবং বিশেষত দক্ষিণ ভারতের গ্রামীণ সংস্কৃতিতে এক অত্যন্ত রহস্যময়ী এবং শক্তিশালী দেবী হলেন কাটেরি আম্মান। হিন্দু ধর্মের মূল ধারার দেবীদের থেকে তাঁর রূপ এবং উপাসনা পদ্ধতি কিছুটা আলাদা। তন্ত্রশাস্ত্র এবং শক্তিবাদ অনুযায়ী, তিনি আদ্যাশক্তি মহাকালীর একটি অত্যন্ত উগ্র এবং শক্তিশালী রূপ। তাঁকে ঘিরে যেমন ভক্তি রয়েছে, তেমনই রয়েছে এক গভীর ভীতি।

অত্যন্ত রহস্যময়ী এবং শক্তিশালী দেবী কাটেরি আম্মান, তাঁকে সকলে এত ভয় পান কেন
অত্যন্ত রহস্যময়ী এবং শক্তিশালী দেবী কাটেরি আম্মান, তাঁকে সকলে এত ভয় পান কেন

(আরও পড়ুন: ভয়ংকরী নন, বরং তিনি পরম সত্যের প্রকাশ! তবু কেন দেবী ভৈরবীকে সকলে ভয় পান)

কাটেরি আম্মান মূলত দক্ষিণ ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে উপাসিতা এক দেবী। তামিল শব্দ 'কাটেরি'র অর্থ হলো বনের এক প্রকার অপদেবতা বা আত্মা। তবে শক্তিবাদে তাঁকে কেবল আত্মা নয়, বরং 'কুলদেবী' এবং রক্ষাকর্ত্রী হিসেবে পুজো করা হয়। তিনি মূলত অরণ্য, শ্মশান এবং অন্ধকার শক্তির অধিশ্বরী।

(আরও পড়ুন: দেবী মাতঙ্গী কে? কেন তাঁকে সকলে ভয় পান? অথচ তাঁকেই বলা হয় জ্ঞানের তান্ত্রিক রূপ! জেনে নিন মায়ের কাহিনি)

দেবী কাটেরি আম্মানের পরিচয় ও কাহিনি

পুরাণ এবং লোকগাথা অনুযায়ী, কাটেরি আম্মানকে দেবী কালীর একটি ছায়া রূপ বা সহকারী হিসেবে ধরা হয়। একটি প্রচলিত কাহিনি অনুসারে, দেবী মহাকালী যখন অসুর বিনাশের জন্য অত্যন্ত উগ্র রূপ ধারণ করেছিলেন, তখন তাঁর শরীরের সেই প্রচণ্ড তেজ এবং রুদ্ররোষ থেকে কাটেরি আম্মানের উদ্ভব হয়। তিনি দেবীর আজ্ঞাবহ হয়ে জগতের সমস্ত অশুভ শক্তি এবং কু-দৃষ্টির হাত থেকে ভক্তদের রক্ষা করেন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁকে এমন এক শক্তিরূপে দেখা হয় যিনি রোগব্যাধি (বিশেষত শিশুদের রোগ) এবং অকাল মৃত্যুর হাত থেকে মানুষকে বাঁচান।

(আরও পড়ুন: তাঁকে বলা হয় রাজরাজেশ্বরী! অনায়াসেই সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় করেন তিনি, জানুন দেবী ললিতা ত্রিপুরাসুন্দরীর কথা)

তাঁকে ভয় পাওয়ার কারণ

কাটেরি আম্মানকে ভয় পাওয়ার প্রধান কারণ তাঁর উগ্র অবয়ব এবং কঠোর ন্যায়বিচার। লোকবিশ্বাসে মনে করা হয়, এই দেবী অত্যন্ত চঞ্চল এবং দ্রুত ফলদাত্রী। যদি তাঁর পুজোয় সামান্যতম ভুল হয় বা তাঁকে অপদস্থ করা হয়, তবে তিনি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন। তন্ত্রশাস্ত্রে তাঁকে 'অন্ধকার শক্তির নিয়ন্ত্রক' বলা হয়, তাই তাঁর কৃপা না থাকলে দুষ্ট আত্মা বা কালো জাদুর (Black Magic) প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব বলে মনে করা হয়।

(আরও পড়ুন: নাম শুনলে সাধারণ মানুষ আজও শিউরে ওঠেন, কে এই দেবী নিঋতি? কেন তাঁকে ঘিরে এত আতঙ্ক)

তন্ত্রশাস্ত্র, জ্যোতিষশাস্ত্র এবং শক্তিবাদ কী বলে?

