...
...
Next Story

WB Urban Mobility Roadmap: গণপরিবহণের রোডম্যাপ! ৫ বছরেই কীভাবে বদলাবে কলকাতা-দুর্গাপুরের যাতায়াত ব্যবস্থা?

২০৩১ সালের মধ্যে কলকাতা ও শিল্পাঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা বদলে দিতে রোডম্যাপ তৈরি করা হল। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যানজট ও দূষণমুক্ত শহরের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন রোডম্যাপে থাকছে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস সফর, ইলেকট্রিক বাসের প্রসার এবং আধুনিক পরিবহন পরিকাঠামো। বিস্তারিত পড়ুন।

Published on: Mar 10, 2026, 21:05:53 IST
Advertisement

পশ্চিমবঙ্গের নগরায়ণ দ্রুত গতিতে বাড়লেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পরিবেশ দূষণ এবং যানজট। বর্তমানে রাজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ শহরে বাস করেন, যার একটি বিশাল অংশ কলকাতা এবং পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলেই। কিন্তু এই শহরগুলির পরিবহণ ব্যবস্থা এখনও পুরনো ধাঁচেই রয়ে গিয়েছে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই পরিস্থিতিতে ২০৩১ সালের মধ্যে এক টেকসই এবং আধুনিক পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি নতুন রোডম্যাপ বা রূপরেখা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। সেই চার্টার বা রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে 'সাসটেনেবল মোবিলিটি নেটওয়ার্ক'-র তরফে। যে ছাতার তলায় একাধিক নাগরিক মঞ্চ আছে।

সংকটের মুখে বর্তমান পরিবহণ ব্যবস্থা

২০৩১ সালের মধ্যে কলকাতা ও শিল্পাঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা বদলে দিতে রোডম্যাপ তৈরি করা হল। (ছবিটি গুগল জেমিনাই দিয়ে তৈরি করা)
২০৩১ সালের মধ্যে কলকাতা ও শিল্পাঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা বদলে দিতে রোডম্যাপ তৈরি করা হল। (ছবিটি গুগল জেমিনাই দিয়ে তৈরি করা)

বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতা বিশ্বের অন্যতম যানজটপূর্ণ শহর হিসেবে পরিচিত। এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে অপরিকল্পিত যানবাহন বৃদ্ধি এবং রাস্তার তুলনায় গাড়ির আধিক্য। শহরের সরকারি বাসের সংখ্যা ৬,০০০ থেকে কমে ৩,৫০০-তে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে ৭২ শতাংশ যাত্রীই অতিরিক্ত ভিড়ের সমস্যায় ভোগেন। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল, কলকাতার অধিকাংশ বাসই পুরনো ডিজেল চালিত, যা বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উৎস। আসানসোল এবং দুর্গাপুরের অবস্থাও তথৈবচ।

আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: 'মমতা বারবার পৃথিবীতে আসবেন না, তাঁর গান বাঙালির ঘরে-ঘরে বাজবে', দাবি সাহিত্যিকের

২০৩১-এর লক্ষ্য: আধুনিক ও জনবান্ধব পরিকাঠামো

আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই সমস্যা সমাধানে বেশ কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেজন্য তাঁরা কয়েকটি পরিকল্পনা দিয়েছেন।

২) বাস পরিষেবার মানোন্নয়ন: প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য অন্তত ৬০টি আধুনিক বাস নিশ্চিত করতে হবে। এই বাসগুলিতে লো-ফ্লোর, এয়ার কন্ডিশনার, র‍্যাম্প এবং এমার্জেন্সি বাটনের মতো সুবিধা থাকা বাধ্যতামূলক। প্রতিটি নাগরিকের বাড়ি থেকে পাঁচ মিনিটের হাঁটা পথের মধ্যে বাস স্টপেজ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রাখতে হবে।

৩) বৈদ্যুতিক যানবাহনে জোর: বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ইভি-র হার মাত্র ১.৫ শতাংশ, যা দেশের মধ্যে বেশ কম। লক্ষ্য হওয়া উচিত যে ২০৩১ সালের মধ্যে সমস্ত নতুন বাস এবং অন্তত ৫০ শতাংশ অটো-রিকশাকে বৈদ্যুতিক মডেলে রূপান্তরিত করা। প্রতি ২০টি ইভির জন্য একটি চার্জিং পয়েন্ট এবং তার অন্তত অর্ধেক পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি (সৌরবিদ্যুৎ) দ্বারা পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: Howrah-Kharagpur Local Train: ‘হাওড়া-খড়্গপুর লাইনে লোকাল ট্রেন পরিষেবা ভালো হবে’, ২৯০৫ কোটি টাকার কাজে সংকেত

নারী সুরক্ষা ও গতিশীলতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবা চালু হয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে কলকাতা ও দুর্গাপুরের প্রায় অর্ধেক মহিলা যাত্রী এই সুবিধা পেলে গণপরিবহন ব্যবহারে আরও উৎসাহিত হবেন। এটি কেবল তাঁদের স্বনির্ভরতাই বাড়াবে না, বরং কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি করবে। এছাড়া, পরিবহণ কর্মীদের নিয়মিত জেন্ডার সেনসিটাইজেশন বা লিঙ্গ-সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: LPG Gas Cylinder Booking Rule: রান্নার গ্যাস ফুরোলেও কতদিনের আগে নয়া সিলিন্ডারের বুকিং হবে না? চালু নয়া নিয়ম

পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের গুরুত্ব

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, শহরাঞ্চলে যাতায়াতের ৬০-৭০ শতাংশই চার কিলোমিটারের কম দূরত্বের। তাই ‘পিপল-ফার্স্ট’ জোন তৈরি করে ফুটপাত এবং সাইকেল ট্র্যাকের ওপর জোর দিতে হবে। বিশেষ করে স্কুল জোনগুলোতে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং পুরনো দূষণকারী গাড়ি স্ক্র্যাপ করার জন্য সরকারি ইনসেনটিভ প্রদান করা সময়ের দাবি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Ayan Das

অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe