নোংরা, আবর্জনার স্তূপ এবং উৎকট গন্ধ- শিয়ালদা ডিভিশনের একাধিক স্টেশনের সেই ছবিটা পালটাতে চাইছে পূর্ব রেল। আর সেই লক্ষ্যে শিয়ালদা ডিভিশনের লোকাল ট্রেনের লাইনেএক বিশেষ অভিযান চালানো হল। পূর্ব রেলের এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হাউসকিপিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তরফে জানানা হয়েছে, কয়েকশো টন বর্জ্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আবর্জনা পরিষ্কার করে সবুজায়ন ঘটিয়ে স্টেশনের চেহারা বদলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষের তরফে। আর সাম্প্রতিক অভিযানে সবথেকে ‘অপরিচ্ছন্ন’ বা ‘নোংরা’ স্টেশন হিসেব উঠে এসেছে সন্তোষপুর ও বাঘাযতীন।

কোন স্টেশন থেকে কত পরিমাণ বর্জ্র উদ্ধার?
পূর্ব রেলের তরফে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক এই অভিযানে শিয়ালদা ডিভিশনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ৪০০ টনেরও বেশি আবর্জনা সরানো হয়েছে। সবমিলিয়ে প্রায় ২৫,০০০ বর্গফুটেরও বেশি এলাকা এখন জঞ্জালমুক্ত। বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা 'ব্ল্যাক স্পট' বা ময়লার ভাগাড়গুলো পরিষ্কার করা হয়। আর এই অভিযানের সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে সন্তোষপুর এবং বাঘাযতীন স্টেশনে।
১) সন্তোষপুর ও বাঘাযতীন: প্রতিটি স্টেশন থেকে ১০০ টন করে মোট ২০০ টন আবর্জনা সরানো হয়েছে।
২) শিয়ালদা: গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনের ৪,০০০ বর্গফুট এলাকা থেকে ৫০ টন বর্জ্য সরানো হয়েছে।
৩) অন্যান্য স্টেশন: মগরাহাটে ৩৫ টন, পাতিপুকুর ও টালায় ৩০ টন এবং বিধাননগর ও কলকাতা স্টেশনে ২০ টন জঞ্জাল পরিষ্কার করা হয়েছে। বাদ যায়নি লেক গার্ডেন্স, সোদপুর, সোনারপুর, হালিশহর বা আগরপাড়ার মতো ছোট-বড় স্টেশনগুলিও।
বাজার এলাকার জটমুক্তি ও স্যানিটাইজেশন
{{/usCountry}}বাজার এলাকার জটমুক্তি ও স্যানিটাইজেশন
{{/usCountry}}রেল কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই অভিযানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল স্টেশন সংলগ্ন স্থানীয় বাজারগুলো। টালিগঞ্জ স্টেশনের এক নম্বর নম্বর প্ল্যাটফর্মের বুকিং কাউন্টার সংলগ্ন পথটি দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় বাজারের বর্জ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। পথচারীদের যাতায়াতে সমস্যা হত। রেল কর্তৃপক্ষ সেই এলাকাটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার করেছে।
একই ছবি দেখা গিয়েছে সন্তোষপুর স্টেশনেও। রেলের তরফে দাবি করা হয়েছে, স্টেশনে যাওয়ার মূল রাস্তাটি স্থানীয় সবজি বাজারের পচা সবজি ও নোংরার নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল। রেল কর্মীরা সেই রাস্তা উদ্ধার করার পর সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন, যাতে পুনরায় কেউ সেখানে ময়লা ফেলতে না পারে।
আরও পড়ুন: ভোটমুখী বঙ্গে টানটান উত্তেজনা! সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে...
আর সেই অভিযান নিয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, রেল চত্বরকে স্থানীয় বিক্রেতা বা সাধারণ মানুষ যাতে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার না করেন, সেই সচেতনতা তৈরি করাই রেলের প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, 'আমরা চাই যাত্রীরা যখন স্টেশনে আসবেন, তখন যেন তারা এক স্বাস্থ্যকর ও নান্দনিক পরিবেশ পান। এই সবুজায়ন প্রকল্প কেবল পরিবেশ রক্ষা করবে না, স্টেশনের সামগ্রিক দৃশ্যপট বদলে দেবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
রেল সূত্রের খবর, শিয়ালদা ডিভিশনের এই সাফল্যের পর আগামদিনে হাওড়া ও মালদা ডিভিশনেও এই ধরণের বড় মাপের পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে। প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। রেলের এই 'সবুজ' পদক্ষেপে খুশি নিত্যযাত্রীরাও। তবে এই পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং সহযোগিতা একান্ত কাম্য বলে মনে করছে রেল প্রশাসন।