Dharmendra Pradhan on anti-India power: চাপ ক্রমশ বাড়ছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত উত্তাল হয়ে উঠছিল ছাত্র আন্দোলনে। সেই আবহে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেও পদত্যাগের চারটি কারণ ব্যাখ্যা করলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পাঠানো ইস্তফাপত্র বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা বলেছেন, ‘যন্তর মন্তর ও সারা দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটাকে কাজে লাগিয়ে যাতে কোনও দেশ-বিরোধী শক্তি ফায়দা লুটতে না পারে, জাতীয় ঐক্য অটুট থাকে, কোনও ভারতীয় পড়ুয়া ভবিষ্যৎ যাতে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যাতে পড়াশোনায় সময় দিয়ে নিজেদের কেরিয়ার গঠনে মনোযোগ দিতে পারে- সেজন্যই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’
'জগন্নাথদেবের আশীর্বাদে….', কী বললেন ধর্মেন্দ্র প্রধান?

সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘জাতির সেবা করাই আমার জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার; আমি সর্বদা এই ব্রতে নিবেদিত থাকব। জগন্নাথদেবের আশীর্বাদে, ভবিষ্যতেও ভারতমাতা, ওড়িশার জনগণ এবং দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমি সম্ভাব্য সব উপায়ে নিজেকে নিয়োজিত করে যাব।’
ধর্মেন্দ্র প্রধানের প্রশংসায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী
আর পদত্যাগী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কিরেন রিজিজু। তাঁর ‘প্রকৃত নেতৃত্বের’ প্রতি কুর্নিশ জানিয়ে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, ‘মন্ত্রিসভায় তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুবাদে আমি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আন্তরিক নিষ্ঠা এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে লাখ-লাখ শিক্ষার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি সামনে থেকে প্রত্যক্ষ করেছি। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্রের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজন অসামান্য অধ্যবসায়; তিনি সাহসিকতা ও সুষ্পষ্ট দূরদর্শিতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন।’
সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘ধর্মেন্দ্রজি, আপনার নিরলস সেবা, সংস্কারের প্রতি নিষ্ঠা এবং একটি শক্তিশালী ভারত গঠনে আপনার অবদানের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। একই রকম দৃঢ় প্রত্যয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের সেবা চালিয়ে যাওয়ার পথে আপনার জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা।’
কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা বিরোধীদের
যদিও পদত্যাগী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেছেন বিরোধীরা। সমাজবাদী পার্টির সাংসদ তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব বলেছেন, ‘এটি নতুন প্রজন্মের জন্য বড়সড় এতটা জয়। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা—সবকিছু নিয়েই সরকারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বর্তমান যুগে ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া এবং রাজপথের মধ্যে দিয়ে ছড়িয়ে পড়া তরুণ প্রজন্মের এই আন্দোলন শেষপর্যন্ত বিশ্বের বৃহত্তম দলভারতীয় জনতা পার্টিকে নতিস্বীকার করতে বাধ্য করেছে।’