Bengal Tourism Policy: অপরিকল্পিত পর্যটন একদিকে যেমন পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করছে, ঠিক তেমনই তা দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় অর্থনীতির ওপরও মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। এই জোড়া ফলার ধাক্কা সামলাতে এবার নড়েচড়ে বসল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের পরিবেশ-সংবেদনশীল পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ‘ওভার-ট্যুরিজম’ বা অতিরিক্ত পর্যটকের ভিড় রুখতে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট এবং বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চলেছে রাজ্য পর্যটন দফতর।

শুক্রবার বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি পর্যটন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে পর্যটন মন্ত্রী এই বিষয়ে সরকারের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, পর্যটন কেন্দ্রের পরিকাঠামোগত ক্ষমতা এবং ধারণ ক্ষমতা খতিয়ে দেখে তবেই ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও পর্যটকদের আনাগোনার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
দার্জিলিং, লাটাগুড়ির কথা উল্লেখ পর্যটন মন্ত্রীর
তিনি জানান, উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত ভিড় এবং অপরিকল্পিত পরিকাঠামোর জেরে তীব্র যানজট ও পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে শুরু করেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি দার্জিলিং, কালিম্পং এবং ডুয়ার্সের লাটাগুড়ির কথা উল্লেখ করেন। আগে যেখানে শিলিগুড়ি থেকে পাহাড়ে পৌঁছাতে নির্দিষ্ট কিছু সময় লাগত, এখন ট্রাফিক জ্যামের কারণে সেই সময় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।
কী কী বললেন পর্যটন মন্ত্রী?
মন্ত্রীর কথায়, ‘পর্যটন ক্ষেত্র থেকে হয়তো সাময়িক আর্থিক লাভ পাওয়া যায়। কিন্তু তা যদি কোনও নিয়ম-শৃঙ্খল ছাড়া অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে, সেক্ষেত্রে পরিবেশ ও অর্থনীতি দুইয়ের ওপরই তার মারাত্মক দীর্ঘমেয়াদি কুপ্রভাব পড়ে। আমরা কোনও অবস্থায় বাংলার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হতে দিতে পারি না।’
{{/usCountry}}মন্ত্রীর কথায়, ‘পর্যটন ক্ষেত্র থেকে হয়তো সাময়িক আর্থিক লাভ পাওয়া যায়। কিন্তু তা যদি কোনও নিয়ম-শৃঙ্খল ছাড়া অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে, সেক্ষেত্রে পরিবেশ ও অর্থনীতি দুইয়ের ওপরই তার মারাত্মক দীর্ঘমেয়াদি কুপ্রভাব পড়ে। আমরা কোনও অবস্থায় বাংলার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হতে দিতে পারি না।’
{{/usCountry}}IIT খড়্গপুরের সঙ্গে হাত মেলাল রাজ্য সরকার
রাজ্য পর্যটন দফতর সূত্রের খবর, আগামী মাসেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি নতুন সমন্বিত পর্যটন নীতি প্রকাশ করতে চলেছে। এই নীতির মূল ভিত্তি হবে খামখেয়ালিপনা নয়, বরং সঠিক পরিসংখ্যান বা ডেটা। কোনও পর্যটন কেন্দ্রে একসঙ্গে ঠিক কতজন পর্যটক থাকতে পারেন, তার একটি পরিকাঠামোগত ম্যাপিং করা হবে।
এই লক্ষ্যে রাজ্য সরকারকে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগতভাবে সাহায্য করছে আইআইটি খড়্গপুর। আইআইটি খড়্গপুরের বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে পর্যটকদের আচরণ, ভ্রমণ পছন্দ এবং বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার ওপর একটি বিশেষ সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। এর ফলে সরকার অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং বাস্তব চাহিদার নিরিখে পর্যটন পণ্য ও উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি করতে পারবে। এর ফলে সরকারি বা বেসরকারি কোনও সম্পদই অব্যবহৃত পড়ে থাকবে না।