Tribal Music Creators: ভারতের ঐতিহ্য ও আদিবাসী সংস্কৃতির সুর এবার পেতে চলেছে আন্তর্জাতিক মানের আইনি সুরক্ষা ও স্থায়ী অর্থনৈতিক ভিত্তি। দেশের আদিবাসী শিল্পীদের সৃজনশীলতা, ঐতিহ্যগত সুর এবং মৌলিক সঙ্গীতকর্মের মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল ভারত সরকারের আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রক। 'ইন্ডিয়ান পারফর্মিং রাইট সোসাইটি' (IPRS)-র সরাসরি সহযোগিতায় শুরু হল ‘লিভিং রুটস অরিজিনালস’। এটি মূলত আদিবাসী গীতরচনা ও স্রষ্টার অধিকার সুরক্ষার একটি বিশেষ উদ্যোগ, যার মূল উদ্দেশ্য হল দেশের কোণে-কোণে ছড়িয়ে থাকা আদিবাসী শিল্পীদের সৃজনশীল ও অর্থনৈতিক পরিসরকে আরও শক্তিশালী করা।
স্বীকৃতি, রয়্যালটি এবং কপিরাইট: আদিবাসী সঙ্গীতের নতুন দিগন্ত

বহু বছর ধরে দেশের আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গীত ও সুর নানাভাবে ব্যবহৃত হলেও অনেক ক্ষেত্রেই মূল স্রষ্টারা উপযুক্ত মর্যাদা বা আর্থিক লভ্যাংশ পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, পেশাদার পরামর্শদান, কপিরাইটের আইনি মালিকানা, পেশাদার সঙ্গীত প্রযোজনা এবং দীর্ঘমেয়াদি রয়্যালটি-ভিত্তিক আয়ের সুনির্দিষ্ট সুযোগ তৈরি করার জন্যই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সৃষ্ট প্রতিটি মৌলিক গান ও সুরকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে, যা বাণিজ্যিক সঙ্গীত ব্যবস্থার মধ্যেও এই শিল্পীদের 'স্রষ্টা' ও 'স্বত্বাধিকারী' হিসেবে তুলে ধরবে।
কোন কোন শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন?
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের ৩ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত কলকাতায় আয়োজিত হয় প্রথম পর্যায়ের 'গীতরচনা রেসিডেন্সি'। সেখাে পাঁচটি রাজ্যের আটটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের মোট ২৫ জন শিল্পী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন কেরলমের জেনু কুরুবা ও পানিয়া, ঝাড়খণ্ডের হো, পশ্চিমবঙ্গের কোচ রাজবংশী, নাগাল্যান্ডের চাকেসাং এবং ছত্তিশগড়ের গোন্ড, মাড়িয়া ও মাহারা সম্প্রদায়ের শিল্পীরা।
{{/usCountry}}এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের ৩ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত কলকাতায় আয়োজিত হয় প্রথম পর্যায়ের 'গীতরচনা রেসিডেন্সি'। সেখাে পাঁচটি রাজ্যের আটটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের মোট ২৫ জন শিল্পী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন কেরলমের জেনু কুরুবা ও পানিয়া, ঝাড়খণ্ডের হো, পশ্চিমবঙ্গের কোচ রাজবংশী, নাগাল্যান্ডের চাকেসাং এবং ছত্তিশগড়ের গোন্ড, মাড়িয়া ও মাহারা সম্প্রদায়ের শিল্পীরা।
{{/usCountry}}কী বললেন আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রকের সচিব?
সেই উদ্যোগ নিয়ে আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রকের সচিব রঞ্জনা চোপড়া প্রামাণিক জানান, আদিবাসী শিল্পীদের জন্য একটি প্রাথমিক তথ্যভাণ্ডার ও নথিভুক্তিকরণ, বিভিন্ন অঞ্চলের আদিবাসী সম্প্রদায়গুলির অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব, সঙ্গীত বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের মতামত ও অনুমোদন, ন্যায্য রয়্যালটি ও সুবিধা ভাগাভাগির ব্যবস্থা, সম্মিলিত আদিবাসী মেধাস্বত্বের অধিকার সুরক্ষা এবং যথাযথভাবে সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি ও মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে। আদিবাসী শিল্পীদের জন্য নয়া দিগন্ত উন্মোচন করতে পেশাদার সঙ্গীত প্রযোজনা, রেকর্ডিং, বিতরণ এবং ডিজিটাল ও পেশাদার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বৃহত্তর পরিসরে প্রচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।