৪ দিন পরেই মায়াবী গ্রহ আর মঙ্গলের যূতি! তৈরি হচ্ছে অঙ্গারক যোগ, প্রচণ্ড শক্তিতে ভাগ্যের চাকা ঘুরবে ৩ রাশির
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে মঙ্গলকে বলা হয় অগ্নি ও শক্তির কারক, অন্যদিকে রাহু হলো বায়ু ও বিভ্রমের প্রতীক। যখন অগ্নি ও বায়ু একত্রে মিলিত হয়, তখন এক বিশেষ ধরণের প্রচণ্ড শক্তির সৃষ্টি হয়।
চলতি বছরে গ্রহমন্ডলে এক অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিরল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে চলেছে। কুম্ভ রাশিতে মায়াবী গ্রহ রাহু এবং সাহসের কারক মঙ্গল গ্রহের যূতি বা মিলন ঘটতে যাচ্ছে। জ্যোতিষশাস্ত্রে রাহু ও মঙ্গলের এই সংযোগকে 'অঙ্গারক যোগ' বলা হয়।

সাধারণত এই যোগকে নেতিবাচক মনে করা হলেও, বিশেষ ৩টি রাশির জন্য এই সংযোগ হবে অর্থপ্রাপ্তি ও সাফল্যের চাবিকাঠি।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে মঙ্গলকে বলা হয় অগ্নি ও শক্তির কারক, অন্যদিকে রাহু হলো বায়ু ও বিভ্রমের প্রতীক। যখন অগ্নি ও বায়ু একত্রে মিলিত হয়, তখন এক বিশেষ ধরণের প্রচণ্ড শক্তির সৃষ্টি হয়। ২০২৬ সালে কুম্ভ রাশিতে এই দুই গ্রহের মিলনে যে অঙ্গারক যোগ তৈরি হবে, তা ১২টি রাশির জীবনেই বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে। তবে ৩টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য এই সময়টি আকাশছোঁয়া উন্নতির সুযোগ নিয়ে আসছে।
কেন এই যোগ বিশেষ?
রাহু ও মঙ্গল যখন একই রাশিতে অবস্থান করে, তখন জাতকের মধ্যে অদম্য জেদ এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কুম্ভ রাশি হলো শনির ঘর, যা শৃঙ্খলার প্রতীক। এখানে এই দুই গ্রহের অবস্থান জাতককে কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে বড় কোনো লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে।
এই ৩ রাশির কপাল খুলবে:
১. বৃষ রাশি (Taurus): কেরিয়ারে বড় লাফ
বৃষ রাশির জাতকদের জন্য এই যূতি দশম ভাবে (কর্মের স্থান) ঘটবে।
- পেশাগত জীবন: কর্মক্ষেত্রে আপনার সাহস ও কাজের ধরণ সবাইকে অবাক করে দেবে। যারা রাজনীতির সাথে যুক্ত বা প্রশাসনিক চাকরিতে আছেন, তাদের পদোন্নতির প্রবল যোগ রয়েছে।
- সাফল্য: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অভূতপূর্ব সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। শত্রুরা আপনার সামনে মাথা নত করবে।
২. মিথুন রাশি (Gemini): ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন
মিথুন রাশির জাতকদের জন্য এই সংযোগ নবম ভাবে (ভাগ্যের স্থান) প্রভাব ফেলবে।
- আর্থিক লাভ: হঠাত করে কোনো উৎস থেকে বড় অংকের অর্থ আপনার হাতে আসতে পারে। পুরনো কোনো বিনিয়োগ যা আপনি ভুলেই গিয়েছিলেন, সেখান থেকে লাভ হবে।
- বিদেশ যাত্রা: যারা বিদেশের সাথে ব্যবসা করেন বা বিদেশে সেটল হতে চাইছেন, তাদের জন্য এই সময়টি আশীর্বাদস্বরূপ।
৩. কুম্ভ রাশি (Aquarius): আধিপত্য ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি
যেহেতু আপনার নিজের রাশিতেই এই রাজযোগ সদৃশ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তাই এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।
- ব্যক্তিত্ব: আপনার ব্যক্তিত্বে এক ধরণের আকর্ষণ তৈরি হবে। আপনি যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি নিজের সাহসের জোরে সামলে নিতে পারবেন।
- সম্পত্তি: পৈতৃক সম্পত্তি বা ভূমি সংক্রান্ত বিবাদে আপনার জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন গাড়ি বা বাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।
সাবধানতা ও প্রতিকার
অঙ্গারক যোগের সময় ক্রোধ বা রাগ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এই ৩ রাশির জাতকদের শান্ত থাকা প্রয়োজন। অশুভ প্রভাব এড়াতে নিচের কাজগুলো করতে পারেন:
- প্রতিদিন হনুমান চালিশা পাঠ করুন।
- মঙ্গলবার অভাবী মানুষকে লাল রঙের খাবার বা ডাল দান করুন।
- পাখিদের জল ও দানা খাওয়ান।
২০২৬ সালের এই রাহু-মঙ্গল যূতি সাহসের সাথে পরিস্থিতির মোকাবিলা করার সময়। যারা সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোবেন, রাহু ও মঙ্গলের এই শক্তি তাদের সাফল্যের শিখরে নিয়ে যাবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


