...
...
Next Story

দেবী মাতঙ্গী কে? কেন তাঁকে সকলে ভয় পান? অথচ তাঁকেই বলা হয় জ্ঞানের তান্ত্রিক রূপ! জেনে নিন মায়ের কাহিনি

শিল্প, সঙ্গীত, জ্ঞান এবং বাকপটুতার দেবী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর রূপ এবং সাধনার পদ্ধতি সাধারণের কাছে কিছুটা ভীতিপ্রদ। কেন তিনি দশমহাবিদ্যার অন্যতম শক্তিশালী রূপ এবং কেনই বা তাঁকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এত কৌতূহল ও ভয়, জেনে নিন।

Published on: Feb 13, 2026, 11:03:42 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

দশমহাবিদ্যার নবম রূপ হলেন দেবী মাতঙ্গী। ভারতীয় শক্তিবাদ বা তান্ত্রিক ঐতিহ্যে তিনি এক অনন্য এবং রহস্যময়ী দেবী। তাঁকে বলা হয় 'তান্ত্রিকে সরস্বতী'। শিল্প, সঙ্গীত, জ্ঞান এবং বাকপটুতার দেবী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর রূপ এবং সাধনার পদ্ধতি সাধারণের কাছে কিছুটা ভীতিপ্রদ। কেন তিনি দশমহাবিদ্যার অন্যতম শক্তিশালী রূপ এবং কেনই বা তাঁকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এত কৌতূহল ও ভয়, জেনে নিন।

দেবী মাতঙ্গী: জ্ঞানের তান্ত্রিক রূপ

কে ছিলেন দেবী মাতঙ্গী? কেন তাঁকে জ্ঞানের তান্ত্রিক রূপ বলা হয়
কে ছিলেন দেবী মাতঙ্গী? কেন তাঁকে জ্ঞানের তান্ত্রিক রূপ বলা হয়

দেবী মাতঙ্গী ভগবান শিবের 'চণ্ডাল' রূপের শক্তি। পুরাণে বর্ণিত আছে, তিনি চণ্ডাল কন্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাঁর গায়ের রঙ ঘন সবুজ (মরকতমণির মতো), কপালে অর্ধচন্দ্র এবং হাতে পাশ, অঙ্কুশ, খড়্গ ও বীণা থাকে। তিনি মূলত বশীকরণ, কলা এবং পাণ্ডিত্যের দেবী। তবে দেবী সরস্বতী যেমন শ্বেতশুভ্র ও সাত্ত্বিক, মাতঙ্গী তেমন নন; তিনি উচ্ছিষ্ট বা এঁটো বস্তুর মাধ্যমে পূজিত হন বলে তাঁকে 'উচ্ছিষ্ট মাতঙ্গিনী' বলা হয়।

কেন দেবী মাতঙ্গীকে সকলে ভয় পান?

মাতঙ্গীকে নিয়ে ভয়ের মূল কারণ তাঁর 'অপ্রথাগত' রূপ এবং তান্ত্রিক সাধনা। সাধারণ দেবদেবীর পুজোয় যেখানে শুচিতা ও শুদ্ধাচার পরম শর্ত, মাতঙ্গীর ক্ষেত্রে নিয়ম একেবারেই উল্টো:

  • ১. উচ্ছিষ্ট ভোগ: তান্ত্রিক মতে, তাঁকে এঁটো খাবার বা উচ্ছিষ্ট নৈবেদ্য হিসেবে দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের কাছে যা অপবিত্র, দেবীর কাছে তাই পরম ভক্তি। এই চরম বিপরীতধর্মী আচরণ সাধারণের মনে ত্রাস সৃষ্টি করে।
  • ২. চণ্ডালিনী রূপ: তিনি সমাজের অন্ত্যজ শ্রেণীর প্রতিনিধি হিসেবে পূজিত হন। তাঁর এই আদিম এবং অপ্রতিহত শক্তি সামাজিক নিয়ম-কানুনকে অস্বীকার করে, যা অনেকের কাছে ভীতিজনক।
  • ৩. তীব্র বশীকরণ শক্তি: মাতঙ্গী সাধনা করলে মানুষ বাকসিদ্ধি লাভ করে। অর্থাৎ, তাঁর মুখ দিয়ে যা বেরোয় তাই সত্যি হয়। এই অলৌকিক শক্তি লাভের প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠিন এবং সামান্য ভুলেও সাধকের ক্ষতি হতে পারে বলে একে ভয়ের চোখে দেখা হয়।

পুজো ও সাধনার সময় লক্ষণীয় বিষয়

শক্তিবাদ (Shaktism): শাক্ত মতে, মাতঙ্গী হলেন 'বাণী' বা শব্দের পরা-রূপ। তিনি আমাদের হৃদয়ের অন্তস্থলে থাকা সেই জ্ঞান যা শিল্প হয়ে প্রকাশ পায়। তিনি সামাজিক বিভেদ মুছে ফেলার প্রতীক। তাঁর আরাধনা করলে মানুষ জাগতিক মোহ থেকে মুক্তি পায় এবং চরম সত্যের মুখোমুখি হওয়ার সাহস পায়।

জ্যোতিষশাস্ত্র (Astrology):

  • সূর্যের প্রতিকার: জ্যোতিষশাস্ত্রে সূর্যকে রাজকীয় ক্ষমতার কারক মনে করা হয়। কিন্তু দেবী মাতঙ্গী সূর্যের নেতিবাচক প্রভাব বা 'অহংকার' নাশ করেন।
  • বুধ গ্রহের প্রভাব: যেহেতু তিনি বাণীর দেবী, তাই যাদের জন্মকুণ্ডলীতে বুধ (Mercury) গ্রহ দুর্বল বা পীড়িত, তাদের জন্য মাতঙ্গী কবচ বা মন্ত্র অত্যন্ত কার্যকরী। এটি বাকপটুতা এবং বুদ্ধিবৃত্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
  • অশুভ দশা মুক্তি: বিশেষ করে রাহুর দশা বা নেতিবাচক তুকতাক থেকে বাঁচতে মাতঙ্গী সাধনা অজেয় রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।

দেবী মাতঙ্গী ভয়ের নন, বরং চরম সত্যের দেবী। তিনি আমাদের শেখান যে ব্রহ্মাণ্ডে কোনো কিছুই অপবিত্র নয়, সবটাই পরমাত্মার অংশ। যারা শিল্প ও জ্ঞানে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে চান, দেবী মাতঙ্গী তাঁদের পরম আশ্রয়। তবে তাঁর সাধনা করার আগে একজন উপযুক্ত তান্ত্রিক গুরুর পরামর্শ নেওয়া একান্ত আবশ্যক।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe