বাংলার ক্রীড়া মানচিত্রে হ্যান্ডবল বিশেষ জায়গা করে নিচ্ছে। সম্প্রতি ঠাকুরপুকুর বিবেকানন্দ কলেজ গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ২১তম সিনিয়র স্টেট হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপে সেটাই বোঝা গেল। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই যে দলগুলোর ওপর নজর ছিল, শেষ পর্যন্ত তারাই বাজিমাত করল। মহিলা বিভাগে খেতাব ধরে রাখল মধ্য কলকাতা এবং পুরুষ বিভাগে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখল পশ্চিম কলকাতা।
মহিলাদের ফাইনালে মধ্য কলকাতার দাপট

মহিলা বিভাগের ফাইনালে গতবারের চ্যাম্পিয়ন মধ্য কলকাতা মুখোমুখি হয় জলপাইগুড়ির। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলা শুরু করেন মধ্য কলকাতার মেয়েরা। জলপাইগুড়ির ডিফেন্সকে ভেঙে দিয়ে ২০-১১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন তাঁরা। এই জয়ের ফলে তারা টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নের শিরোপা জিতলেন। এই বিভাগে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে যথাক্রমে পশ্চিম কলকাতা ও নদিয়া।
পুরুষদের বিভাগে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
অন্যদিকে পুরুষদের ফাইনাল ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পশ্চিম কলকাতার বিরুদ্ধে ময়দানে নামে উত্তর ২৪ পরগনা। প্রতিটি মুহূর্তে টানটান উত্তেজনা ছিল। শেষ পর্যন্ত উত্তর ২৪ পরগনাকে ২৮-২৫ গোলে পরাজিত করে খেতাব অক্ষুণ্ণ রাখে পশ্চিম কলকাতা। এই বিভাগে তৃতীয় স্থান পেয়েছে জলপাইগুড়ি এবং চতুর্থ স্থানে শেষ করেছে আলিপুরদুয়ার।
ব্যক্তিগত সাফল্য ও সেরার সম্মান
১) মহিলা বিভাগ: টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন মধ্য কলকাতার মৌমিতা রায়। ফাইনালে আটটি গোল করে নিজের দলের জয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন বীথিকা রাভা, যিনি সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন। রানার্স-আপ দল জলপাইগুড়ির সোমা সেনকেও তাঁর অসামান্য গোলকিপিংয়ের জন্য বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}১) মহিলা বিভাগ: টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন মধ্য কলকাতার মৌমিতা রায়। ফাইনালে আটটি গোল করে নিজের দলের জয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন বীথিকা রাভা, যিনি সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন। রানার্স-আপ দল জলপাইগুড়ির সোমা সেনকেও তাঁর অসামান্য গোলকিপিংয়ের জন্য বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}২) পুরুষ বিভাগ: পশ্চিম কলকাতার তরুণ মাহাতো টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় এবং দেবাশিস কর্মকার সেরা গোলরক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
সামনেই জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ: বাংলার দল নির্বাচন
এই রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। কারণ এখান থেকেই উত্তরপ্রদেশে অনুষ্ঠিত হতে চলা সিনিয়র উইমেন্স ন্যাশনাল হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য বাংলার ১৪ সদস্যের দল নির্বাচন করা হয়েছে। এ বছর পুরুষ বিভাগে আটটি এবং মহিলা বিভাগে ন'টি দল এই চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করেছিল।
হ্যান্ডবল খেলোয়াড়দের জন্য চাকরির নতুন দিগন্ত
বর্তমানে কেবল খেলাধুলাই নয়, হ্যান্ডবলকে পেশা হিসেবে নেওয়ার আগ্রহও বাড়ছে। রাজ্য হ্যান্ডবল অ্যাসোসিয়েশনের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান জিয়ারুল রহমান মন্ডল একটি আশাব্যঞ্জক তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন সার্ভিসে হ্যান্ডবল খেলোয়াড়দের জন্য সরকারি চাকরির সুযোগ ব্যাপক হারে বাড়ছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পুরুষদের তুলনায় নারী খেলোয়াড়দের সরকারি চাকরি পাওয়ার হার বর্তমানে অনেক বেশি। এই সাফল্য আগামিদিনে বাংলার মেয়েদের হ্যান্ডবল খেলায় আরও উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।