অশুভ বিনাশের মহাপর্বের দিন স্কন্দ ষষ্ঠী! এটি সনাতন ধর্মে এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? কী বলছে পুরাণ
স্কন্দ ষষ্ঠীর তাৎপর্য, এর নেপথ্যের পৌরাণিক ইতিহাস এবং কেন এই দিনটি ভক্তদের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ, জেনে নিন।
সনাতন ধর্মে শক্তির আরাধনার অন্যতম একটি পবিত্র তিথি হলো স্কন্দ ষষ্ঠী। এটি মূলত ভগবান শিব এবং মাতা পার্বতীর জ্যেষ্ঠ পুত্র, দেবসেনাপতি কার্তিকের (যাঁর অন্য নাম স্কন্দ) প্রতি উৎসর্গীকৃত একটি দিন। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে এটি 'কান্দা ষষ্ঠী' নামে অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও, উত্তর ও পূর্ব ভারতেও এর ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিসীম।

স্কন্দ ষষ্ঠীর তাৎপর্য, এর নেপথ্যের পৌরাণিক ইতিহাস এবং কেন এই দিনটি ভক্তদের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ, জেনে নিন।
হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, প্রতি মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিকে স্কন্দ ষষ্ঠী বলা হয়। তবে কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিটি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ, যা 'কার্তিক স্কন্দ ষষ্ঠী' বা 'সুুব্রহ্মণ্য ষষ্ঠী' নামে পরিচিত। এই দিনটি মূলত সাহসিকতা, জয় এবং অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক।
স্কন্দ ষষ্ঠীর পৌরাণিক পটভূমি: কী ঘটেছিল এই দিনে?
পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, তারকাসুর নামক এক শক্তিশালী অসুর ব্রহ্মার কাছ থেকে বর পেয়েছিলেন যে, শিবের ঔরসজাত পুত্র ছাড়া কেউ তাঁকে বধ করতে পারবে না। তারকাসুরের অত্যাচারে স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল যখন অতিষ্ঠ, তখন দেবতাদের প্রার্থনায় এবং মহাদেবের তেজে কার্তিকের জন্ম হয়।
স্কন্দ ষষ্ঠী হলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যখন ভগবান কার্তিক বা স্কন্দ তাঁর মহাশক্তি 'ভেল' (এক প্রকার বর্শা) দিয়ে অপরাজেয় অসুর তারকাসুর এবং তাঁর দুই ভাই সিংহামুখ ও সূরপদ্মনকে পরাজিত ও বধ করেছিলেন। এই যুদ্ধের মাধ্যমে পৃথিবীতে শান্তি ও ধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতেই প্রতি বছর মহাসমারোহে স্কন্দ ষষ্ঠী পালন করা হয়।
সনাতন ধর্মে স্কন্দ ষষ্ঠীর অপরিসীম গুরুত্ব
১. সন্তান কামনায় ব্রত: হিন্দু সমাজে বিশ্বাস করা হয়, যারা সন্তানহীন বা যাদের সন্তানের অমঙ্গল হওয়ার ভয় থাকে, তারা যদি নিষ্ঠাভরে স্কন্দ ষষ্ঠীর উপবাস রাখেন, তবে ভগবান কার্তিকের আশীর্বাদে গুণবান সন্তান লাভ হয়।
২. মানসিক ও শারীরিক শক্তি: কার্তিক হলেন বীরত্ব ও শৌর্যের দেবতা। এই দিন উপাসনা করলে মনের ভয় দূর হয়, আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং শারীরিক রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বলে ভক্তরা বিশ্বাস করেন।
৩. বিজয় ও সাফল্য: যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বা আইনি লড়াইয়ে বিজয়ী হতে অনেক সাধক এই তিথিতে বিশেষ যজ্ঞ বা পূজা করেন। কার্তিকের 'ভেল' বা বর্শা জ্ঞানের প্রতীক, যা অজ্ঞানতার অন্ধকারকে বিনাশ করে।
কীভাবে পালন করা হয় এই দিনটি?
স্কন্দ ষষ্ঠীর দিন ভক্তরা সারাদিন উপবাস রাখেন। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের তিরুচেন্দুর মন্দিরে এই দিনে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে। ভগবান কার্তিককে নীল ফুল, লাল চন্দন এবং ময়ূর পালক দিয়ে সাজানো হয়। এদিন অনেক ভক্ত 'স্কন্দ ষষ্ঠী কবচম্' পাঠ করেন, যা নেতিবাচক শক্তি থেকে সুরক্ষা দেয় বলে পরিচিত।
স্কন্দ ষষ্ঠী কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি আমাদের জীবনের অন্তরের অসুর বা মন্দ রিপুগুলোকে জয় করার অনুপ্রেরণা দেয়। দেবসেনাপতি কার্তিকের এই আরাধনা আমাদের শেখায় যে, ধৈর্য এবং সাহসের সাথে লড়াই করলে ন্যায়ের জয় অনিবার্য। বর্তমানের অস্থির সময়ে মানসিক শান্তি ও শক্তির জন্য স্কন্দ ষষ্ঠীর মাহাত্ম্য আগের চেয়েও অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


