WB Liquor Prices: পশ্চিমবঙ্গের সুরাপ্রেমীদের পকেটে এবার বাড়তি টান পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যে মদের দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে জোরালো আবেদন জানাল ভারতের মদ ও ওয়াইন প্রস্তুতকারকদের শীর্ষ সংগঠন 'ইন্টারন্যাশনাল স্পিরিটস অ্যান্ড ওয়াইনস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া' (ISWAI)। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং উৎপাদন খরচের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জেরেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানিয়েছে এই বাণিজ্যিক সংগঠন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাঁচামাল ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার খরচ বিগত কয়েক মাসে প্রায় ১০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যদি রাজ্য সরকার মদের দাম বাড়ানোর অনুমতি না দেয়, তবে মদ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির পক্ষে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
কেন বাড়ছে উৎপাদন খরচ?
সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সংগঠনের সিইও সঞ্জিত পাধি এই মূল্যবৃদ্ধির পিছনে মূল কারণ হিসেবে বিশ্ববাজারের জ্বালানি সংকট এবং কাঁচামালের মুদ্রাস্ফীতিকে দায়ী করেছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং বিশ্বব্যাপী পণ্য সংকটের কারণে প্যাকেজিং ও উৎপাদন খরচ আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং পেট্রোকেমিক্যাল কাঁচামালের দামের তীব্র ওঠানামা সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। সুরা প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি এতদিন এই বাড়তি খরচের বোঝা নিজেদের কাঁধে বহন করলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আর সম্ভব হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: RG Kar Case: তাঁর সাক্ষীতেই অভয়ার দাহ! গ্রেফতারি এড়াতে আগেভাগেই হাইকোর্টে সেই পাড়ার 'কাকু'
প্যাকেজিং ও কাঁচামালের সংকট
মদ শিল্পের মোট উৎপাদন খরচের (কর ব্যতিরেকে) প্রায় ৪০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ অংশই ব্যয় হয় পণ্যের প্যাকেজিংয়ের পিছনে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সঞ্জিত জানিয়েছেন যে মদ সরবরাহের প্রধান মাধ্যম হল কাঁচের বোতল। কিন্তু কাঁচ তৈরির কারখানাগুলো সম্পূর্ণভাবে জ্বালানি-নির্ভর। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত সোডা অ্যাশের চড়া দাম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার উদ্বায়ী হারের কারণে কাঁচের ফার্নেস বা চুল্লি চালানোর খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছে।
এর ফলে কাঁচের বোতলের দাম একধাক্কায় প্রায় ১১ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু কাঁচের বোতলই নয়, বোতলের প্লাস্টিকের ছিপি বা ক্যাপস এবং ক্লোজারের দামও অনেকটাই ঊর্ধ্বমুখী। সব মিলিয়ে প্যাকেজিং উপকরণের সামগ্রিক খরচ গড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে, যা মদের চূড়ান্ত উৎপাদন মূল্যের ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলছে।
আবগারি দফতরের কাছে দ্রুত সিদ্ধান্তের আবেদন
বর্তমান সংকটের কথা উল্লেখ করে ইতিমধ্যেই ISWAI-এর পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবগারি কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। সাধারণত রাজ্য সরকার প্রতি বছর জুলাই থেকে অগস্ট মাসের মধ্যে মদ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির কাছ থেকে নতুন মূল্য তালিকা বা কোটেশন (Quotation) চেয়ে থাকে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ISWAI রাজ্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, যেন এই কোটেশন প্রক্রিয়ার সময়সীমা কিছুটা এগিয়ে আনা হয়। যদি সরকার দ্রুত এই বিষয়ে অনুমোদন দেয়, তবে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদের দাম পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং তা কার্যকর করা হবে।