Rajkumar Hirani: ২০২৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল রাজকুমার হিরানি পরিচালিত ‘ডাঙ্কি’। এই ছবিটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে একটা আলাদা প্রত্যাশা ছিল কারণ রাজকুমার পরিচালিত প্রায় প্রত্যেকটি ছবি বক্স অফিসে হিট প্রমাণিত হয়েছিল। কিন্তু রাজকুমার এবং শাহরুখের এই যুগলবন্দী একেবারেই মন কাড়তে পারেনি দর্শকদের।
Rajkumar Hirani: ২০২৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল রাজকুমার হিরানি পরিচালিত ‘ডাঙ্কি’। এই ছবিটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে একটা আলাদা প্রত্যাশা ছিল কারণ রাজকুমার পরিচালিত প্রায় প্রত্যেকটি ছবি বক্স অফিসে হিট প্রমাণিত হয়েছিল। কিন্তু রাজকুমার এবং শাহরুখের এই যুগলবন্দী একেবারেই মন কাড়তে পারেনি দর্শকদের।কেন এই সিনেমাটি বক্স অফিসে জাদু দেখাতে পারল না? এবার এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন পরিচালক নিজেই।
শাহরুখ থাকা সত্ত্বেও কেন ডাঙ্কি ছাপ ফেলতে পারেনি দর্শকদের মনে
সম্প্রতি, সঞ্জয় অরোরার ইউটিউব চ্যানেলে অতিথি হয়ে এসেছিলেন রাজকুমার। বিভিন্ন কথা প্রসঙ্গে উঠে আসে ‘ডাঙ্কি’ প্রসঙ্গ। ছবির ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরিচালক বলেন, ‘প্রতিটি সিনেমা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন মানুষকে স্পর্শ করে। যখন থ্রি ইডিয়টস তৈরি করা হয়েছিল, তখন সেই সিনেমাটি ছিল শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিয়ে যেটা প্রত্যেক পরিবারকে ছুঁয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে ডাঙ্কি এমন একটি সিনেমা, যেটা শুধুমাত্র অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আমি আমেরিকায় এবং কানাডা থেকে এমন অনেক মানুষের থেকে বার্তা পেয়েছিলাম যারা এমন কিছুর সম্মুখীন হয়েছিল এবং যাদের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তারা আমাকে জানিয়েছিলেন, দেশ ছেড়ে আসার যন্ত্রণা প্রতিমুহূর্তে তাদের কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। দেশে থাকলেই তারা ভালো করতেন, এমনটাই মত ছিল তাঁদের।’
সিনেমার বিষয়বস্তু এবং মূল দর্শকদের মধ্যে তৈরি হওয়া ব্যবধানের কথা স্বীকার করে রাজকুমার বলেন, ‘আমাদের সিনেমার দর্শক মূলত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর যারা সহজে ভিসা পেয়ে যান। কিন্তু এমন কিছু জনগোষ্ঠী আছেন যাদের ভিসা কোনমতেই অনুমোদিত হয় না। মার্কিন ভিসা পেলে আমরা ঘুরতে যাই কিন্তু অনেকেই আছেন যাদের ব্যাংক ব্যালেন্স নেই, তারা কি করবেন? তাহলে তারা যেখানে জন্মেছেন সেখানেই থাকতে বাধ্য, ভ্রমণের কোন সুযোগ কাদের কাছে নেই। আমার মনে হয় এমন কিছু মানুষ এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারবেন।’
দর্শকদের থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও সিনেমাটি তৈরি করা নিয়ে কোনও হতাশা কখনো কাজ করেনি রাজকুমারের মনে। তিনি জানিয়েছেন, ‘এমন নয় যে কেউ সিনেমাটির সঙ্গে একাত্ম হতে পারেননি। তিনি নিজে এই সিনেমাটি নিয়ে ভীষণ গর্বিত। কিন্তু যদি একটি বিষয়বস্তুর সঙ্গে বেশিরভাগ মানুষ নিজেকে মেলাতে না পারেন তাহলে সেই সিনেমা দর্শকদের মনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে না। প্রত্যেক চলচ্চিত্র নির্মাতা জীবনেই এমন একটি গ্রাফ থাকে, যখন চলচ্চিত্র বৃহত্তর দর্শককে প্রভাবিত করে না।’