দোলযাত্রার রঙে এবার গ্রহণের ছায়া? সমস্যা হবে না তো? জানুন, গ্রহণের সময় ও সূতক কালের নিয়ম

ভারতে এই গ্রহণ দেখা যাবে কি না, সূতক কাল মানতে হবে কি না এবং হোলি উদ্‌যাপনে এর কী প্রভাব পড়বে—তা নিয়ে অনেকেই জানতে চাইছেন। উৎসবের রঙে কি পড়বে গ্রহণের ছায়া? জানুন ভারতে গ্রহণের সময় এবং সূতক কালের নিয়ম জেনে নেওয়া যাক।

Published on: Feb 21, 2026, 09:31:56 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

২০২৬ সালের রঙের উৎসব 'হোলি' বা দোলযাত্রাকে কেন্দ্র করে মহাকাশে এক বিরল ঘটনা ঘটতে চলেছে। আগামী ৩ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার, হোলির দিনেই সংগঠিত হবে বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ (Lunar Eclipse)। উৎসবের আমেজের মাঝে এই গ্রহণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

দোলযাত্রার রঙে এবার গ্রহণের ছায়া? সমস্যা হবে না তো? জানুন, গ্রহণের সময় ও সূতক কালের নিয়ম
দোলযাত্রার রঙে এবার গ্রহণের ছায়া? সমস্যা হবে না তো? জানুন, গ্রহণের সময় ও সূতক কালের নিয়ম

ভারতে এই গ্রহণ দেখা যাবে কি না, সূতক কাল মানতে হবে কি না এবং হোলি উদ্‌যাপনে এর কী প্রভাব পড়বে—তা নিয়ে অনেকেই জানতে চাইছেন। উৎসবের রঙে কি পড়বে গ্রহণের ছায়া? জানুন ভারতে গ্রহণের সময় এবং সূতক কালের নিয়ম জেনে নেওয়া যাক।

২০২৬ সালের দোলযাত্রা বা হোলি তিথিটি ধর্মীয় ও জ্যোতিষশাস্ত্রীয় দিক থেকে অত্যন্ত চর্চিত হতে চলেছে। দীর্ঘ সময় পর উৎসবের দিনেই চন্দ্রগ্রহণের যোগ তৈরি হয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্রে হোলিকে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক মনে করা হয়, আর গ্রহণকে মনে করা হয় এক স্পর্শকাতর সময়। তাই এই দুইয়ের মেলবন্ধন নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল তুঙ্গে।

২০২৬ চন্দ্রগ্রহণের তারিখ ও সময়

জ্যোতিষ গণনা এবং মহাকাশ বিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চন্দ্রগ্রহণটি ঘটবে ৩ মার্চ ২০২৬।

  • গ্রহণ শুরু: ৩ মার্চ বিকেল ৪টে বেজে ৪৫ মিনিটে (ভারতীয় সময় অনুযায়ী)।
  • গ্রহণ শেষ: রাত ৮টা বেজে ০৫ মিনিটে।
  • এটি একটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হতে চলেছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দৃশ্যমান হবে।

ভারতে কি এই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ভারতে এই চন্দ্রগ্রহণ দৃশ্যমান কি না। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, গ্রহণ চলাকালীন ভারতে দিনের আলো থাকবে এবং যখন চাঁদ উদিত হবে, তখন গ্রহণের শেষ পর্যায় চলবে। ফলে ভারতের উত্তর ও পূর্ব অংশের কিছু এলাকা থেকে খুব সামান্য সময়ের জন্য আংশিক গ্রহণ দেখা যেতে পারে। তবে দেশের অধিকাংশ জায়গা থেকে এই গ্রহণ খালি চোখে দেখা দুষ্কর হবে।

সূতক কাল ও হোলি পূজায় এর প্রভাব

হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী, চন্দ্রগ্রহণের ৯ ঘণ্টা আগে থেকে 'সূতক কাল' শুরু হয়। সূতক কাল চলাকালীন যে কোনো ধর্মীয় কাজ বা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ থাকে।

যেহেতু ভারতে এই গ্রহণ সব জায়গায় দৃশ্যমান নয়, তাই ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী ভারতে সূতক কাল কার্যকর হবে না।

এর অর্থ হলো, হোলিকা দহন বা দোলযাত্রার পূজাপাঠ এবং রঙ খেলার উৎসবে কোনো শাস্ত্রীয় বাধা থাকবে না। ভক্তরা নিশ্চিন্তে তাঁদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করতে পারবেন।

উৎসবের ওপর প্রভাব

জ্যোতিষীদের মতে, গ্রহণ ভারতে দৃশ্যমান না হলেও এর রাশির ওপর কিছু প্রভাব থাকতে পারে। বিশেষ করে মীন এবং কন্যা রাশির জাতকদের এই সময় কিছুটা সাবধান থাকা উচিত। তবে সাধারণ মানুষের জন্য হোলি উদ্‌যাপনে কোনো পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই। উৎসবের আনন্দ গ্রহণ ছাড়াই পূর্ণ উদ্যমে পালন করা যাবে।

২০২৬ সালের হোলিতে চন্দ্রগ্রহণ কেবল একটি মহাজাগতিক ঘটনা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকছে। ভারতে এর দৃশ্যমানতা কম হওয়ায় এবং সূতক কাল কার্যকর না হওয়ায় সাধারণ জনজীবন বা উৎসবের ওপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তবে বিজ্ঞানের ছাত্র বা মহাকাশ প্রেমীদের জন্য এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত হতে চলেছে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More