WB Election Results 2026 Vote Counting: মে মাসের চার তারিখ চতুর্থবার সরকার গড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? নাকি পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ক্ষমতায় আসবে বিজেপি? সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার আগে মাধ্যমিক রেজাল্টের মতো টেনশনে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। যুযুধান দু'পক্ষ তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপিই দাবি করছে যে ভোটে জিতেই তারা সরকার গঠন করছে। ২০১১ সাল এবং ২০২৬ সালের পরে সবচেয়ে আলোচিত বিধানসভা নির্বাচনে কার জয় হবে, তা জানতে মুখিয়ে রয়েছে গোটা বাংলা। মমতার তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে? নাকি পদ্ম শিবিরের ঐতিহাসিক উত্থানের সাক্ষী হবে বাংলা? উত্তর মিলবে কয়েক ঘণ্টা পরেই। সকাল আটটা থেকে ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু হবে ভোটগণনা। ফলতায় গণনা হবে না সোমবার। আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচন
রেকর্ড হারে ভোটদান ও নজিরবিহীন পরিস্থিতি

এবারের নির্বাচন অনেক অর্থেই ঐতিহাসিক। স্বাধীনতার পর থেকে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি দেখেছে বাংলা— রেকর্ড ৯২.৪৭ শতাংশ। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে 'গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিঘ্নিত' হওয়ার অভিযোগে নির্বাচন বাতিল করেছে কমিশন। সেখানে আগামী ২১ মে ভোটগ্রহণ এবং ২৪ মে গণনা হবে। ফলে আগামিকাল ২৯৩টি আসনের ফলাফল ঘোষিত হতে চলেছে।
নিরাপত্তার দুর্ভেদ্য চাদরে গণনা কেন্দ্র
ভোট গণনার জন্য রাজ্যজুড়ে ৭৭টি কেন্দ্র নির্দিষ্ট করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কাউন্টিং হলগুলোতে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। প্রায় ২.৫ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে। এই প্রথমবার রাজ্যে কোনোওবড় ধরনের নির্বাচনী হিংসা বা মৃত্যুর খবর ছাড়াই ভোট সম্পন্ন হয়েছে, যা একটি বড় রেকর্ড। কারচুপি রুখতে এবার QR কোড ভিত্তিক পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং গণনাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
তৃণমূল বনাম বিজেপি: ইজ্জতের লড়াই
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচারে বারবার এসআইআরের ফলে ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া এবং উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের নেতৃত্বে বিজেপি দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ এবং নারী নিরাপত্তার ইস্যুকে হাতিয়ার করে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে।
{{/usCountry}}তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচারে বারবার এসআইআরের ফলে ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া এবং উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের নেতৃত্বে বিজেপি দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ এবং নারী নিরাপত্তার ইস্যুকে হাতিয়ার করে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে।
{{/usCountry}}সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে ভবানীপুর কেন্দ্রের দিকে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর দ্বৈরথ এক অনন্য মাত্রায় পৌঁছেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কেন্দ্রের ফলাফল রাজ্যের সামগ্রিক মেজাজ বুঝতে সাহায্য করবে।
অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে বাম-কংগ্রেস
২০২১ সালের নির্বাচনে কার্যত ধুয়ে মুছে যাওয়া বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস এবার ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া। মহম্মদ সেলিম বা অধীর চৌধুরীদের মতো অভিজ্ঞ নেতাদের নেতৃত্বে তাঁরা কতটা জমি ফিরে পেল, তার ওপর নির্ভর করবে আগামিদিনের বিরোধী রাজনীতির সমীকরণ। এছাড়াও নওশাদ সিদ্দিকীর আইএসএফ, হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টি এবং আসাদউদ্দিন ওয়াইসির মিম কয়েকটি জায়গায় ফ্যাক্টর হতে পারে।
ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কা ও কমিশনের আশ্বাস
গণনা শুরুর ঠিক আগে রাজনৈতিক পরিবেশ বেশ তপ্ত। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে নির্বাচন কমিশন সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, প্রতিটি স্ট্রংরুম সিসিটিভি নজরদারিতে রয়েছে এবং প্রার্থীরা বা তাদের প্রতিনিধিরা নিয়ম মেনে পাহারা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্টও গণনার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করায় কমিশনের ওপর আস্থার জায়গাটি আরও মজবুত হয়েছে।