...
...
Next Story

নাম শুনলে সাধারণ মানুষ আজও শিউরে ওঠেন, কে এই দেবী নিঋতি? কেন তাঁকে ঘিরে এত আতঙ্ক

দেবী নিঋতির স্বরূপ এবং তাঁকে কেন্দ্র করে প্রচলিত ভয় ও ভক্তির কারণগুলি কী কী, কে এই রহস্যময়ী দেবী? কেন তাঁকে ঘিরে এত আতঙ্ক এবং কী বলছে তন্ত্রশাস্ত্র? জেনে নিন এখান থেকে।

Published on: Feb 20, 2026 11:59 AM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

ভারতীয় হিন্দু পুরাণ এবং তন্ত্রশাস্ত্রে যে কজন দেবীর নাম শুনলে সাধারণ মানুষ আজও কিছুটা শিউরে ওঠেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন দেবী নিঋতি। তাঁকে অলক্ষ্মী বা দুঃখ-দারিদ্র্যের দেবী হিসেবে দেখা হলেও, তন্ত্র সাধনায় তাঁর গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বৈদিক যুগ থেকে বর্তমানের শক্তিবাদ পর্যন্ত এক রহস্যময়ী চরিত্র।

নাম শুনলে সাধারণ মানুষ আজও শিউরে ওঠেন, কে এই দেবী নিঋতি? কেন তাঁকে ঘিরে এত আতঙ্ক
নাম শুনলে সাধারণ মানুষ আজও শিউরে ওঠেন, কে এই দেবী নিঋতি? কেন তাঁকে ঘিরে এত আতঙ্ক

দেবী নিঋতির স্বরূপ এবং তাঁকে কেন্দ্র করে প্রচলিত ভয় ও ভক্তির কারণগুলি কী কী, কে এই রহস্যময়ী দেবী? কেন তাঁকে ঘিরে এত আতঙ্ক এবং কী বলছে তন্ত্রশাস্ত্র? জেনে নিন এখান থেকে।

সনাতন ধর্মে আমরা যখন সম্পদের দেবী লক্ষ্মীর কথা বলি, ঠিক তার বিপরীত মেরুর শক্তি হলেন দেবী নিঋতি। বৈদিক শাস্ত্রে নিঋতিকে মৃত্যুর অধিপতি এবং ধ্বংসের দেবী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ বা 'নৈঋত কোণ'-এর রক্ষক। তাঁকে মূলত অন্ধকার, বিপর্যয় এবং অলক্ষ্মীর প্রতীক হিসেবে মনে করা হয়।

দেবী নিঋতির স্বরূপ ও কেন তাঁকে ভয় পাওয়া হয়?

সংস্কৃত 'নিঋতি' শব্দের অর্থ হলো 'বিপর্যয়' বা 'অধর্ম'। পুরাণে তাঁকে কালবর্ণের দেবী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যাঁর বাহন হলো কাক বা মানুষ। তাঁকে ভয় পাওয়ার প্রধান কারণ হলো—তিনি যখন কারও ওপর ক্রুদ্ধ হন, তখন সেই ব্যক্তির জীবনে দুঃখ, শোক, রোগ এবং আর্থিক অনটন নেমে আসে। তিনি পাপীদের বিনাশ করেন এবং প্রকৃতির ভারসাম্যে ধ্বংসের প্রতিনিধিত্ব করেন। সাধারণ মানুষ মনে করেন, তাঁর কুদৃষ্টি পড়লে সাজানো সংসার তাসের ঘরের মতো ভেঙে যেতে পারে।

ভারতীয় তন্ত্রশাস্ত্র ও শক্তিবাদে নিঋতির গুরুত্ব

শোধন ও মুক্তি: তন্ত্র অনুযায়ী, নতুন সৃষ্টির জন্য ধ্বংস অনিবার্য। নিঋতি আমাদের ভেতরের অহংকার এবং অশুভ চিন্তাকে ধ্বংস করেন।

নৈঋত কোণ: তন্ত্র সাধনায় দক্ষিণ-পশ্চিম কোণকে অত্যন্ত শক্তিশালী মনে করা হয়। সাধকরা সিদ্ধি লাভের জন্য নিঋতির আরাধনা করেন যাতে জীবনের সমস্ত বাধা দূর হয়।

শক্তিবাদ: শক্তিবাদের ধারায় নিঋতিকে প্রকৃতির সংহারিণী শক্তির একটি রূপ হিসেবে দেখা হয়। তিনি দেবী দুর্গার সেই রূপ যা অশুভ শক্তিকে সমূলে বিনাশ করতে দ্বিধা করেন না।

জ্যোতিষশাস্ত্রে দেবী নিঋতি

জ্যোতিষশাস্ত্রে কেতু গ্রহ এবং রাহু-কেতুর নেতিবাচক প্রভাবের সঙ্গে নিঋতিকে যুক্ত করা হয়। যদি কারো বাস্তুতে 'নৈঋত কোণ' দোষযুক্ত থাকে, তবে সেই পরিবারে কলহ ও দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। এই কোণকে ভারি রাখা এবং পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেন জ্যোতিষীরা, যাতে দেবীর রুদ্র রূপ শান্ত থাকে।

পুজোর সময় যে বিষয়গুলি খেয়াল রাখা জরুরি

দেবী নিঋতির পুজো বা তাঁর শক্তির আরাধনা করার সময় সাধারণ গৃহস্থদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয়:

১. নির্জনতা: প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী, নিঋতির উপাসনা লোকালয় থেকে দূরে বা নির্জন স্থানে করা বিধেয়।

২. অর্ঘ্য দান: তাঁকে মূলত কালো তিল, কালো কাপড় এবং লোহার তৈরি জিনিস অর্পণ করা হয়।

৩. ইচ্ছেপূরণ নয়: তাঁর পুজো সাধারণত পার্থিব সুখের জন্য নয়, বরং আপদ-বিপদ থেকে মুক্তির জন্য করা হয়।

৪. মূর্তি স্থাপন: দেবী নিঋতির ছবি বা মূর্তি সাধারণ শোয়ার ঘরে বা মূল পুজো ঘরে না রাখাই শ্রেয়।

নিঋতি কেবল অশুভের প্রতীক নন, তিনি সত্য ও নিয়মের (ঋত) বিপরীত পিঠ। আলো যেমন অন্ধকার ছাড়া অসম্পূর্ণ, লক্ষ্মীও তেমনি নিঋতির উপস্থিতি ছাড়া মূল্যহীন। ধ্বংসের পরেই নবজীবন আসে—এই ধ্রুব সত্যের নামই হলো দেবী নিঋতি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe