‘ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল পুরস্কার' পেলেন জলপাইগুড়ির নার্স গীতা কর্মকার। জলপাইগুড়ি থেকে তাঁর কর্মজীবনের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা দেশের সর্বোচ্চ সম্মানে স্বীকৃত। আন্তর্জাতিক নার্স দিবসে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু জলপাইগুড়ির নার্স গীতা কর্মকারকে মর্যাদাপূর্ণ ‘ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল পুরস্কার ২০২৬’-এ ভূষিত করলেন। ৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার এক অনন্য স্বীকৃতি এই সম্মান।
তৃণমূল স্তরে সেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

গীতা কর্মকার জলপাইগুড়ির বেলাকোবা গ্রামীণ হাসপাতালের একজন অক্সিলিয়ারি নার্স মিডওয়াইফ (ANM)। কর্মজীবনের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে এই সম্মান তাঁর চার দশকের পরিশ্রমকে সার্থক করে তুলল। অবসর গ্রহণের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফে তাঁকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। তাঁর সহকর্মী এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের দাবি, তিনি কেবল একজন নার্স নন, তিনি ছিলেন এই অঞ্চলের মানুষের ভরসার স্থল।
কঠিন সময়েও অবিচল দায়িত্ব পালন
স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের মতে, গীতা জলপাইগুড়ির প্রত্যন্ত গ্রামে টিকাকরণ কর্মসূচি এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব প্রসারে অভাবনীয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে যক্ষ্মা (TB), থ্যালাসেমিয়া এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধিতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গিয়েছেন। দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলপাইগুড়ি সদরের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রীতম বসু বলেছেন, ‘উনি অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং দক্ষ। তিনি ছুটি নিতেন খুব কম। রোগীদের প্রতি তাঁর মানবিক আচরণ এবং নথিপত্র সংরক্ষণের নিখুঁত কাজ আমাদের সকলের কাছে এক বড় পাওনা।’
টিকা সংরক্ষণে বিশেষজ্ঞের ভূমিকা
{{/usCountry}}টিকা সংরক্ষণে বিশেষজ্ঞের ভূমিকা
{{/usCountry}}গীতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতেন। টিকা যাতে সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষিত থাকে এবং ব্লকের প্রতিটি প্রান্তে গুণমান বজায় রেখে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে তিনি সিদ্ধহস্ত ছিলেন। বিশ্বজনীন টিকাকরণ কর্মসূচির (UIP) সাফল্যে তাঁর এই দক্ষতা এক বড় স্তম্ভ ছিল।
আরও পড়ুন:
নার্সিং জগতের গৌরব
সবমিলিয়ে মাত্র ১৫ জন নার্সকে এই বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে গীতা কর্মকারের নাম উজ্জ্বল হয়ে রইল। রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুরস্কার পেয়েছেন।