...
...
Next Story

WB Plloution Study: ভারতের সবথেকে দূষিত এলাকার মধ্যে বাংলা, ‘আক্রান্ত’ হচ্ছে হিমালয়ও, বিপদে সুন্দরবন

WB Plloution Study: ভারতের সবথেকে দূষিত এলাকার মধ্যে বাংলা। পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ ও শহুরে এলাকায় যে দূষণ তৈরি হচ্ছে, তা স্থানীয় এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল পাহাড়ি অঞ্চলেও পৌঁছে যাচ্ছে, যেখানে এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠিত উদ্যোগ নেই।

Published on: May 28, 2026, 15:43:36 IST
Advertisement

ভারতের সবথেকে দূষিত অঞ্চলগুলির মধ্যে আছে পশ্চিমবঙ্গ। সম্প্রতি প্রকাশিত ২৫ বছরের (২০০০ সাল থেকে ২০২৪ সাল) স্যাটেলাইট ছবি পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য। গবেষণার রিপোর্ট অনুযায়ী, সমগ্র ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমির মধ্যে দক্ষিণ পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে সর্বোচ্চ পিএম (Particulate Matter) দূষণ অঞ্চলের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে। আরও আশঙ্কার কথা হলো, এই দূষণের থাবা থেকে রেহাই পাচ্ছে না পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবনও।

২৫ বছরের গবেষণায় স্পষ্ট দূষণের গতিপ্রকৃতি

ভারতের সবথেকে দূষিত এলাকার মধ্যে বাংলা, ‘আক্রান্ত’ হচ্ছে হিমালয়ও, বিপদে সুন্দরবন। (ছবিটি প্রতীকী, ন্যানো ব্যানানা দিয়ে তৈরি করা)
ভারতের সবথেকে দূষিত এলাকার মধ্যে বাংলা, ‘আক্রান্ত’ হচ্ছে হিমালয়ও, বিপদে সুন্দরবন। (ছবিটি প্রতীকী, ন্যানো ব্যানানা দিয়ে তৈরি করা)

কলকাতার ‘বোস ইনস্টিটিউট’-র অধ্যাপক অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং গবেষক সৌমেন রাউলের যৌথ নেতৃত্বে এই গবেষণা চালানো হয়েছে। ২০০০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৫ বছরের উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট চিত্র ও তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি এই গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘অ্যাটমোস্ফেরিক এনভায়রনমেন্ট’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

এই দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় মূলত ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি, হিমালয় এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বায়ুদূষণের একটি সামগ্রিক ছবি তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণার ফলাফল স্পষ্ট জানাচ্ছে, দক্ষিণবঙ্গ ও প্রতিবেশী রাজ্য বিহার বর্তমানে এই অঞ্চলের সামগ্রিক বায়ুদূষণ সংকটের মূল উপকেন্দ্র বা ‘হটস্পট’-এ পরিণত হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে এই অঞ্চলে পিএম দূষণের মাত্রা পূর্ববর্তী দশকের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ক্ষতিকারক কার্বনসমৃদ্ধ অ্যারোসলের উপস্থিতি সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে।

যানবাহন বা শিল্প নয়, আসল খলনায়ক ‘বায়োমাস’ ও বর্জ্য

বিষয়টি নিয়ে অধ্যাপক অভিজিৎ বলেন, ‘পূর্ব ইন্দো- গাঙ্গেয় সমভূমি এবং ক্রমশ উত্তর-পূর্ব ভারত বায়ুদূষণের অসম ভার বহন করছে, এবং এই দূষণের প্রধান কারণ প্রায় সম্পূর্ণভাবেই বায়োমাস পোড়ানো। ২৫ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে এটাই সবচেয়ে স্পষ্ট সংকেত হিসেবে উঠে এসেছে।’

দ্বিমুখী সংকটে সুন্দরবন: জরুরি পদক্ষেপের দাবি

এই গবেষণায় সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে সুন্দরবনকে নিয়ে। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি, উপকূলীয় বন্যা, তীব্র ভূমিক্ষয় এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা হারানোর মতো বহুমুখী সংকটে জর্জরিত। তার ওপর এখন যুক্ত হয়েছে বিষাক্ত বাতাস।

গবেষকদের মতে, সুন্দরবনের মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক অঞ্চলকে আর অবহেলা করা চলে না। ভারতের ‘জাতীয় পরিচ্ছন্ন বায়ু কর্মসূচি’-এর আওতায় সাধারণত দূষিত বড় শহরগুলিকে রাখা হয়। কিন্তু সুন্দরবনের মতো গ্রামীণ ও উপকূলীয় এলাকাগুলি এই তালিকার বাইরে থাকায় কোনো সরকারি নজরদারি বা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। গবেষকরা অবিলম্বে সুন্দরবনকে এই পরিচ্ছন্ন বায়ু মিশনের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: Kolkata Metro Orange Line Update: মেট্রোর আরও ১ কাজে অনুমতি পুলিশের, ৩ বছর ঝুলেছিল, বাইপাসে ৪৫ দিন ট্র্যাফিক ব্লক

পশ্চিমবঙ্গের বিষাক্ত বাতাস পৌঁছাচ্ছে হিমালয়েও

গবেষণায় ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ‘ট্র্যাজেক্টরি মডেলিং’ পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও বাংলাদেশের বাতাসে তৈরি হওয়া এই অ্যারোসল দূষণ কেবল স্থানীয় এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বায়ুপ্রবাহের কারণে এই বিষাক্ত বাতাস নিম্ন ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি থেকে উড়ে চলে যাচ্ছে সুদূর পূর্ব হিমালয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে। পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জীববৈচিত্র্যে ভরপুর হিমালয়ের পাহাড়ি এলাকায় এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠিত পরিচ্ছন্ন বায়ু কর্মসূচি নেই, ফলে সেখানকার পরিবেশও এখন বড়সড় বিপদের মুখে।

আরও পড়ুন: SIP deducted from salary: PF-র মতোই স্যালারি থেকে কাটবে SIP-র টাকা? চাকরিজীবীদের জন্য বড় প্রস্তাব সেবির!

গবেষকরা কী কী পরামর্শ দিলেন?

গবেষকরা NCAP 2.0-এ গ্রামীণ অঞ্চল এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলিকে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। গবেষণাপত্রে বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অঞ্চল হিসেবে সুন্দরবন, উত্তর-পূর্ব ভারতের জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এলাকা এবং হিমালয়ের জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চলগুলির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: WB Rail Projects Land Alloaction Update: বাংলাদেশ সীমান্তে রেললাইনের জমি দিন! নির্দেশ শুভেন্দুর, পদক্ষেপ আরও ৬০টি নিয়ে

বোস ইনস্টিটিউটের গবেষক বলেছেন, ‘এনসিপি মূলত শহরকেন্দ্রিক একটি উদ্যোগ হিসেবে তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমাদের তথ্য বলছে, গ্রামীণ ভারতের বায়ুদূষণও সমানভাবে, অনেক ক্ষেত্রে আরও বেশি, গুরুতর। রান্না, গরম রাখা এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত বায়োমাস পোড়ানোর বিষয়টি বর্তমান কর্মসূচিতে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। তাই পরিচ্ছন্ন বায়ু মিশনে গ্রামীণ মাত্রাটিকে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।’

 
ABOUT THE AUTHOR
Ayan Das

অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe