East Bengal ACL2 Points Table: প্রথমার্ধেই চারটি গোল দিতে পারত। ইরাকের দল আল শোরতাকে পুরোপুরি ছিঁড়ে খাচ্ছিল। গতির সঙ্গে কার্যত পেরে উঠছিল না। কিন্তু সেইসব সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে না পারার খেসারত গুনতে হল ইস্টবেঙ্গলকে। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু’র গ্রুপ ডি'র ম্যাচে দু'বার এগিয়ে গিয়েও ২-৩ গোলে হেরে গেল লাল-হলুদ ব্রিগেড। দ্বিতীয়ার্ধে ৫১ মিনিট থেকে ৫৩ মিনিটের খারাপ স্পেলে সব শেষ হয়ে গেল। তারপরও সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। তবে সেইসবের মধ্যে মাঝেমধ্যেই লাল-হলুদ ডিফেন্সের যা ভয়াবহ হাল হল, তাতে রাতের ঘুম উড়ে যেতে পারে ইস্টবেঙ্গলের হেড কোচ আন্তোনিও হাবাস লোপেজের।
এসিএল ২-র ইস্টবেঙ্গল গ্রুপের পয়েন্ট তালিকা

১) আল শোরতা (ইরাক): ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট।
২) ইস্টবেঙ্গল (ভারত): ২ ম্যাচে পয়েন্ট।
৩) আল-হুসেইন (জর্ডন): ১ ম্যাচে ১ পয়েন্ট।
৪) আল-সিব ক্লাব (ওমান): ১ ম্যাচে ০ পয়েন্ট।
আরও পড়ুন: India on Ladakh Issue: 'লাদাখ ভারতেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ!' চিনের আপত্তি উড়িয়ে কড়া বার্তা ভারতের
প্রথমার্ধে ইস্টবঙ্গল ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও গোল
৫ মিনিট: শুরুটা আক্রমণাত্মক ছন্দে করেন আন্তোনিও হাবাস লোপেজ। ডেভিড এবং এডমুন্ডকে সামনে রেখে ৪-৪-২ ফর্মেশনে দল সাজান। অর্থাৎ বার্তাটা স্পষ্ট ছিল, খাতায়কলমে ইরাকি দল এগিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল ছাড়বে না।
৯ মিনিট: দুর্দান্ত হাফ-টার্নে অসাধারণ গোল ডেভিডের। ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে গেল ১-০ গোলে। আল শোরতার বক্সের সামনে থেকে হার্দিক ডানদিকে পাস দেন রামিরেজকে। যিনি বলটা ফিরিয়ে দেন হার্দিকের কাছে। তিনি বল বাড়ান ডেভিডকে। যিনি দুই আল-শোরতা ডিফেন্ডারের মাঝে দাঁড়িয়ে টার্ন করার সময় ডানপায়ে বলটা টাচ করেন। তারপর ঘুরে গিয়ে বাঁ পা দিয়ে শট মারেন। বলটা জড়িয়ে যায় ইস্টবেঙ্গলের গোল। অসামান্য গোল। ইস্টবেঙ্গল ১ - ০ আল শোরতা।
১৫ মিনিট: বাজে গোল হজম করল ইস্টবেঙ্গল। একটা নির্বিষ ক্রস থেকে একটা নির্বিষ হেডারে গোল করে গেল ইরাকের দল। ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্স যেন মনসংযোগ হারিয়ে ফেলেছিল। সেই সুযোগে লাল-হলুদ ডিফেন্ডারদের মধ্যে দিয়ে গোল করে গেলেন আহমেদ। একেবারেই খুশি নন ইস্টবেঙ্গল কোচ। খুশি হওয়ার কথাও নয়। ইস্টবেঙ্গল ১ - ১ আল শোরতা।
{{/usCountry}}১৫ মিনিট: বাজে গোল হজম করল ইস্টবেঙ্গল। একটা নির্বিষ ক্রস থেকে একটা নির্বিষ হেডারে গোল করে গেল ইরাকের দল। ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্স যেন মনসংযোগ হারিয়ে ফেলেছিল। সেই সুযোগে লাল-হলুদ ডিফেন্ডারদের মধ্যে দিয়ে গোল করে গেলেন আহমেদ। একেবারেই খুশি নন ইস্টবেঙ্গল কোচ। খুশি হওয়ার কথাও নয়। ইস্টবেঙ্গল ১ - ১ আল শোরতা।
