National Teacher Award Winners Bengal: শিক্ষাদানে নিত্যনতুন উদ্ভাবনী ভাবনা, প্রযুক্তি ও সমাজভাবনার মেলবন্ধন ঘটিয়ে জাতীয় মঞ্চে বাংলার নাম উজ্জ্বল করলেন রাজ্যের দুই শিক্ষক। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে 'জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার' গ্রহণ করবেন তাঁরা। পুরস্কারপ্রাপ্ত এই দুই শিক্ষক হলেন ঝাড়গ্রামের গভর্নমেন্ট মডেল স্কুলের ভূগোলের শিক্ষক শান্তনু পাত্র এবং পূর্ব বর্ধমানের শ্রী রামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁদের এই অভাবনীয় অবদান আজ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত তৈরি করেছে।
AI ও পরিবেশ পাঠে ঝাড়গ্রামের শান্তনু পাত্রের কিস্তিমাত

ঝাড়গ্রামের প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীদের আধুনিক শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে দীর্ঘ আট বছর ধরে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন শান্তনুবাবু। প্রতিকূল সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবেশের মাঝে দাঁড়িয়েও তিনি ক্লাসরুমে নিয়ে এসেছেন এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। শান্তনু শ্রেণিকক্ষে মূলত তিনটি বিশেষ ‘স্টেশন’ বা লার্নিং জোন তৈরি করেছেন।
১) ডিজিটাল স্টেশন: যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বিষয়ে ভিত্তিক শিক্ষণীয় ভিডিয়ো এবং অনলাইন কুইজের মাধ্যমে জটিল বিষয় সহজ করে বোঝানো হয়।
২) ডিসকাশন স্টেশন: পড়ুয়াাদের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনা করে পড়াশোনার যাবতীয় খটকা বা সংশয় দূর করার জন্য এই বিভাগ।
৩) ক্রিয়েটিভিটি স্টেশন: যেখানে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের হাতে মডেল, চার্ট এবং প্রজেক্ট তৈরি করে।
{{/usCountry}}৩) ক্রিয়েটিভিটি স্টেশন: যেখানে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের হাতে মডেল, চার্ট এবং প্রজেক্ট তৈরি করে।
{{/usCountry}}শুধু প্রযুক্তিই নয়, প্রকৃতি ও লোকসংস্কৃতিকেও শিক্ষার আঙিনায় নিয়ে এসেছেন তিনি। স্থানীয় প্রকৃতি-কেন্দ্রিক লোক উৎসবগুলোকে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং ছাত্রছাত্রীদের রেজাল্ট কার্ড বা রিপোর্ট কার্ডও সম্পূর্ণ ডিজিটাইজড করেছেন।
নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ ও প্রাতরাশ প্রকল্প: পলাশ চৌধুরীর অভিনব উদ্যোগ
অন্যদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য নজির গড়েছেন বর্ধমানের শ্রী রামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিজের উদ্যোগেই তৈরি করেছেন একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিদিনের ক্লাসের তথ্য, উপস্থিতি এবং ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার অগ্রগতি সরাসরি অভিভাবকদের মোবাইলে পৌঁছে যায়।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়; পলাশবাবু অনুভব করেছিলেন খালি পেটে শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ তৈরি হওয়া কঠিন। সেই ভাবনা থেকে তিনি স্কুলে চালু করেছেন বিনামূল্যে 'প্রাতঃরাশ বা ব্রেকফাস্ট প্রোগ্রাম'। এই কর্মসূচির পিছনে বছরে খরচ হয় প্রায় ৬০,০০০ টাকা, যা কোনও সরকারি ফান্ড থেকে নয়- বরং পলাশ বাবু এবং তাঁর এক সহকর্মী শিক্ষক নিজেদের ব্যক্তিগত বেতন থেকে বহন করেন!