নিয়ম মেনে ঘরে ময়ূরের পালক আর শঙ্খ রাখলে বদলাতে পারে জীবন, আবার সামান্য ভুলেই বিরাট ক্ষতি! কী বলছে বাস্তুশাস্ত্র
বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, আমাদের চারপাশের প্রতিটি বস্তুর একটি নির্দিষ্ট শক্তি বা 'এনার্জি' রয়েছে। যদি আমরা ঘরে এমন কিছু রাখি যা ইতিবাচকতা ছড়ায়, তবে জীবন সুখ ও শান্তিতে ভরে ওঠে।
হিন্দু ধর্মে শঙ্খ এবং ময়ূরের পালক রাখা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এই দুটি জিনিস কেবল ধর্মীয় প্রতীক নয়, বরং বাস্তুশাস্ত্রে এগুলি ইতিবাচক শক্তি আকর্ষণ করার শক্তিশালী মাধ্যম। তবে এগুলি ঘরে রাখার কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে; ভুল পদ্ধতিতে রাখলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

শঙ্খ এবং ময়ূরের পালক ঘরে রাখার সঠিক নিয়ম ও বাস্তু টিপস জেনে নিন।
বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, আমাদের চারপাশের প্রতিটি বস্তুর একটি নির্দিষ্ট শক্তি বা 'এনার্জি' রয়েছে। যদি আমরা ঘরে এমন কিছু রাখি যা ইতিবাচকতা ছড়ায়, তবে জীবন সুখ ও শান্তিতে ভরে ওঠে। শঙ্খ এবং ময়ূরের পালক তেমনই দুটি পবিত্র বস্তু। শঙ্খকে মা লক্ষ্মীর প্রতীক মনে করা হয়, অন্যদিকে ময়ূরের পালক ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অত্যন্ত প্রিয়।
ঘরে শঙ্খ রাখার সঠিক নিয়ম ও উপকারিতা
শঙ্খ সমুদ্র মন্থনের সময় উৎপন্ন হওয়া ১৪টি রত্নের মধ্যে একটি। বাস্তুশাস্ত্র মতে, যেখানে শঙ্খ থাকে সেখানে মা লক্ষ্মী স্বয়ং বিরাজ করেন।
১. স্থাপনের দিক: শঙ্খ সবসময় বাড়ির উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিকে (ঈশান কোণ) রাখা উচিত। এটি মা লক্ষ্মীর দিক হিসেবে পরিচিত। শঙ্খ রাখার আগে একটি পিতল বা তামার পাত্রে পরিষ্কার জল দিয়ে তার ওপর রাখা ভালো।
২. দুটি শঙ্খের নিয়ম: বাস্তুশাস্ত্রে বলা হয়েছে, পুজোর ঘরে কখনোই দুটি শঙ্খ একসঙ্গে রাখা উচিত নয়। বিশেষ করে দুটি শঙ্খ দিয়ে আরতি বা পুজো করা বর্জনীয়। একটি শঙ্খ পুজোর জন্য এবং অন্যটি কেবল সাজিয়ে রাখার বা জল ছিটানোর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩. শঙ্খের মুখ: শঙ্খের খোলা মুখটি সর্বদা উপরের দিকে বা উত্তর দিকে মুখ করে রাখা উচিত। এতে ঘরে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বজায় থাকে।
৪. শুদ্ধিকরণ: প্রতিদিন পুজোর সময় শঙ্খ বাজানো উচিত। এতে উৎপন্ন ধ্বনি বা কম্পন ঘরের নেতিবাচক শক্তি ও অশুভ ছায়া দূর করে।
ময়ূরের পালক রাখার বাস্তু বিধি
ময়ূরের পালক কেবল শ্রীকৃষ্ণের মুকুটের শোভা নয়, এটি নেতিবাচক দৃষ্টি বা 'নজর দোষ' কাটাতেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
১. রাহুর দোষ কাটানো: বাস্তু মতে, ময়ূরের পালক ঘরে রাখলে রাহু ও কেতুর অশুভ প্রভাব দূর হয়। ঘরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে (অগ্নি কোণ) ময়ূরের পালক রাখলে আর্থিক সমৃদ্ধি আসে।
২. শয়নকক্ষে ময়ূরের পালক: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ থাকলে বা সম্পর্কের টানাপোড়েন চললে শয়নকক্ষের দেওয়ালে দুটি ময়ূরের পালক লাগানো যেতে পারে। এটি পারস্পরিক ভালোবাসা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি করে।
৩. বাচ্চাদের পড়ার টেবিল: শিশুদের একাগ্রতা বাড়াতে তাদের পড়ার টেবিলে বা বইয়ের ভেতর একটি ময়ূরের পালক রাখা অত্যন্ত শুভ। এটি জ্ঞানের দেবী সরস্বতীরও প্রতীক।
৪. প্রবেশদ্বার: বাড়ির প্রধান দরজায় তিনটি ময়ূরের পালক একত্রিত করে রাখলে ঘরে নেতিবাচক শক্তি প্রবেশ করতে পারে না। এটি পরিবারকে দুর্ঘটনা বা বড় কোনো সংকট থেকে রক্ষা করে।
যে ভুলগুলো একদম করবেন না
- শঙ্খকে কখনোই সরাসরি মেঝের ওপর রাখবেন না।
- ময়ূরের পালক ছিঁড়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে তা সরিয়ে নতুন পালক রাখুন। নোংরা বা ভাঙা পালক নেতিবাচকতা ডেকে আনে।
- শঙ্খ বা ময়ূরের পালক কখনোই দক্ষিণ দিকে রাখবেন না, কারণ এটি বাস্তু মতে অশুভ।
শঙ্খ এবং ময়ূরের পালক ঘরে রাখা যেমন ভাগ্যের সহায়ক, তেমনই এগুলির পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও জরুরি। নিয়ম মেনে এগুলি স্থাপন করলে আপনার জীবনে কেবল অর্থনৈতিক উন্নতিই হবে না, বরং মানসিক শান্তি ও পারিবারিক সুখ সুনিশ্চিত হবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


