Mahadev's Favourite Zodiacs: মহাদেবের প্রিয় রাশি কী কী? আপনার রাশি কি আছে এই তালিকায়? মহাশিবরাত্রিতে জেনে নিন

১২টি রাশির মধ্যে বিশেষ কয়েকটি রাশির ওপর ভোলেনাথের আশীর্বাদ একটু বেশিই থাকে। আপনার রাশি কি সেই তালিকায় আছে? জেনে নিন আজই। 

Published on: Feb 15, 2026 9:20 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দেবদাদিদেব মহাদেব হলেন মহাজগতের অধিপতি। শাস্ত্র মতে, তিনি সকল জীবের প্রতি সমান দয়ালু। তবে জ্যোতিষশাস্ত্রের গভীর বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১২টি রাশির মধ্যে বিশেষ কয়েকটি রাশির ওপর ভোলেনাথের আশীর্বাদ একটু বেশিই থাকে। এই রাশির জাতকদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং গ্রহের অবস্থান মহাদেবের শক্তির সাথে একাত্ম হওয়ায় তারা সহজেই শিবের কৃপা লাভ করেন।

মহাদেবের প্রিয় রাশি কী কী? আপনার রাশি কি আছে এই তালিকায়? মহাশিবরাত্রিতে জেনে নি
মহাদেবের প্রিয় রাশি কী কী? আপনার রাশি কি আছে এই তালিকায়? মহাশিবরাত্রিতে জেনে নি

২০২৬ সালের মহাশিরাত্রির প্রাক্কালে কোন কোন রাশি মহাদেবের অত্যন্ত প্রিয়, তা জেনে নিন।

মহাদেবের প্রিয় রাশি: শিবের বিশেষ কৃপা থাকে যাঁদের ওপর

জ্যোতিষশাস্ত্রে প্রতিটি গ্রহের একজন অধিদেবতা থাকেন। ভগবান শিব স্বয়ং মহাকাশ ও সময়ের (কাল) নিয়ন্ত্রক। কিছু নির্দিষ্ট রাশির অধিপতি গ্রহের সাথে শিবের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর, যার ফলে সেই রাশির জাতকরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শিবের কৃপায় রক্ষা পান।

১. মেষ রাশি (Aries)

মেষ রাশির অধিপতি হলো মঙ্গল। জ্যোতিষশাস্ত্রে মঙ্গলকে শিবের তেজ থেকে উৎপন্ন বলে মনে করা হয়। মেষ রাশির জাতকরা সাহসী এবং স্পষ্টবক্তা হন। মহাদেব এই রাশির জাতকদের ওপর সর্বদা প্রসন্ন থাকেন। বিশেষ করে মহাশিরাত্রিতে মেষ রাশির জাতকরা যদি শিবলিঙ্গে লাল চন্দন বা গঙ্গাজল অর্পণ করেন, তবে তাদের জীবনের সমস্ত বাধা দূর হয়।

২. কর্কট রাশি (Cancer)

কর্কট রাশির অধিপতি হলো চন্দ্র। আমরা জানি, মহাদেব নিজের মস্তকে চন্দ্রকে ধারণ করেছেন, তাই তিনি 'চন্দ্রশেখর'। কর্কট রাশির জাতকরা আবেগপ্রবণ এবং ভক্তিপরায়ণ হন। চন্দ্রের রাশি হওয়ার কারণে এই জাতকদের মন সরাসরি শিবের সাথে যুক্ত থাকে। সোমবার বা মহাশিবরাত্রিতে এরা শিবের আরাধনা করলে অভাবনীয় মানসিক শান্তি ও সাফল্য লাভ করেন।

৩. বৃশ্চিক রাশি (Scorpio)

মেষের মতো বৃশ্চিক রাশির অধিপতিও মঙ্গল। এই রাশির জাতকরা অত্যন্ত রহস্যময় এবং আধ্যাত্মিক ক্ষমতাসম্পন্ন হন। শিবপুরাণ অনুযায়ী, বৃশ্চিক রাশির জাতকরা যদি শিবলিঙ্গে বেলপাতা এবং ধুতুরা অর্পণ করেন, তবে তারা অতি দ্রুত ফল লাভ করেন। যেকোনো কঠিন বিপদে এই রাশির মানুষের রক্ষাকর্তা হিসেবে শিবের নাম সর্বাগ্রে আসে।

৪. মকর ও কুম্ভ রাশি (Capricorn & Aquarius)

এই দুই রাশির অধিপতি হলো শনিদেব। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, শনিদেব মহাদেবের পরম শিষ্য। তাই শনির সাড়ে সাতি বা ধাইয়া চলাকালীন এই দুই রাশির জাতকরা যদি শিবের শরণাপন্ন হন, তবে শনির প্রকোপ থেকে তারা মুক্তি পান। মহাদেব কুম্ভ ও মকর রাশির জাতকদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের পূর্ণ ফল দান করেন।

কেন এই রাশিগুলি শিবের প্রিয়? জ্যোতিষতত্ত্ব

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, শিব হলেন 'আশুতোষ'—যিনি দ্রুত সন্তুষ্ট হন। কিন্তু ওপরে উল্লিখিত রাশিগুলির জাতকদের মধ্যে ত্যাগের মানসিকতা এবং একাগ্রতা বেশি থাকে। মহাদেব বৈরাগ্যের দেবতা, আর এই রাশিগুলির জাতকদের আধ্যাত্মিক চেতনা অন্যান্যদের তুলনায় সহজে জাগ্রত হয়। গ্রহের অবস্থান অনুযায়ী, এদের আজ্ঞাচক্র ও হৃদচক্র মহাদেবের 'ওঙ্কার' ধ্বনির প্রতি বেশি সংবেদনশীল।

মহাশিবরাত্রিতে আশীর্বাদ পাওয়ার উপায়

আপনার রাশি এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হোক বা না হোক, মহাশিবরাত্রির রাতে শিবের আশীর্বাদ পেতে নিচের নিয়মগুলি পালন করা জরুরি:

  • জলাভিষেক: শুদ্ধ মনে শিবলিঙ্গে জল ও কাঁচা দুধ অর্পণ করুন।
  • মন্ত্র জপ: 'ওঁ নমঃ শিবায়' বা 'মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র' জপ করলে গ্রহদোষ খণ্ডন হয়।
  • সেবা: শিবের প্রিয় হওয়ার শ্রেষ্ঠ পথ হলো জীবের সেবা করা, কারণ শিব সর্বভূতে বিরাজমান।

মহাদেব কোনো ভেদাভেদ করেন না। তবে জ্যোতিষশাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, মেষ, কর্কট, বৃশ্চিক, মকর ও কুম্ভ রাশির জাতকরা জন্মগতভাবেই শিবের প্রতি এক ধরণের আকর্ষণ অনুভব করেন। ২০২৬ সালের মহাশিরাত্রিতে এই রাশির জাতকদের জন্য সৌভাগ্যের নতুন দ্বার খুলতে চলেছে। ভক্তি ও বিশ্বাসের সাথে শিবের আরাধনা করলে যেকোনো মানুষই তাঁর পরম আশীর্বাদ লাভ করতে পারেন।