Kunal on Mamata Slap Case: মেজাজ হারিয়ে এক কর্মীর গালে চড় মেরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আরও কয়েকজন চাঁটি খেয়েছেন পিঠে। তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মমতাকে নিশানা করেছে বিজেপি। আর সেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলে পালটা আক্রমণ শানালেন বেলেঘাটার বিধায়ক তথা কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি দাবি করলেন, এক সন্তানের চিকিৎসার জন্য ‘মা’ যদি অপর এক সন্তানকে ধাক্কা মারেন, তাতে আপত্তির কিছু নেই। অভিভাবক হিসেবে মমতা সেই কাজটা করতেই পারেন বলে দাবি করেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক।
‘আপনাদের জেনে রাখা উচিত, তিনি মানবিক’

কুণালের কথায়, 'আপনাদের দু'একটি চ্যানেল একটু আগে এখানে দেখিয়েছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের কোনও কর্মীকে ধাক্কা দিয়েছেন বা চড় মেরেছেন। আপনাদের জেনে রাখা উচিত, তিনি মানবিক। অভিভাবকের ভূমিকা পালন করছিলেন। সামনে ভিড় হয়ে গিয়েছিল। আপনাদের ভিড় ছিল। মিডিয়ার ভিড় ছিল। কর্মীদের ভিড় ছিল। আর ভিতরে একের পর এক গুরুতর জখম-আহত কর্মীরা পড়েছিলেন।'
'আপনাদের খবরের খোরাক হতে পারে কখনও?’
তিনি আরও বলেন, ‘গাড়ি এনে তাঁদের হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা (করছিলেন মমতা)। সেজন্য সামনে থেকে দাঁড়িয়ে যদি কোনও মা তাঁর কোনও সন্তানকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে থাকে অন্য সন্তানের চিকিৎসার জন্য, সেটা আপনাদের খবরের খোরাক হতে পারে কখনও?’ সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি চাইছিলেন যে গাড়ির রাস্তাটা ফাঁকা করে দিয়ে গাড়িটা আসতে দিতে। (যাতে) পিছনে যাঁরা কাতরাচ্ছিলেন, তাঁদের তুলে দেবেন। তিনি যদি একজনকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে থাকেন, (তাহলে) বেশ করেছেন যে সরিয়েছেন।’
আবার ভিন্ন দাবি তৃণমূলের এক নেতার
{{/usCountry}}আবার ভিন্ন দাবি তৃণমূলের এক নেতার
{{/usCountry}}যদিও সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক তৃণমূল নেতা আবার দাবি করেছেন যে মমতা কাউকে চড় মারেননি। তিনি স্রেফ ভিড় সামলানোর চেষ্টা করছিলেন। ওই নেতার কথায়, 'ওখানে প্রচুর মানুষ ছিলেন। উনি নেহাতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিলেন। কাউকে চড় মারেননি। যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন।'
'বালিশ-চাটনরা নয়, আসল ভয়….'
তারইমধ্যে তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, বুধবার মিছিলে মিছিলের সময় কর্মী-সমর্থকদের উপরে হামলা চালিয়েছে বিজেপি। কুণাল বলেছেন, ‘একটা উপাসনা, একটা প্রিয়াঙ্কা, একটা দেবারতি, একটা নয়নিকা.. এরকম কয়েকটি মেয়েকে সামলাতে না পেরে দুর্যোধন, দুঃশাসনের মতো আচরণ করল কিছু আধদামড়া কাপুরুষ জানোয়ার। সঙ্গে পুলিশ ছিল বলে এত বীরত্ব। নিরস্ত্র ছেলেগুলোকে মারল।
সেইসঙ্গে তিনি বলেন, 'উপাসনার বাঘের বাচ্চার মতো লড়াইকে সাধুবাদ জানাই। ওর বাইক ঘিরে অত অসভ্যতাও ওকে দমাতে পারেনি। তৃণমূলের ছাত্র-যুবরা আমাদের লড়াইকে গর্বিত করেছে। বালিশ-চাটনরা নয়, বিজেপির ভয় আসলে যে কোনও বিরোধী পক্ষকে, সেই মুখোশটা আজ আবার খুলে গিয়েছে। যে দামড়াগুলো উপাসনাকে ঘিরে ঘেউ-ঘেউ করছিল, সেগুলো আগে উপাসনার পা ধোয়া জল খাক। মনে রাখুক, এই শিবিরের গায়ে একটা স্ট্যাম্প আছে- ব্র্যান্ড মমতা।’
যদিও তৃণমূলের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। পালটা বিজেপির দাবি, রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকতে পুরোটাই তৃণমূলের ‘খেলা’। নিজেদের নাটক সাজিয়েছে। কিন্তু স্ক্রিপ্ট খুব কাঁচা হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছে বিজেপি।