  • শক্তিবাদ: শক্তিবাদ অনুযায়ী, কাটেরি আম্মান হলেন আদি পরাশক্তির সেই রূপ যিনি জগতের বিষ এবং নেতিবাচকতাকে নিজের মধ্যে ধারণ করেন। তিনি ভক্তের হৃদয়ের অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের আলো জ্বালেন।
  • তন্ত্রশাস্ত্র: তন্ত্রশাস্ত্রে কাটেরি আম্মানকে 'বামাক্ষ্যাপা' বা বামমার্গী সাধনার অন্যতম প্রধান দেবী হিসেবে দেখা হয়। শ্মশান সাধনায় তাঁর গুরুত্ব অপরিসীম। তান্ত্রিকদের মতে, তিনি রক্ষা কবচের মতো কাজ করেন যা সাধককে বাইরের অপশক্তির হাত থেকে বাঁচায়।
  • জ্যোতিষশাস্ত্র: জ্যোতিষশাস্ত্রে যখন রাহু এবং কেতুর কু-প্রভাব কোনো ব্যক্তির জীবনে চরম অস্থিরতা তৈরি করে, তখন কাটেরি আম্মানের আরাধনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে 'সর্প দোষ' বা পিতৃদোষ কাটানোর জন্য তাঁর পুজো অত্যন্ত ফলদায়ক।

(আরও পড়ুন: দেবী ছিন্নমস্তাকে অনেকেই প্রচণ্ড ভয় পান! তাঁর এই রুদ্র রূপের কারণ কী? কী তাঁর কাহিনি)

পুজোর সময় যে বিষয়গুলি খেয়াল রাখতে হয়

কাটেরি আম্মানের পুজো সাধারণ পুজোর মতো নয়। এই পুজো করার সময় কিছু কঠোর নিয়ম মানতে হয়:

১. পবিত্রতা: মানসিক এবং শারীরিক পবিত্রতা এই পুজোর প্রধান শর্ত। সামান্য অসতর্কতা অমঙ্গল ডেকে আনতে পারে।

২. বলিদান: প্রথাগতভাবে এই দেবীর পুজোয় পশুবলি বা রক্তের প্রতীকী নিবেদনের চল আছে। অনেক ক্ষেত্রে মদ্য এবং মাংস (তামসিক ভোগ) নিবেদন করা হয়।

৩. স্থান: লোকালয় থেকে দূরে বা বনের ধারে নির্জন স্থানে তাঁর পুজো করা বেশি ফলপ্রসূ।

৪. বিশেষ সময়: অমাবস্যার রাত বা মঙ্গলবার এবং শুক্রবার এই দেবীর পুজোর জন্য শ্রেষ্ঠ সময়।

(আরও পড়ুন: মনে করা হয়, তিনি ব্রহ্মবিদ্যার প্রতীক, সত্যের পথ দেখান! কে এই দেবী বিশালাক্ষী? কী তাঁর কাহিনি)

দেবী কাটেরি আম্মান আসলে কঠোর আবরণের আড়ালে এক মমতাময়ী জননী। যিনি ন্যায়পরায়ণ তাঁর কাছে তিনি রক্ষাকর্ত্রী, আর যিনি অন্যায়ী তাঁর কাছে তিনি কালরূপিনী। আধুনিক যুগেও এই দেবীর প্রতি মানুষের অগাধ বিশ্বাস প্রমাণ করে যে, লোকধর্মের শিকড় আজও কতটা গভীরে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More