WB Business Investment Plan: ২০০০ কোটি টাকার ডেটা সেন্টার, স্বাস্থ্যে ১০০০ কোটি- বড় কোম্পানির নজরে বাংলা
শিল্পপতিদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে শিল্পের একটি নতুন যুগের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে একদিকে রয়েছে শক্তিশালী পরিকাঠামো এবং অন্যদিকে রয়েছে বিনিয়োগকারীদের গভীর আস্থা। সেই রেশ ধরে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে।
সম্প্রতি কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল 'সিআইআই পশ্চিমবঙ্গ বার্ষিক সভা ও সম্মেলন' এবারের সম্মেলনের মূল ভাবনা ছিল— ‘পশ্চিমবঙ্গ: নেতৃত্বের পথে – পরবর্তী আর্থিক বিকাশের জোয়ারে সওয়ার’। এই অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামো, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং নতুন কর্মসংস্থানের দিশা নিয়ে একগুচ্ছ ইতিবাচক ইঙ্গিত উঠে এসেছে।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভাষণ
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক এবং ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। খেলাধুলা এবং ব্যবসার মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে তিনি বলেন, ‘খেলা হোক বা ব্যবসা- সবই আসলে দলগত প্রচেষ্টার ফসল। যে কোনও যাত্রায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল আপনার সঙ্গে কাজ করা মানুষ।’ তিনি আরও বলেন, "সম্পদের চেয়েও বড় বিনিয়োগ হলো মানুষ এবং কর্মীদের ওপর বিনিয়োগ করা, যাঁরা একটি প্রতিষ্ঠানকে বড় হতে সাহায্য করেন। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন এবং ঝুঁকি নিতে ভয় পাবেন না। জীবন হল সাফল্য এবং ব্যর্থতার একটি চক্র, তাই প্রতিকূলতায় ভেঙে পড়লে চলবে না।'
শিল্প সম্ভাবনা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন
সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান এবং দক্ষ শ্রমশক্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান কবি দত্ত বিনিয়োগকারীদের দুর্গাপুর ও আসানসোল অঞ্চলে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, 'দুর্গাপুরে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে খনিজ সম্পদ—সব সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। একটি পরিকল্পিত শহর হিসেবে এখানে ব্যবসা করার পরিবেশ অত্যন্ত উন্নত।'
অন্যদিকে, ইউনিভার্সাল সাকসেস এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান প্রসূন মুখোপাধ্যায় এক বড় ঘোষণা করেন। তিনি জানান, বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালিতে ২,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ডেটা সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে, যা এআই (AI) পরিকাঠামো হিসেবে কাজ করবে। এটি সিঙ্গাপুর ও বাংলার বাণিজ্যিক সম্পর্ককেও আরও সুদৃঢ় করবে।
পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার পশ্চিমবঙ্গ
সিআইআই পূর্বাঞ্চলীয় শাখার ডেপুটি চেয়ারম্যান মেহুল মোহঙ্কা বলেন, ১০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যা এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির কারণে এই রাজ্যে চাহিদার গভীরতা ও পণ্যের বৈচিত্র্য অনেক বেশি। ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে ভারতের জাতীয় আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই অঞ্চল থেকে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।' তিনি আরও জানান, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ লজিস্টিক বা পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে একটি প্রাকৃতিক সুবিধা পায়।
স্বাস্থ্য ও ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে বড় লক্ষ্য
পিয়ারলেস জেনারেল ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের এমডি জয়ন্ত রায় পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য খাতে বড় বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, 'আমরা স্বাস্থ্যখাতে ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করছি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৫,০০০ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে। আমার স্বপ্ন হলো ‘আমার বাংলা, আগামীর বাংলা।’ আবার বন্ধন গ্রুপের চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ঘোষ অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোক্তা তৈরির ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য 'বিশ্বাস' এবং 'ব্র্যান্ডিং' হল মূল চাবিকাঠি।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper











