আজ ভারতে কখন গ্রহণ? আগুনের আংটি দেখা যাবে কি? জেনে নিন সূতক কালের প্রভাব কতটা পড়বে
এই গ্রহণটি একটি বিশেষ কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি 'অ্যানুলার সোলার ইক্লিপস' বা বলয়গ্রাস গ্রহণ। যখন চাঁদ সূর্যকে এমনভাবে ঢেকে দেয় যে সূর্যের বাইরের অংশটি একটি উজ্জ্বল আগুনের আংটির মতো দেখায়, তখনই তাকে 'রিং অফ ফায়ার' বলা হয়।
এই বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে মহাকাশপ্রেমী এবং জ্যোতিষশাস্ত্রীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। আজ, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার মহাকাশে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের ভাষায় এটি একটি 'বলয়গ্রাস' সূর্যগ্রহণ বা 'রিং অফ ফায়ার' (Ring of Fire)।

২০২৬ সালের এই বিশেষ সূর্যগ্রহণ, এর সূতক কাল এবং ধর্মীয় বিধি জেনে নিন।
আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬; ফাল্গুন মাসের অমাবস্যা তিথিতে বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হচ্ছে। এই গ্রহণটি একটি বিশেষ কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি 'অ্যানুলার সোলার ইক্লিপস' বা বলয়গ্রাস গ্রহণ। যখন চাঁদ সূর্যকে এমনভাবে ঢেকে দেয় যে সূর্যের বাইরের অংশটি একটি উজ্জ্বল আগুনের আংটির মতো দেখায়, তখনই তাকে 'রিং অফ ফায়ার' বলা হয়।
গ্রহণের সময় ও ভৌগোলিক অবস্থান
ভারতীয় সময় অনুযায়ী, এই সূর্যগ্রহণ দুপুর ১২:১৫ মিনিটে শুরু হয়েছে এবং এটি বিকেল ০৪:৪০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হবে। এই ৪ ঘণ্টা ২৫ মিনিটের দীর্ঘ গ্রহণকাল জ্যোতিষশাস্ত্রের বিচারে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
এই গ্রহণটি মূলত দক্ষিণ আমেরিকা, অ্যান্টার্কটিকা এবং আটলান্টিক মহাসাগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। ভারতে এটি আংশিক বা পরোক্ষ প্রভাব ফেললেও, জ্যোতিষ মতে এর মহাজাগতিক স্পন্দন বা 'ভাইব্রেশন' বিশ্বজুড়ে অনুভূত হবে।
সূতক কাল এবং ধর্মীয় নিয়ম
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সূর্যগ্রহণের ১২ ঘণ্টা আগে থেকে 'সূতক কাল' শুরু হয়। সূতক কাল হলো এমন এক সময় যখন প্রকৃতিতে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
- সূতক শুরু: ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১২:১৫ মিনিট থেকে সূতক কাল কার্যকর হয়েছে।
- নিষেধাজ্ঞা: এই সময়ে মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা হয়। রান্নাবান্না, ভোজন এবং নতুন কোনো শুভ কাজ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয় শাস্ত্র। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের এই সময় সূঁচ, কাঁচি বা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়।
জ্যোতিষশাস্ত্রীয় প্রভাব ও প্রতিকার
২০২৬ সালের এই প্রথম সূর্যগ্রহণ কুম্ভ রাশিতে এবং শতভিষা নক্ষত্রে ঘটছে। এর ফলে কুম্ভ, সিংহ এবং বৃশ্চিক রাশির জাতকদের কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। গ্রহণের অশুভ প্রভাব থেকে বাঁচতে জনসত্তা-র প্রতিবেদনে কিছু বিশেষ প্রতিকারের কথা বলা হয়েছে:
- ১. মন্ত্র জপ: গ্রহণ চলাকালীন 'ওঁ নমঃ শিবায়' বা 'গায়ত্রী মন্ত্র' জপ করা অত্যন্ত ফলদায়ক।
- ২. গঙ্গাজল ব্যবহার: গ্রহণের সূতক কাটার জন্য গ্রহণ শেষে সারা ঘরে গঙ্গাজল ছিটানো উচিত।
- ৩. দান-ধ্যান: গ্রহণের পর চাল, ডাল, গুড় বা তামা দান করলে গ্রহণজনিত গ্রহদোষ খণ্ডন হয়।
বৈজ্ঞানিক সতর্কতা
বিজ্ঞানীরা বারবার সতর্ক করেছেন যে, সূর্যগ্রহণ চলাকালীন খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো উচিত নয়। এটি চোখের রেটিনার অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে। গ্রহণ দেখার জন্য সর্বদা সোলার ফিল্টার চশমা বা পিনহোল প্রজেক্টর ব্যবহার করা শ্রেয়।
E-Paper











