বিদেশের মাটিতে ভুল রোগ নির্ণয় আর তার জেরে ক্রমবর্ধমান শারীরিক জটিলতা - ঠিক এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন নেদারল্যান্ডসের এক পর্যটক। কিন্তু শেষপর্যন্ত কলকাতার অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের হাতে প্রাণ ফিরে পেলেন তিনি। সাফল্যের সঙ্গে অপসারিত হলো তার মস্তিষ্কের টিউমার, যা দীর্ঘ সময় ধরে অন্য কোনও রোগ ভেবে অবহেলা করা হয়েছিল।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: ভুল চিকিৎসার পাহাড়

সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসের বাসিন্দা ওই পর্যটক দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে তীব্র মাথাব্যথা, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা এবং শারীরিক ভারসাম্যের অভাবে ভুগছিলেন। ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করিয়েও কোনও সুরাহা পাননি। সেখানে চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে এটিকে সাধারণ কোনও স্নায়বিক সমস্যা বা মানসিক চাপজনিত সমস্যা বলেছিলেন। কিন্তু দিনের পর দিন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
কলকাতায় রোগ নির্ণয় ও অস্ত্রোপচার
পর্যটন এবং কাজের প্রয়োজনে কলকাতায় আসার পর ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তাঁকে তড়িঘড়ি শহরের বেসরকারি হাসপাতাল সিএমআরআই সি কে বিড়লা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার নিউরো-সার্জনরা কোনও ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত এমআরআই এবং সিটি স্ক্যান করার সিদ্ধান্ত নেন। পরীক্ষার রিপোর্টে ধরা পড়ে যে ওই ব্যক্তির মস্তিষ্কের অত্যন্ত স্পর্শকাতর জায়গায় একটি বড় আকারের টিউমার বাসা বেঁধেছে। চিকিৎসকরা জানান, টিউমারটি যে অবস্থানে ছিল, তাতে আরও দেরি হলে ওই পর্যটক অন্ধ হয়ে যেতে পারতেন বা চিরতরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি ছিল। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি জটিল অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা করা হয়।
সফল অস্ত্রোপচার ও সুস্থতা
প্রায় কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা সাফল্যের সঙ্গে টিউমারটি অপসারণ করতে সক্ষম হন। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য এবং চিকিৎসকদের নিপুণ দক্ষতায় কোনও বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের পর ডাচ পর্যটক দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। তাঁর দৃষ্টিশক্তির সমস্যা যেমন কেটে গিয়েছে, তেমনই তিনি এখন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাও করতে পারছেন।
{{/usCountry}}প্রায় কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা সাফল্যের সঙ্গে টিউমারটি অপসারণ করতে সক্ষম হন। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য এবং চিকিৎসকদের নিপুণ দক্ষতায় কোনও বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের পর ডাচ পর্যটক দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। তাঁর দৃষ্টিশক্তির সমস্যা যেমন কেটে গিয়েছে, তেমনই তিনি এখন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাও করতে পারছেন।
{{/usCountry}}আরও পড়ুন: ‘কেওড়াতলায় দাঁড় করিয়েছিল…’! TMC-র প্রার্থী তালিকায় নেই নাম, পালটা কটাক্ষ ইমনের
কেন এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ?
এই ঘটনাটি বিশ্বদরবারে কলকাতার চিকিৎসাব্যবস্থার মানকে আরও একবার উজ্জ্বল করল। বিশেষ করে যখন ইউরোপের মতো উন্নত দেশেও এই রোগটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, তখন কলকাতার চিকিৎসকরা সঠিক সময়ে সঠিক রোগ নির্ণয় করে নজির গড়লেন। এটি প্রমাণ করে যে, উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামো এবং দক্ষ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে কলকাতা এখন বিশ্বমানের চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে।
আরও পড়ুন: থাকলেন লাভলি-রাজ, আসন বদল সোহমের, বাদ কাঞ্চন! তৃণমূলে টিকিট পেলেন না পরমব্রত-ইমন
অসুস্থ পর্যটক ও তাঁর পরিবার কলকাতার চিকিৎসকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানান, ভারতের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর তাদের আস্থা অনেক বেড়ে গিয়েছে। এই সাফল্য মেডিকেল ট্যুরিজমের ক্ষেত্রে কলকাতার অবস্থানকে আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।