কালসর্প দোষ ব্যাপারটা কী? এটি থাকলে নাকি জীবনে বিরাট বাধাবিপত্তি আসে, সত্যি কি তাই
কালসর্প দোষকে সকলে এত ভয় কেন পান? এই দোষ থাকা মানে কি জীবনে শুধুই বাধা? কী বলছে শাস্ত্র? জেনে নিন।
ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রে কুষ্ঠি বিচারের সময় যে দোষটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা এবং ভয় কাজ করে, সেটি হলো 'কালসর্প দোষ'। অনেকের মতে, এই দোষ থাকলে জীবনে কেবল বাধাবিপত্তি আসে। কিন্তু জ্যোতিষশাস্ত্রে এই দোষের যেমন নেতিবাচক দিক আছে, তেমনই রয়েছে কিছু বিশেষ ইতিবাচক সম্ভাবনাও।

কালসর্প দোষ কী? কেন একে নিয়ে এত আতঙ্ক এবং কী বলছে জ্যোতিষশাস্ত্র? জানুন বিস্তারিত।
জ্যোতিষশাস্ত্রে রাহু এবং কেতুকে ছায়া গ্রহ বলা হয়। যখন কোনো জাতক বা জাতিকার জন্মকুণ্ডলীতে সমস্ত প্রধান গ্রহ (রবি, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র এবং শনি) রাহু এবং কেতুর মাঝখানে চলে আসে, তখন সেই গ্রহবিন্যাসকে 'কালসর্প দোষ' বলা হয়। কাল মানে মৃত্যু বা সময় এবং সর্প মানে সাপ। অর্থাৎ, রাহু ও কেতুরূপী সর্পের বন্ধনে অন্য গ্রহদের বন্দি দশাই হলো এই দোষ।
কালসর্প দোষের প্রভাব
এই দোষের প্রভাব একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। তবে সাধারণভাবে কিছু লক্ষণ দেখা যায়:
- কাজে বাধা: প্রতিটি কাজে শেষ মুহূর্তে গিয়ে বাধা আসা বা সাফল্য হাতছাড়া হওয়া।
- মানসিক অশান্তি: অকারণে দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা বা ঘুমের মধ্যে সাপের স্বপ্ন দেখা।
- পারিবারিক ও আর্থিক সমস্যা: পারিবারিক বিবাদ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার অভাব।
- শারীরিক অসুস্থতা: দীর্ঘস্থায়ী রোগের প্রকোপ এবং ক্লান্তি বোধ করা।
১২ প্রকারের কালসর্প দোষ
রাহু ও কেতু কুণ্ডলীর কোন ঘরে বসে আছে, তার ওপর ভিত্তি করে এই দোষ ১২ প্রকারের হয়। যেমন— অনন্ত, কুলিক, বাসুকি, শঙ্খপাল, পদ্ম, মহাপদ্ম, তক্ষক, কর্কোটক, শঙ্খনাদ, ঘাতক, বিষধর এবং শেষনাগ কালসর্প দোষ। এর মধ্যে কিছু দোষ বংশগত সমস্যা তৈরি করে, আবার কিছু দোষ ক্যারিয়ারে উত্থান-পতন ঘটায়।
কালসর্প দোষ কি সবসময়ই অশুভ?
জনসত্তা-র প্রতিবেদন এবং জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের মতে, কালসর্প দোষ মানেই জীবন শেষ নয়। অনেক সফল ব্যক্তি যেমন— শচীন তেন্ডুলকর, ধীরুভাই আম্বানি বা জওহরলাল নেহেরুর কুণ্ডলীতেও এই দোষ বা যোগ ছিল। এটি মানুষকে লড়াকু মানসিকতা দেয় এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চূড়ায় পৌঁছাতে সাহায্য করে। যদি রাহু ও কেতু শুভ অবস্থানে থাকে, তবে এই দোষটিই 'রাজযোগ'-এর মতো ফল দিতে পারে।
কালসর্প দোষ থেকে মুক্তির উপায়
জ্যোতিষশাস্ত্রে এই দোষের প্রভাব কমানোর জন্য কিছু কার্যকরী প্রতিকার বলা হয়েছে:
১. শিব উপাসনা: মহাদেব হলেন কালসর্প দোষের নাশক। প্রতি সোমবার শিবলিঙ্গে জলাভিষেক করা এবং 'ওঁ নমঃ শিবায়' মন্ত্র জপ করা অত্যন্ত ফলদায়ক।
২. নাগ পঞ্চমী: প্রতি বছর নাগ পঞ্চমীর দিন নাগ দেবতার পূজা এবং রূপোর তৈরি এক জোড়া সাপ পবিত্র নদীতে ভাসিয়ে দিলে দোষের তীব্রতা কমে।
৩. রাহু-কেতু মন্ত্র: নিয়মিত রাহু ও কেতুর বীজ মন্ত্র জপ করা এবং অভাবী মানুষকে কালো বা তিল দান করা শুভ।
৪. মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র: প্রতিদিন রুদ্রাক্ষের মালায় মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করলে অকাল মৃত্যুর ভয় এবং মানসিক বাধা দূর হয়।
কালসর্প দোষ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক শাস্ত্রীয় বিধি পালন এবং কর্মের ওপর বিশ্বাস রাখলে এই দোষের নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। গ্রহ আমাদের দিকনির্দেশ দেয়, কিন্তু জীবনকে সঠিক পথে চালিত করার ক্ষমতা আমাদের নিজের হাতেই থাকে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


