Ayodhya T20 Premier League: ৬৯ বলে ১৯৫ নট-আউট, ২১ ছক্কা- RCB ছেঁটে ফেলার পরেই ঝড় তুললেন বিরাট ‘পাগলু’ তরুণ
গতবার আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে (আরসিবি) ছিলেন। বিরাট কোহলির এতটাই ভক্ত ছিলেন যে ফ্যানরা মজা করে তাঁকে ‘বিরাট পাগলুও’ বলতেন। সেই তরুণকে এবার ছেঁটে ফেলেছে আরসিবি। আইপিএল শুরুর আগেই ঝড় তুললেন তিনি।
ক্রিকেট বিশ্বে যখনই কোনও বড় ইনিংসের কথা ওঠে, তখন ক্রিস গেইল বা এবি ডি'ভিলিয়ার্সের মতো খেলোয়াড়দের নাম সবার আগে মাথায় আসে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় যা ঘটল, তা কল্পনাকেও হার মানায়। অযোধ্যা টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগে ব্যাট হাতে টর্নেডো বইয়ে দিলেন তরুণ তুর্কি স্বস্তিক চিকারা। ৬৯ বলে অপরাজিত ১৯৫ রান করেন। হাঁকান ২১টি ছক্কা।

অবিশ্বাস্য এক ইনিংসের ইতিবৃত্ত
ম্যাচটি শুরু হওয়ার সময় কেউ ভাবতেও পারেনি যে স্কোরবোর্ড এমন এক সংখ্যার সাক্ষী হতে চলেছে। স্বস্তিক যখন ক্রিজে নামেন, তখন থেকেই তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। তিনি মাত্র কয়েক ওভারের মধ্যেই বোলারদের লাইন-লেংথ তছনছ করে দেন। খেলেন ১৯৫ রানের একটি অতিমানবিক ইনিংস।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো তাঁর বাউন্ডারি মারার পরিসংখ্যান। এই ইনিংসে তিনি মোট ২১টি বিশাল ছক্কা হাঁকান। অর্থাৎ ১২৬ রান এসেছে শুধুমাত্র ছক্কা থেকেই! এর পাশাপাশি ছিল চোখ ধাঁধানো চারের প্রদর্শনী। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেখানে ১০০ রান করাকে বড় সাফল্য ধরা হয়, সেখানে স্বস্তিক প্রায় দ্বি-শতরানের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়ে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
কে এই স্বস্তিক চিকারা?
স্বস্তিক চিকারা উত্তরপ্রদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের এক পরিচিত নাম। আইপিএলের আঙিনায় গতবার রয়্যাল চ্য়ালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে (আরসিবি) ছিলেন। এই বছর তাঁকে ছেড়ে দিয়েছে আরসিবি। বড় শট খেলার সহজাত ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। অযোধ্যা প্রিমিয়ার লিগের এই পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করল যে, ভারতীয় ক্রিকেটের পাইপলাইনে প্রতিভার কোনও অভাব নেই। তাঁর এই বিধ্বংসী ব্যাটিং স্টাইল অনেককেই ভারতের কিংবদন্তি ওপেনার বীরেন্দ্র সেহবাগের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
বোলারদের অসহায়তা ও মাঠের দৃশ্য
স্বস্তিকের এই ঝড়ের সামনে প্রতিপক্ষের কোনও বোলারই সুবিধা করতে পারেননি। ইয়র্কার থেকে শুরু করে বাউন্সার- সবই অনায়াসে বাউন্ডারির ওপারে পাঠাচ্ছিলেন তিনি। মাঠের চারদিকে তাঁর শট নির্বাচনের দক্ষতা ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে লং-অন এবং মিড-উইকেট এলাকা দিয়ে মারা তাঁর ছক্কাগুলো ছিল দেখার মতো। স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা প্রতিটি ছক্কায় উল্লাসে ফেটে পড়ছিলেন। আর অযোধ্যা টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগের এই ম্যাচটি ইতিহাসের পাতায় স্বস্তিকের 'ওয়ান ম্যান শো' হিসেবেই লেখা থাকবে।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