{{/usCountry}}২০ মিনিট: বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে লালচুংনুঙ্গার দুর্দান্ত সোয়ার্ভিং শট। আল শোরতার বিশ্বকাপার গোলকিপার বলের অভিমুখ বুঝতে না পেরে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান। প্রথমে নিজের ডানদিকে যান। তারপর বাঁ-দিকে ঝুঁকে কোনওক্রমে বাঁ-হাত দিয়ে সেভ করেন। ভালো সেভ। কিন্তু ফিরতি বল থেকে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ডেভিড।
৩০ মিনিট: রশিদের থ্রু গোল। একটুর জন্য অফসাইড ডেভিড। মাঝমাঠে বলটা ভালো পেয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন রশিদ। যতক্ষণে বাঁ-দিকে ডেভিডকে মাইনাস করেন, ততক্ষণে তিনি অফসাইড হয়ে যান। বলটা আর একটু আগে বাড়ালে বিপদ হতে পারত।
৩৯ মিনিট: গোওওওওওওওওওও ডেভিডের। বাঁ-পায়ে রামিরেজের ফ্রি-কিক। খুব মারাত্মক কিছু ছিল না। কিন্তু ইরাকের দলের বিশ্বকাপার আংশিক প্রতিহত করেন। কোনওক্রমে বলটা সামনের দিকে ঠেলে দেন। সেই বলটা কর্নার লাইনের সামনে দুর্দান্ত ব্যাকহিল করেন রশিদ। ওঁৎ পেতে থাকা শিকারীর মতো আল শোরতার জালে দ্বিতীয়বার বল জড়িয়ে দেন ডেভিড। প্রাথমিক মুভমেন্টটা তাঁর কারণেই শুরু হয়েছিল। তাঁর কারণেই ফ্রি-কিক পায় ইস্টবেঙ্গল। হলুদ কার্ড দেখানো হয় আবদুল মৌনমৌনিকে। ইস্টবেঙ্গল ২ - ১ আল শোরতা।
৪৩ মিনিট: হ্যাটট্রিকের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া ডেভিডের। বক্সের মধ্যে থেকে শট নিলেন। কিন্তু ক্রসবারের সামান্য উপর দিয়ে উড়ে গেল বলটা। একটুর জন্য হ্যাটট্রিক হল না।
৪৪ মিনিট: ইস্টবেঙ্গলের গতির কাছে নাকানি-চোবানি খাচ্ছে ইরাকের দল। পরপর ফাউল করছে। আবারও হলুদ কার্ড।
৪৫ মিনিট: এই গোলটা কেউ মিস করে ---- মাথায় হাত ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের। ডানদিক থেকে দুর্দান্ত ক্রস বাড়ান হার্দিক ভাট। ওপেন নেটের সামনে ছিলেন এডমুন্ড। বলটা ঠিকমতো শটটা নিতে পারেননি। শট নেওয়ার সময় পড়ে যাচ্ছিলেন। তার ফলে পায়ের সঙ্গে বলের ঠিকমতো সংযোগ হয়নি।
প্রথমার্ধ শেষ: প্রথমার্ধের শেষলগ্নে ইস্টবেঙ্গল ছিঁড়ে খেল ইরাকের দলকে। একের পর এক আক্রমণ তুলতে থাকে লাল-হলুদ ব্রিগেড। এডমুন্ডের বাঁক খাওয়ানো শট, আনোয়ার আলির হেডার থেকে ডেভিডের শট - ইরাকের দলের নাভিঃশ্বাস তুলে দেয় ইস্টবেঙ্গল। কোনওক্রমে নিজেদের দুর্গরক্ষা করল ইরাকের দল। প্রথমার্ধের শেষে খেলার ফল ইস্টবেঙ্গল ২ - ১ আল শোরতা।
দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবঙ্গল ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও গোল
