Indian Athletics Series 11 Medal List: সঞ্জীবনী-জাদুতে কলকাতায় ৫০০০ মিটারে মাত এশিয়ায় পদকজয়ী, জাতীয় মিটে জয়জয়কার বাংলার
Indian Athletics Series 11 Medal List: 'ইন্ডিয়ান অ্যাথলেটিক্স সিরিজ ১১'-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করলেন বাংলার ছেলেমেয়েরা। গোটা প্রতিযোগিতায় প্রতিপক্ষের ওপর কার্যত স্টিমরোলার চালিয়ে একের পর এক পদক নিজেদের ঝুলিতে পুরে নিয়েছে বাংলা।
Indian Athletics Series 11 Medal List: ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের আঙিনায় নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করল পশ্চিমবঙ্গ। দেশের সেরা ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড তারকাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত 'ইন্ডিয়ান অ্যাথলেটিক্স সিরিজ ১১'-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করলেন বাংলার ছেলেমেয়েরা। প্রতিযোগিতার শেষে বাংলার মোট পদক সংখ্যার পাশাপাশি আটটি স্বর্ণপদক জয় রাজ্য অ্যাথলেটিক্সের এক নতুন রূপরেখা তৈরি করল।তবে এই টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় চমক ছিল মহিলাদের ৫০০০ মিটার দৌড়। যেখানে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের রুপো জয়ী তারকা হরমিলন বাইন্সকে টেক্কা দিয়ে সোনা ছিনিয়ে নিলেন মহারাষ্ট্রের অ্যাথলিট।

সঞ্জীবনী যাদবের চমক, আশাভঙ্গ হরমিলনের
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই মহিলাদের ৫০০০ মিটার ইভেন্টে আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিলেন তারকা হরমি্লন বাইন্স। ট্র্যাকে নামার সময় তিনিই ছিলেন সোনা জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার। কিন্তু সমস্ত হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দিয়ে লাইমলাইট কেড়ে নেন মহারাষ্ট্রের সঞ্জীবনী বাপুরাও যাদব। রেসের শুরু থেকেই নিজের গতি ও স্ট্যামিনার এক চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখেন সঞ্জীবনী। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৬ মিনিট ৪৭.১৬ সেকেন্ডে রেস শেষ করে সোনা পকেটে পোরেন তিনি। অন্যদিকে, প্রচুর প্রত্যাশা থাকা সত্ত্বেও হরমি্লন বাইন্সকে এই ইভেন্টে রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
ট্র্যাক থেকে ফিল্ড: সর্বত্রই চলল বাংলার আধিপত্য
জাতীয় স্তরের একাধিক বড় নাম এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও দিনটি ছিল পুরোপুরি বাংলার অ্যাথলিটদের। অনূর্ধ্ব-২০ বিভাগ থেকে শুরু করে সিনিয়র বিভাগ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলার ক্রীড়াবিদদের মধ্যে এক অভাবনীয় ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। দীর্ঘ লাফ, জ্যাভেলিন থ্রো থেকে শুরু করে ১০০ ও ৪০০ মিটারের স্প্রিন্ট, সব জায়গাতেই উড়ল বাংলার বিজয় কেতন।
এক নজরে বাংলার পদকজয়ীদের তালিকা
১) মহিলাদের জ্যাভলিন থ্রো: তনুশ্রী মহলদার তাঁর অনবদ্য থ্রোয়ের সৌজন্যে সোনা জয় করেন।
২) পুরুষদের ৮০০ মিটার দৌড়: এই ইভেন্টটি ছিল পুরোপুরি বাংলার দখলে। সায়ন কর্মকার সোনা জেতেন। রুপো পান অর্ঘ্য ঘরামী। এছাড়া মহম্মদ মহাসিন আওয়াল এবং শুভজিৎ মণ্ডল যৌথভাবে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন।
৩) অনূর্ধ্ব-২০ মহিলাদের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট: এখানেও বাংলার মেয়েদের দাপট ছিল স্পষ্ট। অর্চিতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোনা, অনুষ্কা কর রুপো এবং রিয়া রায় ব্রোঞ্জ জিতে পোডিয়াম দখল করেন।
৪) অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট: এই ইভেন্টের দুটি ভিন্ন রেসেই সোনা আসে বাংলায়। রেস 'এ'-তে মোহিত মিস্ত্রি এবং রেস 'বি'-তে টিপন দাস স্বর্ণপদক জয় করেন।
৫) মহিলাদের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট: সিনিয়র বিভাগের এই হাই-ভোল্টেজ রেসে সোনা জেতেন বাংলার তমাশ্রী মিশ্র।
৬) অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রো: এই বিভাগে দেবাশিস বাংলার হয়ে সোনা জেতেন এবং নরুগোপাল বিশ্বাস ব্রোঞ্জ পদক পান।
পুরুষদের ৪০০ মিটার দৌড়: ১০০ মিটারের মতোই ৪০০ মিটারের দুটি রেসেই সোনা জেতে বাংলা। রেস 'এ'-তে সমীর রহমান এবং রেস 'বি'-তে বুদ্ধদেব বারুই চ্যাম্পিয়ন হন।
রুপো ও ব্রোঞ্জের অন্যান্য সাফল্য
সোনা ছাড়াও রুপো ও ব্রোঞ্জ মিলিয়ে বাংলার ঝুলিতে এসেছে আরও অনেক পদক। পুরুষদের ২০০ মিটারে ব্রোঞ্জ পান পীযূষ ঘোষ। অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষদের লং জাম্পে সঞ্জয় মণ্ডল রুপো এবং সোহন কুমার বিশ্বাস ব্রোঞ্জ জেতেন। অন্যদিকে, অনূর্ধ্ব-২০ মহিলাদের লং জাম্পে রুপো পান জিনিয়া মণ্ডল।
অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষদের ৮০০ মিটারে ব্রোঞ্জ পান মহম্মদ রাহুল এবং ৫০০০ মিটারে রুপো জেতেন বলরাম মণ্ডল। এছাড়া সিনিয়র বিভাগের মহিলাদের ৪০০ মিটারে অদিতি রুপো এবং মহিলাদের লং জাম্পে বিদিশা কুণ্ডু ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


