TMC leaders grill Abhishek: 'পুষ্পা' আগুন লাগালেন তৃণমূলেই! মমতার সামনে অভিষেকের উপরে ঝাল মেটালন বিধায়করা

TMC leaders grill Abhishek: 'পুষ্পা' জাহাঙ্গীর খান আগুন লাগিয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যেই। তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই অভিষেকের বিরুদ্ধে যেন ঝাল মেটালন ঘাসফুল শিবিরের বিধায়করা। যাঁরা অভিষেকের বিরুদ্ধে ‘ক্ষুব্ধ’ ছিলেন।

Published on: May 19, 2026 11:57 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

TMC leaders grill Abhishek: ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ঠিক দু'দিন আগে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের নাটকীয়ভাবে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত এবার আছড়ে পড়ল দলের অন্দরে। মঙ্গলবার কালীঘাটে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে আয়োজিত দলের বিধায়কদের এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ পেল। ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গীরের এই ‘ঝুঁকে’ পড়াকে কেন্দ্র করে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে অভিষেকের ঘনিষ্ঠ বৃত্তকে লক্ষ্য করে একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুললেন দলেরই বেশ কিছু বিধায়ক।

তৃণমূলের অন্দরেই চাপে পড়ে গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। (ফাইল ছবি, সৌজন্যে এপি)
তৃণমূলের অন্দরেই চাপে পড়ে গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। (ফাইল ছবি, সৌজন্যে এপি)

একই গাড়িতে তিন বিধায়ক: কালীঘাটে ক্ষোভের সুর

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে কলকাতার দু'জন এবং হাওড়ার একজন বিধায়ক ফলতার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দলের সাংগঠনিক কাজকর্ম নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে একটি বিশেষ দৃশ্য— এই তিন বিধায়কই এদিন একসঙ্গে একই গাড়িতে চেপে কালীঘাটের বৈঠকে যোগ দিতে আসেন।

আরও পড়ুন: WB Women Free Travel in Govt Buses: '০ টাকার টিকিট' থেকে বিশেষ কার্ড- বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াত নিয়ে গাইডলাইন

বৈঠকে প্রশ্ন তোলা হয়, ভোটগ্রহণের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে জাহাঙ্গীর যখন লড়াই ছেড়ে কার্যত বিজেপিকে ওয়াকওভার দিয়ে দিলেন, তার পরেও কেন তাঁর বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও শাস্তিমূলক বা শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত ব্যবস্থা নেওয়া হল না? এই বক্তব্যের তির সরাসরি ছিল অভিষেকের দিকে, কারণ ফালতা বিধানসভা কেন্দ্রটি তাঁরই ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত।

‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নেতা’, কটাক্ষ প্রবীণ বিধায়কদের

বৈঠকের আবহ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন দু'জন প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক জাহাঙ্গীরকে উপহাস করে ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নেতা’ বলে উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ডায়মন্ড হারবার যে একটি অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ইকোসিস্টেম বা সাংগঠনিক কাঠামো চলে, এটি ছিল তারই প্রতি এক তীব্র পরোক্ষ খোঁচা। বিধায়করা প্রশ্ন তোলেন, যে নেতার পিছনে দলের এত বড় সাংগঠনিক সমর্থন ছিল এবং যিনি প্রভাবশালী শীর্ষ নেতাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন, তিনি আচমকা এভাবে ময়দান ছেড়ে পালালেন কেন?

আরও পড়ুন: Abhishek Banerjee: 'মাথানত করব না!' পুরসভার 'বুলডোজার'-নোটিস নিয়ে লড়াই জারির বার্তা অভিষেকের

শ্মশানের সেই বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন

ফলতার এই আসনটি গত কয়েক সপ্তাহে এক বিশাল রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। গত ২৯ এপ্রিলের ভোট বাতিল হওয়ার পর এখানে পুনর্নির্বাচন ঘোষণা করা হয়। আগের দফার প্রচারের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জনসমক্ষে বলেছিলেন যে, জাহাঙ্গীর তাঁকে ওই এলাকায় একটি শ্মশান তৈরি করে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। এরপর ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর অভিষেক মন্তব্য করেছিলেন যে, ফলাফলের পর যাঁরা ‘হার্ট অ্যাটাকে’ মারা যাবেন, তাঁদের ওই শ্মশানে দাহ করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: WB Liquor Prices: মদের দাম বাড়ানো হোক বাংলায়! শুভেন্দু সরকারের কাছে জমা পড়ল প্রস্তাব, কী হবে?

দলীয় সূত্রে খবর, এদিনের বৈঠকে বিধায়করা সেই বিতর্কিত মন্তব্যটি টেনে এনে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘এখন সেই শ্মশান কে তৈরি করবে আর কার জন্যই বা তৈরি হবে?’ নির্বাচনের পর দলের রণকৌশল এবং নেতাদের ভূমিকা নিয়ে দলের একটি বড় অংশ যে ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ, এই মন্তব্যগুলি তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন প্রবীণ নেতারা।

  • Ayan Das
    ABOUT THE AUTHOR
    Ayan Das

    অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More