Indian Navy New Addition: সমুদ্রের 'গার্ডিয়ান'! নৌসেনার হাতে নয়া জাহাজ তুলে দিল কলকাতা, নামে জড়িয়ে ইতিহাস
Indian Navy New Addition: সমুদ্রের 'গার্ডিয়ান' ভারত মহাসাগরে চিনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের মাঝে ‘সংঘমিত্রা’-র অন্তর্ভুক্তি ভারতীয় নৌসেনার আত্মনির্ভরতা এবং রণকৌশলগত প্রস্তুতিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।
Indian Navy New Addition: ভারতীয় নৌসেনার রণকৌশল ও সামুদ্রিক সুরক্ষাকে আরও একধাপ মজবুত করে কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের হাত ধরে এক ঐতিহাসিক অধ্যায় সূচনা হল। বুধবার একটি অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে জলে ভাসল ভারতীয় নৌসেনার প্রথম নেক্সট জেনারেশন অফশোর প্যাট্রোলিং ভেসেল (NGOPV) বা পরবর্তী প্রজন্মের টহলদারি জাহাজ। যুদ্ধজাহাজটির নামকরণ করা হয়েছে ‘সংঘমিত্রা’।

নামের নেপথ্যে ইতিহাস ও ঐতিহ্য
‘সংঘমিত্রা’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল ‘জনগণের বন্ধু’। তবে এই নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের প্রাচীন ইতিহাস। সম্রাট অশোকের জ্যেষ্ঠ কন্যা সংঘমিত্রা খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে লর্ড বুদ্ধের অহিংসা ও শান্তির বাণী প্রচার করতে সমুদ্রপথে শ্রীলঙ্কায় পাড়ি দিয়েছিলেন। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও মৈত্রী বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই যুদ্ধজাহাজটিও যে আগামিদিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, সেই বার্তা দিতেই এই নামকরণ।
কেন এই নেক্সট জেনারেশন যুদ্ধজাহাজ অনন্য?
জিআরএসই ভারতীয় নৌসেনার জন্য মোট চারটি এই ধরণের এনজিওপিভি (NGOPV) তৈরি করছে, যার মধ্যে ‘সংঘমিত্রা’ প্রথম। আগের অফশোর প্যাট্রোলিং ভেসেলগুলির তুলনায় এগুলি আকারে অনেক বড় এবং আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন।
‘সংঘমিত্রা’-র কারিগরি ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য
১) দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ: জাহাজটি প্রায় ১১৩ মিটার দীর্ঘ এবং ১৪.৬ মিটার চওড়া।
২) ওজন (ডিসপ্লেসমেন্ট): এর মোট ওজন বা ডিসপ্লেসমেন্ট প্রায় ৩,০০০ টন।
৩) গতিবেগ: জাহাজটি সর্বোচ্চ ২৩ নট গতিবেগে ছুটতে সক্ষম।
৪) সহনশীলতা: ১৪ নট গতিতে চললে এটি একটানা ৮,৫০০ নটিক্যাল মাইল পথ অতিক্রম করতে পারে।
৫) ড্রাফট রিকোয়ারমেন্ট: মাত্র চার মিটারের ড্রাফট প্রয়োজন হওয়ায় এটি অগভীর উপকূলবর্তী এলাকাতেও অনায়াসে কাজ করতে পারবে।
যুদ্ধক্ষেত্রে ‘সংঘমিত্রা’-র বহুমুখী ভূমিকা
১) উপকূলীয় সুরক্ষা ও সম্পদ রক্ষা: ভারতের সমুদ্রসীমা এবং অফশোর সম্পত্তি রক্ষায় এটি প্রধান প্রাচীর হিসেবে কাজ করবে।
২) ভিবিএসএস (VBSS) অপারেশন: সমুদ্রে সন্দেহভাজন জাহাজে তল্লাশি, আরোহণ এবং তা বাজেয়াপ্ত করার কাজে এটি অত্যন্ত কার্যকরী।
৩) বিশেষ ও মাইন যুদ্ধ: স্পেশাল অপারেশন এবং মাইন ওয়ারফেয়ার মিশনে এটি নৌসেনাকে বাড়তি সুবিধা দেবে।
আরও পড়ুন: UAV-fired Missile: ড্রোন থেকে মিসাইল ছুড়ে গুঁড়িয়ে দেবে ‘টার্গেট’, ঘিরে ফেলবে মাটি-আকাশ, সফল ভারত
৪) জলদস্যু ও পাচার রোধ: ভারত মহাসাগরে জলদস্যুতা দূর করতে, অনুপ্রবেশ রুখতে এবং চোরাকারবারি ও জলদস্যুদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে এটি ব্যবহার করা হবে।
৫) মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলা: যুদ্ধ পরিস্থিতি ছাড়াও যেকোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়, উদ্ধারকাজ এবং মানবিক সহায়তায় জাহাজটি কাজ করবে। এটি প্রয়োজনে ‘ফ্লোটিং হসপিটাল’ বা হাসপাতাল জাহাজ এবং 'COMINT' (কমিউনিকেশন ইন্টেলিজেন্স) জাহাজ হিসেবেও কাজ করতে পারবে।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


