BJP-affiliated outfit on JU: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই হিন্দুত্ববাদী স্লোগান উঠল। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অরবিন্দ ভবনের কাছেই বিজেপি সমর্থিত কর্মচারী সংগঠনের তরফে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেই সমাবেশ থেকে দাবি করা হয় যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এখন থেকে 'রাষ্ট্রবাদীদের দখলে' চলে এসেছে। সেই রেশ ধরে 'অতি-বাম ছাত্র সংগঠন’-কে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পরে পদ্মশিবিরের সমর্থিত কর্মচারী সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক পলাশ মাজি বলেছেন, 'বামপন্থী মতাদর্শ থাকতে পারে। কিন্তু এখানে (যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়) দেশবিরোধী নকশাল-মাওবাদী বা অতি-বাম শক্তির কোনও স্থান নেই।'
‘জাতীয়তাবাদীরা এখন ক্যাম্পাসের হাল ধরেছে’, হুংকার ডানপন্থী সংগঠনের

সভা থেকে শুধুমাত্র বামপন্থীদের নয়, নিশানা করা হয়েছে বিদায়ী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকেও। বিজেপি সমর্থিত কর্মচারী সংগঠনের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, গত কয়েক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের চরম বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। এমনকী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের ‘রাজনৈতিক এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করার অভিযোগও তোলেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, উপাচার্যরা সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করতে গিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার অপূরণীয় ক্ষতি করেছেন। পলাশ মাজির কথায়, ‘এতদিন যাঁরা ক্যাম্পাসকে নিজেদের খাসতালুক মনে করতেন, তাঁদের দিন শেষ। জাতীয়তাবাদীরা এখন ক্যাম্পাসের হাল ধরেছে।’
জুটার পালটা দাবি: রাজনীতির ঊর্ধ্বে শিক্ষা
বিজেপি-ঘনিষ্ঠ সংগঠনের এই সমাবেশ এবং স্লোগান নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (জুটা)। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় সাফ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রাজনীতির চেয়ে অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষের জন্য বেশি পরিচিত হওয়া উচিত। তিনি পালটা বিজেপি-শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার খতিয়ান তুলে ধরেন।
কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা
{{/usCountry}}কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা
{{/usCountry}}পার্থপ্রতিম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের ‘রুসা প্রকল্পের অধীনে ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে মাত্র ৪৭ কোটি টাকা। বাকি টাকা কেন আটকে রাখা হয়েছে? এছাড়া সমস্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যাদবপুরকে কেন ইনস্টিটিউট অফ এমিনেন্স তকমা দেওয়া হল না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।’ তাঁর মতে, ফান্ডের অভাব এবং কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে কথা না বলে বিভাজনের রাজনীতি করা দুর্ভাগ্যজনক।
যদিও ডানপন্থী সংগঠনের তরফে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি যাদবপুরের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। বিষয়টি নিয়ে আপাতত বাম সংগঠনগুলির তরফেও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।