বিগ বস এমন একটি অনুষ্ঠান যার জনপ্রিয়তা দর্শকদের মধ্যে চিরকালই একই রকম। এই বছর হিন্দি বিগ বসের ২০ তম সিজন চলছে। বিগত কিছু পর্বে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল বিগ বস প্রতিযোগী আসিফ খান এবং কাজী তৌকিরের মধ্যে তুমুল অশান্তি। কাজীর ‘আমার হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে’, এই মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়ে যায় বিতর্ক। যদিও পরে তিনি বলেন যে তিনি নিজেকে নিয়ে মজা করেছিলেন আসিফের শারীরিক সমস্যা নিয়ে উপহাস করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না তার, কিন্তু দর্শকরা এই মন্তব্যকে ভীষণভাবে আপত্তিকর বলে মনে করেন।

আসিফের শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে যখন মানুষের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে ঠিক তখনই আসিফের স্ত্রী জেবা এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে একটি আবেগঘন পোস্ট করেন যেখানে তিনি জানান, গত বছর ৩৪ বছর বয়সে আসিফ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আর সেই সময় হাসপাতালের বেড থেকে একটি ছবিও তিনি শেয়ার করেছিলেন।
আরও পড়ুন: পুজোর মরসুমেই দ্বিতীয় কন্যাকে দেখালেন দীপিকা, প্রকাশ্যে আনলেন নামও
আসিফের স্ত্রী যে পোস্ট করেন সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি চুপ ছিলাম কারণ আমি ভেবেছিলাম একটা সময় মানুষ এই বিষয়টি ভুলে যাবে কিন্তু আমার স্বামী এবং আমার পরিবারের প্রতি যে অভিযোগ এবং নেতিবাচকতা তৈরি হয়েছে তার জন্য আমি মুখ খুলতে বাধ্য হলাম। আসিফের কষ্ট নিজের চোখে দেখার পর আমি এবং আমার পরিবারের তরফ থেকে মনে হয় যে যে সত্যটা প্রকাশ করা আমাদের কর্তব্য। হ্যাঁ, গত বছর আসিফের হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে।’
জেবা আরও লেখেন, ‘আসিফ যে শারীরিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিল সেটা একেবারে সত্যি। কিন্তু আমি কল্পনাও করতে পারিনি যে এই কথাটা মানুষকে বিশ্বাস করানোর জন্য ব্যক্তিগত বিষয়কে এভাবে জনসম্মুখে আনতে হবে। নিজেকে সত্যি প্রমাণ করার জন্য মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে।’
{{/usCountry}}জেবা আরও লেখেন, ‘আসিফ যে শারীরিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিল সেটা একেবারে সত্যি। কিন্তু আমি কল্পনাও করতে পারিনি যে এই কথাটা মানুষকে বিশ্বাস করানোর জন্য ব্যক্তিগত বিষয়কে এভাবে জনসম্মুখে আনতে হবে। নিজেকে সত্যি প্রমাণ করার জন্য মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে।’
{{/usCountry}}তিনি আরো লেখেন, ‘আসিফ যখন প্রথমে বলেছিল যে এটি হার্ট অ্যাটাক নয়, তখন এটি সম্পূর্ণ ভয় থেকে ও বলেছিল। ও নিজের কাজ নিয়ে ভীষণ চিন্তিত ছিল কারণে এমন গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে আগামী দিনে প্রজেক্ট হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন কাজের সুযোগের দরজা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইন্ডাস্ট্রি, যেখানে প্রতি মুহূর্তেই সুযোগ অনিশ্চিত সেখানে এই ভয় পাওয়াটা খুব বাস্তব।’
আরও পড়ুন: 'উনি মদ খেয়েছেন প্রমাণ করতে পারলে গান গাওয়া ছেড়ে দেব': দলের প্রসঙ্গে মিকা
জেবা সবশেষে লেখেন, ‘ও ছোটবেলায় হার্ট অ্যাটাকে ওর বাবাকে হারিয়েছিল। এই ব্যাপারটা নিয়ে ও ভীষণ ভয়ে ছিল। আমার এখনো মনে আছে চিকিৎসকরা আমাকে বলেছিল, ওর প্রধান করনারি ধমনী পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেই সময় ওকে আগলে রাখা বা ওর ভবিষ্যৎ হারানোর ভয়ে ওর চিন্তা সবকিছু মিলিয়ে খুব খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।’
‘তবে ওর স্বাস্থ্যকে এইভাবে উপহাসের পাত্র করে তোলে আবার ওর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা সত্যি বেদনাদায়ক। বিগ বস একটি বিনোদনমূলক রিয়ালিটি শো, কবে থেকে বিনোদন নিষ্ঠুরতার অজুহাত হয়ে গেলে জানা নেই। কবে থেকে মতবিরোধ কারোর জীবনকে শেষ করে দেওয়ার হুমকির লক্ষ্যবস্তু বানানোর কারণ হয়ে গেল সেটাও জানা নেই। সমালোচনা অবশ্যই নিষ্ঠুরতা নয় কিন্তু মতবিরোধ হলেই কারোর ক্ষতি কামনা করা উচিত নয়’ যোগ করেন জেবা।