দোল পূর্ণিমায় এবার চন্দ্রগ্রহণ! রঙের উৎসবে গ্রহণের ছায়া, এর মানে জানা আছে তো

হোলির দিনে চন্দ্রগ্রহণের এই বিরল সংযোগ অনেক বছর পর ঘটতে চলেছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও জ্যোতিষীদের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে।

Published on: Feb 17, 2026, 18:14:33 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

২০২৬ সালের হোলি বা দোল পূর্ণিমা এক বিশেষ মহাজাগতিক পরিস্থিতির সাক্ষী হতে চলেছে। আগামী ৩ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার দেশজুড়ে যখন রঙের উৎসব পালিত হবে, ঠিক সেই দিনই আকাশে দেখা যাবে বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ।

দোল পূর্ণিমায় এবার চন্দ্রগ্রহণ! রঙের উৎসবে গ্রহণের ছায়া, এর মানে জানা আছে তো
দোল পূর্ণিমায় এবার চন্দ্রগ্রহণ! রঙের উৎসবে গ্রহণের ছায়া, এর মানে জানা আছে তো

উৎসবের দিনে এই গ্রহণের প্রভাব, সঠিক সময় এবং সূতক কাল জেনে নিন এখন থেকেই।

২০২৬ সালের দোল পূর্ণিমা বা হোলি উৎসব ধর্মীয় ও জ্যোতিষশাস্ত্রীয় দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, আগামী ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে একটি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ সংঘটিত হবে। হোলির দিনে চন্দ্রগ্রহণের এই বিরল সংযোগ অনেক বছর পর ঘটতে চলেছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও জ্যোতিষীদের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে।

চন্দ্রগ্রহণের তারিখ ও সময় (India Time)

ভারতীয় সময় অনুসারে, ২০২৬ সালের এই প্রথম চন্দ্রগ্রহণ ৩ মার্চ বিকেলে শুরু হবে।

  • গ্রহণ শুরু: ৩ মার্চ, ২০২৬ দুপুর ০২:২০ মিনিটে।
  • গ্রহণের মধ্যভাগ: বিকেল ০৪:৩০ মিনিটে।
  • গ্রহণের সমাপ্তি: সন্ধ্যা ০৬:৪০ মিনিটে।

যেহেতু গ্রহণের সময়টি দিনের বেলায় এবং সন্ধ্যায় পড়ছে, তাই ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চন্দ্রোদয়ের সময় আংশিক গ্রহণ দৃশ্যমান হতে পারে।

হোলির ওপর গ্রহণের প্রভাব ও সূতক কাল

হিন্দু শাস্ত্র মতে, চন্দ্রগ্রহণের সূতক কাল গ্রহণ শুরু হওয়ার ৯ ঘণ্টা আগে থেকে কার্যকর হয়।

  • সূতক শুরু: ৩ মার্চ ভোর ০৫:২০ মিনিট থেকে সূতক কাল শুরু হয়ে যাবে।

সাধারণত সূতক কালে কোনো শুভ কাজ বা পূজাপাঠ করা নিষিদ্ধ থাকে। তবে হোলিকা দহন বা দোল উৎসবের আচার-অনুষ্ঠানগুলি গ্রহণের সময়ের আগে বা পরে সম্পন্ন করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। দোল পূর্ণিমার দিন ভক্তরা যখন একে অপরকে আবির মাখাবেন, তখন গ্রহণের এই সূতক বিধি মেনে চলা আধ্যাত্মিক দিক থেকে শ্রেয়।

জ্যোতিষশাস্ত্রীয় বিশ্লেষণ ও রাশির ওপর প্রভাব

২০২৬ সালের এই চন্দ্রগ্রহণ সিংহ রাশি এবং উত্তরফাল্গুনী নক্ষত্রে ঘটতে চলেছে। চন্দ্র যখন রাহু বা কেতুর প্রভাবে গ্রাসিত হয়, তখন মানুষের মনের ওপর তার গভীর প্রভাব পড়ে।

  • শুভ প্রভাব: মিথুন, তুলা এবং ধনু রাশির জাতকদের জন্য এই গ্রহণ আকস্মিক ধনলাভের যোগ তৈরি করতে পারে।
  • সতর্কতা: সিংহ এবং কুম্ভ রাশির জাতকদের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। গ্রহণের সময় অতিরিক্ত মানসিক দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলা উচিত।

গ্রহণের সময় কী করবেন আর কী করবেন না?

  • ১. খাদ্য সুরক্ষা: গ্রহণের সময় খাবারে বা জলের পাত্রে তুলসী পাতা দিয়ে রাখা শাস্ত্রীয় রীতি, যাতে গ্রহণের নেতিবাচক বিকিরণ খাদ্যের ওপর প্রভাব না ফেলে।
  • ২. মন্ত্র জপ: চন্দ্রগ্রহণের সময় 'ওঁ সোমায় নমঃ' অথবা 'মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র' জপ করা অত্যন্ত ফলদায়ক।
  • ৩. দান-ধ্যান: গ্রহণ শেষ হওয়ার পর সাদা রঙের জিনিস যেমন চাল, চিনি বা দুধ দান করলে চন্দ্রদোষ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

রঙের উৎসব হোলি এবং চন্দ্রগ্রহণের এই মিলন আমাদের আধ্যাত্মিক সচেতনতার পরিচয় দেয়। উৎসবের আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি শাস্ত্রীয় বিধিনিষেধ মেনে চললে চন্দ্রগ্রহণের নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More