Mamata Banerjee FIR: ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এবং উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করা হল। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২০ মে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় সিং। তবে অভিযোগকারিণীর দাবি, পুলিশ প্রথমে এই হাই-প্রোফাইল মামলা গ্রহণ করতে চায়নি। দফায়-দফায় থানায় যোগাযোগের পরে অবশেষে পুলিশ এফআইআর দায়ের করতে বাধ্য হয় বলে দাবি করেছেন আইনজীবী। আর তারপর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫১ ধারা (অপরাধমূলক ভীতিপ্রদর্শন), ৩৫২ ধারা (শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করা), ৩৫৩ ধারা (ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর বিবৃতি ছড়ানো), ২৯৯ ধারার (কোনও ধর্মীয় বিশ্বাস বা ভাবাবেগকে ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষমূলকভাবে আঘাত করা) মতো বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
শিলিগুড়িতে FIR দায়ের করা হয়েছে

বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ি পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরে নিয়ম মেনেই শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এফআইআরে যে সমস্ত বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে, তার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেন ওই পুলিশকর্তা।
মমতার জোড়া মন্তব্য নিয়ে অভিযোগ দায়ের
আর অভিযোগপত্রে আইনজীবী দাবি করেছেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দুটি মন্তব্যে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। ২০২৫ সালে ইদের সময় একটি মন্তব্য করেছিলেন। আর অপর মন্তব্য করেছিলেন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে।
রিস্কে ছিলাম বলে মনে হচ্ছিল, দাবি আইনজীবীর
পরবর্তীতে সংবাদসংস্থা এএনআইয়ের সাক্ষাৎকারে ওই আইনজীবী বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) হিজাব পরে রেড রোডে ইদের নমাজে যোগ দিয়েছিলেন এবং পরে হিন্দুধর্মকে গন্ধা ধর্ম বলে অভিহিত করেছিলেন। আমি যখন সাইবার শাখায় এফআইআর করতে যাই, তখন তা গ্রহণ করা হয়নি। আমি শারীরিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছি এবং আমার অভিযোগ নথিভুক্ত না করে দিনের পর দিন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।'
{{/usCountry}}পরবর্তীতে সংবাদসংস্থা এএনআইয়ের সাক্ষাৎকারে ওই আইনজীবী বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) হিজাব পরে রেড রোডে ইদের নমাজে যোগ দিয়েছিলেন এবং পরে হিন্দুধর্মকে গন্ধা ধর্ম বলে অভিহিত করেছিলেন। আমি যখন সাইবার শাখায় এফআইআর করতে যাই, তখন তা গ্রহণ করা হয়নি। আমি শারীরিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছি এবং আমার অভিযোগ নথিভুক্ত না করে দিনের পর দিন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।'
{{/usCountry}}সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পরে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধর্মতলায় হিন্দু ভোটারদের হুমকি দিয়ে আরও বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। একজন হিন্দু এবং একজন সমাজকর্মী হিসেবে আমার মনে হয়েছিল যে আমি বিপদের মধ্যে পড়ে গিয়েছি। আক্রমণের ভয় পাচ্ছিলাম। আমি উস্কানি, হিংসায় প্ররোচনা এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। প্রথমে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে অস্বীকার করলেও পরে আমার অভিযোগ গৃহীত হয় এবং ধারাগুলো প্রয়োগ করা হয়। আমি বিশ্বাস করি, বাকস্বাধীনতারও সীমা আছে।’