মাঙ্গলিক দোষ ব্যাপারটা কী? বিয়ের ক্ষেত্রে এটা বিচার করা হয় কেন? কী বলছে জ্যোতিষশাস্ত্র
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, যদি কারো লগ্ন কুণ্ডলীর প্রথম (লগ্ন), চতুর্থ, সপ্তম, অষ্টম বা দ্বাদশ ভাবে মঙ্গল অবস্থান করে, তবে সেই জাতক বা জাতিকা মাঙ্গলিক বলে গণ্য হন।
হিন্দু বিবাহ এবং কোষ্ঠী বিচারের ক্ষেত্রে সবথেকে আলোচিত এবং বিতর্কিত বিষয় হলো 'মাঙ্গলিক দোষ'। অনেকের মতে এটি দাম্পত্য জীবনের অভিশাপ, আবার জ্যোতিষশাস্ত্রের গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায় এটি কেবল একটি গ্রহগত বিন্যাস মাত্র। মাঙ্গলিক দোষ কী, এর প্রভাব এবং মুক্তির উপায় জেনে নিন।

সনাতন জ্যোতিষশাস্ত্রে বিবাহের আগে কুষ্ঠি বা কোষ্ঠী মিলনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো 'মঙ্গল' গ্রহের অবস্থান পরীক্ষা করা। যদি কোনো ব্যক্তির জন্মকুণ্ডলীতে মঙ্গল গ্রহের অবস্থান অশুভ স্থানে থাকে, তবে তাকে মাঙ্গলিক দোষ বা 'ভাউম দোষ' বলা হয়।
মাঙ্গলিক দোষ আসলে কী?
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, যদি কারো লগ্ন কুণ্ডলীর প্রথম (লগ্ন), চতুর্থ, সপ্তম, অষ্টম বা দ্বাদশ ভাবে মঙ্গল অবস্থান করে, তবে সেই জাতক বা জাতিকা মাঙ্গলিক বলে গণ্য হন। মঙ্গলকে সাহস, তেজ এবং শক্তির কারক মনে করা হলেও, এই বিশেষ ঘরগুলিতে মঙ্গলের উপস্থিতি দাম্পত্য জীবনে অশান্তি বা বাধার সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়।
বিবাহিত জীবনে মাঙ্গলিক দোষের প্রভাব
জ্যোতিষীদের মতে, মঙ্গলের এই বিশেষ অবস্থান জাতকের স্বভাবকে কিছুটা উগ্র বা জেদী করে তুলতে পারে। এর প্রভাবগুলো হলো:
- বিলম্বে বিবাহ: মাঙ্গলিক দোষের কারণে অনেক সময় যোগ্য জীবনসঙ্গী পেতে দেরি হয়।
- দাম্পত্য কলহ: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতের অমিল, বিবাদ এবং মানসিক দূরত্বের সৃষ্টি হতে পারে।
- শারীরিক ও মানসিক সমস্যা: অষ্টম বা দ্বাদশ ভাবে মঙ্গল থাকলে জীবনসঙ্গীর স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
- সম্পর্ক বিচ্ছেদ: দোষ প্রবল হলে অনেক ক্ষেত্রে বিবাহবিচ্ছেদ পর্যন্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
মাঙ্গলিক দোষ নিয়ে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা
অনেকে মনে করেন মাঙ্গলিক ব্যক্তির সাথে অ-মাঙ্গলিক ব্যক্তির বিয়ে হলে অমঙ্গল অনিবার্য। তবে আধুনিক জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, ২৮ বছর বয়সের পর মঙ্গলের প্রভাব ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এছাড়া, যদি অন্য সঙ্গীর কোষ্ঠীতে শনি বা রাহু শক্তিশালী থাকে, তবে মাঙ্গলিক দোষ অনেক সময় খণ্ডিত হয়ে যায়।
মাঙ্গলিক দোষ মুক্তির সহজ উপায়
যদি কারো কোষ্ঠীতে মাঙ্গলিক দোষ থাকে, তবে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। শাস্ত্রে এর বেশ কিছু ফলপ্রসূ প্রতিকার রয়েছে:
১. মঙ্গলচণ্ডী পূজা: মঙ্গলবার মা চণ্ডীর আরাধনা করলে মঙ্গলের অশুভ প্রভাব প্রশমিত হয়।
২. কুম্ভ বিবাহ: শাস্ত্র মতে, মূল বিবাহের আগে ঘড়া বা বিষ্ণু প্রতিমার সাথে প্রতীকী বিবাহ সম্পন্ন করলে এই দোষ কেটে যায়।
৩. হনুমান চালিশা পাঠ: মঙ্গল গ্রহের অধিপতি দেবতা হলেন বজরংবলী। প্রতিদিন হনুমান চালিশা পাঠ করলে মঙ্গলের কুপ্রভাব দূর হয়।
৪. রক্ত প্রবাল ধারণ: অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর পরামর্শ নিয়ে কুণ্ডলী বিচার করে উপযুক্ত ওজনের রক্ত প্রবাল (Red Coral) ধারণ করা যেতে পারে।
৫. দান-ধ্যান: মঙ্গলবার অভাবী মানুষকে মুসুর ডাল, গুড় বা লাল বস্ত্র দান করা অত্যন্ত শুভ।
মাঙ্গলিক দোষ কোনো চিরস্থায়ী অভিশাপ নয়। সঠিক বিচার এবং প্রতিকারের মাধ্যমে এই দোষ কাটিয়ে সুখী দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করা সম্ভব। মনে রাখবেন, গ্রহের অবস্থানের চেয়েও পারস্পরিক বিশ্বাস এবং ভালোবাসা একটি সফল বিবাহের মূল ভিত্তি।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