৪৯ মিনিট: রশিদের জন্য বক্সের ভিতরে বলটা চামচের মতো তুলে দেন রামিরেজ। ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়কের প্রথম টাচটা ভালো ছিল। কিন্তু কিছুটা দেরি করে ফেললেন। ফলে বিপদ তৈরি করতে পারলেন না। শট নেওয়ার জায়গাই পেলেন না। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইতিবাচক ফুটবল ইস্টবেঙ্গলের। ভালো মুভমেন্ট।
৫১ মিনিট: গোল হজম করল ইস্টবেঙ্গল। গোলের সামনে থেকে ডান পায়ে শট মারেন হুসেন আলি। গোলটা খেয়ে হতাশই হবে লাল-হলুদ শিবির। ইস্টবেঙ্গল ২ -২ আল শোরতা।
৫৩ মিনিট: ২ মিনিটে ২ গোল খেয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল। হঠাৎ করে যেন ভেঙে পড়ল ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্স। পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নেমে ক্রিশ্চিয়ান বারকো ভালো কর্নার নেন। কিঙ্গসলে কুকু সেখান থেকে হেডারে গোল করে যান। কার্যত আনমার্কড হয়ে গোল করে গেলেন। ইস্টবেঙ্গল ২ -৩ আল শোরতা।
৫৫ মিনিট: রশিদকে চেনা ছন্দে লাগছে না। ভালো খেলছেন। কিন্তু তারপর সেটার পরিপূরক খেলতে পারছেন না। এবারও তাই হল। দেরি করে ফেললেন। তারপরও গোলমুখী শট ডেভিডের। লাভ হল না। ইস্টবেঙ্গলও ছন্দ হারিয়ে ফেলেছিল। প্রথমার্ধ যেভাবে শেষ করেছিল, দ্বিতীয়ার্ধে তার উল্টো ছবি দেখা গেল।
৬৭ মিনিট: উফ!!! একচুলের জন্য গোল পেল না ইস্টবেঙ্গল। বক্সের বাইরে থেকে শট নেন রামিরেজ। তা সেভ হয়ে যায়। বলটা এডমুন্ডের পায়ে পড়ে। গোলের সামনে থেকে বাঁ-পায়ে শট নেন। কিছুটা অফ ব্যালেন্স ছিলেন। তাও শটটা ভালো ছিল। কিন্তু বলের সামনে নিজেকে ছুড়ে দিয়ে বাঁচিয়ে দেন ইরাকের দলের বিশ্বকাপার গোলকিপার। কিন্তু বলটা গোলের সামনেই বাউন্স করে। একটুর জন্য গোললাইন ক্রস করেনি। শেষপর্যন্ত বল বের করে দেয় ইরাকের দল। নিজের দলের ভাগ্যকে বিশ্বাস করতে পারছেন না হাবাস। ইস্টবেঙ্গল ২ -৩ আল শোরতা।
৭৬ মিনিট: লাল কার্ড মৌমিনিকে। জয় গুপ্তাকে পিছন থেকে এসে বাজে ট্যাকল। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। বাকি সময়টা ১০ জনে খেলতে হবে ইরাকের দলকে।
৮১ মিনিট: ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সে এটা কী ভয়াবহ হাল!!!!! একা বল নিয়ে ইস্টবেঙ্গলের গোলের সামনেই চলে আসেন আহমেদ ইয়াহিয়া। আনোয়ার-সহ পুরো ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্স হামাগুড়ি খেতে থাকে। শেষপর্যন্ত গোলের একেবারে সামনে থেকে বলটা তেকাঠিতে রাখতে পারেননি। ভয়ংকর হাল ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সের।
৮৯ মিনিট: দুর্দান্ত ফিনিশ লিওনেলের। না!! অফসাইডের পতাকা তুলে দিলেন লাইন্সম্যান। তবে অফসাইড কি ছিল? দেখে মনে হচ্ছে না। তবে সাহসী ইস্টবেঙ্গল সেটুকু ভাগ্যের সহায়তা পেতেই পারে।
ফুল-টাইমের বাঁশি বাজল। হতাশ হবে ইস্টবেঙ্গল। ২-৩ গোলে হেরে গেল।