দোল আর হোলি মোটেও এক নয়, একটির পিছনে আছে শুভ ঘটনা, অন্যটির ক্ষেত্রে অশুভের বিনাশ! জেনে নিন দুই দিনের পার্থক্য

দোল আর হোলি কি আলাদা? দুটো দিনের নাম এল কোথা থেকে? শুনলে অবাক হবেন, এই দুই দিনের পিছনে রয়েছে আলাদা আলাদা কাহিনি। জেনে নিন সেই দুই ঘটনা। 

Published on: Mar 3, 2026, 12:32:51 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বসন্তের আগমনে প্রকৃতি যখন পলাশ আর শিমুলের রঙে সেজে ওঠে, তখন সব ভারতবাসী মেতে ওঠেন এক মহোৎসবে। পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায় যা 'দোলযাত্রা', উত্তর ও পশ্চিম ভারতে তাই 'হোলি'। অনেকের ধারণা এই দুটি একই উৎসবের ভিন্ন নাম, কিন্তু সূক্ষ্ম বিচার করলে দেখা যায়, দোল এবং হোলির পালনের রীতি, সময় এবং পৌরাণিক পটভূমিতে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

দোল আর হোলি মোটেও এক নয়, একটির পিছনে আছে শুভ ঘটনা, অন্যটির ক্ষেত্রে অশুভের বিনাশ
দোল আর হোলি মোটেও এক নয়, একটির পিছনে আছে শুভ ঘটনা, অন্যটির ক্ষেত্রে অশুভের বিনাশ

দোলযাত্রা ও হোলির মধ্যকার এই পার্থক্য এবং বিশেষ বৈশিষ্ট্য হযতো অনেকেই জানেন না। দুটো কি একই উৎসব নাকি আলাদা? জানুন এদের ইতিহাস ও পালনের ভিন্ন প্রথা।

(আরও পড়ুন: ন্যাড়াপোড়া শব্দটা এল কোথা থেকে? দোলযাত্রার আগের রাতে এটি করা হয় কেন)

রঙের উৎসব বলতে আমরা সবাই একরকম মাতামাতিই বুঝি। তবে বাঙালির 'দোল' আর অবাঙালির 'হোলি'—এই দুইয়ের মধ্যে সংযোগ যেমন আছে, তেমনই রয়েছে স্পষ্ট বিভাজনরেখা। প্রধানত দিনক্ষণ এবং নেপথ্যের কাহিনীই এই দুই উৎসবকে স্বতন্ত্র করে তুলেছে।

১. দিন ও তিথির পার্থক্য

দোলযাত্রা পালিত হয় ফাল্গুনী পূর্ণিমার দিন। এটি মূলত বাঙালির উৎসব। অন্যদিকে, হোলি পালিত হয় পূর্ণিমার পরের দিন অর্থাৎ চৈত্র মাসের প্রথম প্রতিপদ তিথিতে। বাঙালিরা যেদিন দোল খেলেন, উত্তর ভারতে সেদিন পালিত হয় 'হোলিকা দহন' বা ছোট হোলি। অর্থাৎ, বাঙালির উৎসব যখন শেষ হয়, অবাঙ্গালিদের রঙের উৎসব তখন পূর্ণ উদ্যমে শুরু হয়।

২. পৌরাণিক পটভূমি

  • দোলযাত্রা (রাধা-কৃষ্ণের প্রেম): বাংলায় দোলযাত্রার মূল ভিত্তি হলো শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধার বৃন্দাবন লীলা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে শ্রীকৃষ্ণ রাধিকা ও গোপিনীদের নিয়ে আবির খেলায় মেতেছিলেন। এটি বৈষ্ণব সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এছাড়া এই দিনটি মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের শুভ জন্মদিন বা 'গৌর পূর্ণিমা' হিসেবেও বাঙালির কাছে অত্যন্ত পবিত্র।
  • হোলি (হোলিকা দহন ও প্রহ্লাদ): হোলির নেপথ্যে রয়েছে অসুররাজ হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকার কাহিনী। ভক্ত প্রহ্লাদকে পুড়িয়ে মারতে গিয়ে হোলিকা নিজেই আগুনে ভস্মীভূত হন। অশুভের বিনাশকে উদযাপন করতেই জ্বালানো হয় 'হোলিকা' বা খড়কুটোর স্তূপ। পরদিন সেই ছাই মেখে বা রঙ খেলে আনন্দ উদযাপনই হলো হোলি।

(আরও পড়ুন: হোলিকা দহনের দিনে কী ঘটেছিল? কীভাবে ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় রক্ষা পান ভক্ত প্রহ্লাদ, জেনে নিন সেই গল্প)

৩. পালনের রীতি ও বৈচিত্র্য

দোলযাত্রা: দোলে বাংলায় শান্তিনিকতনের বসন্ত উৎসবের মতো এক ধ্রুপদী রূপ দেখা যায়। এখানে গানের ডালি, প্রভাতফেরি এবং আবিরের ছোঁয়া থাকে। বিগ্রহকে দোলনায় দোলানো হয় বলেই এর নাম 'দোলযাত্রা'। এটি মূলত এক স্নিগ্ধ ও মার্জিত উৎসব।

হোলি: হোলি অনেক বেশি বর্ণিল এবং চঞ্চল। উত্তর ভারতে 'লাঠমার হোলি' থেকে শুরু করে রঙ মেশানো জল নিয়ে খেলার এক উন্মাদনা দেখা যায়। এখানে আবিরের চেয়ে রঙের ব্যবহার বেশি হয় এবং 'হোলি হ্যায়' চিৎকারে আকাশ-বাতাস মুখরিত থাকে।

(আরও পড়ুন: দোলযাত্রায় শ্রীকৃষ্ণ বধ করেছিলেন কংসের প্রিয় অনুচরকে, নদীর ঘাটে সেদিন কী ঘটেছিল)

৪. খাদ্যাভ্যাস ও লোকাচার

বাঙালির দোলের পাতে মালপোয়া, ক্ষীর এবং ঘরোয়া মিষ্টির আধিক্য থাকে। অন্যদিকে, হোলির দিনে উত্তর ভারতে 'গুজিয়া', 'ঠান্ডাই' এবং বিশেষ কিছু লৌকিক পদের চল রয়েছে। দোলযাত্রা যেমন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পূর্ণ, হোলি তেমনই লৌকিক বিনোদনের এক বড় ক্ষেত্র।

(আরও পড়ুন: চর্মরোগ সারাতেও শুরু হয়েছিল দোল খেলা! ভারতের কিছু জায়গাতেই ঘটেছিল এমন, জেনে নিন সেই কাহিনি)

দোলযাত্রা ও হোলি—উভয়ই কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিভেদ ভুলে মিলনের বার্তা দেয়। একটিতে যেমন শ্রীকৃষ্ণের চরণে আবির দিয়ে ভক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটে, অন্যটিতে তেমনই সমাজের সমস্ত কলুষতাকে আগুনে পুড়িয়ে দিয়ে নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়। নাম এবং রীতির পার্থক্য যাই হোক না কেন, রঙের এই উৎসব আসলে মানুষের মনে ভালোবাসার রঙ ছড়ানোর এক বিশ্বজনীন মাধ্যম।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More