শাহরুখ খানের কেরিয়ারের একদম প্রথমদিকে যে তারকারা তাঁর পাশে অভিভাবকের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নানা পাটেকর। খুব স্বাভাবিকভাবেই বহু বছরের এই বন্ধুর প্রয়াণে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন স্বয়ং কিং খান। রাজু বান গেয়া জেন্টলম্যান ছবির সেই সহকর্মীকে চিরকালের মতো হারিয়ে শোকোস্তব্ধ শাহরুখ।

৮ অক্টোবর, চিরকালের জন্য না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন নানা পাটেকর। অভিনেতার এই মৃত্যুতে গোটা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি, শোকোস্তব্ধ। এদিন সন্ধ্যায় সহকর্মীর কথা স্মরণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন শাহরুখ, যেখানে তিনি সকলকে জানান কীভাবে কেরিয়ারের শুরুর দিকে তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন নানা পাটেকর।
আরও পড়ুন: ট্রেলার মুক্তির আগেই নেতিবাচকতা ছড়ানোর চেষ্টা, ‘দেশু ৭’-এর ভাগ্য দর্শকদের হাতে ছাড়লেন দেব
১৯৯২ সালে ‘রাজু বান গ্যায়া জেন্টলম্যান’ ছবিতে নানার সঙ্গে নানার সঙ্গে একটি স্থিরচিত্র পোস্ট করে শাহরুখ খান লেখেন, ‘যখন ওঁর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়, বিস্ময় আর অস্বস্তিতে ছিলাম আমি। বারবার চুলে হাত দিচ্ছিলাম। উনি আমার হাত ধরে বলেছিলেন, হিরোর মত চুল ঠিক করা বন্ধ কর, তুই একজন অভিনেতা।’
নানা পাটেকরের স্পষ্টবাদী স্বভাব নিয়ে শাহরুখ লেখেন, উনি কাউকে তোষামোদ করতেন না। আপনি যা শুনতে চাইছেন সেটা কিন্তু উনি বলতেন না বরং আপনার যা শোনা প্রয়োজন সেটাই উনি বলতেন। উনি ভীষণ স্পষ্টবাদী ছিলেন। হয়তো রুক্ষ ছিলেন কিন্তু বড্ড বেশি সৎ ছিলেন। ওনার ভালোবাসা দেখানোর একটা অন্যরকম ভঙ্গি ছিল। প্রথমে উনি আপনার উপর চিৎকার করবেন, কিন্তু তারপর আপনি বুঝতে পারবেন এটাই ওর ভালবাসার ধরন।
{{/usCountry}}নানা পাটেকরের স্পষ্টবাদী স্বভাব নিয়ে শাহরুখ লেখেন, উনি কাউকে তোষামোদ করতেন না। আপনি যা শুনতে চাইছেন সেটা কিন্তু উনি বলতেন না বরং আপনার যা শোনা প্রয়োজন সেটাই উনি বলতেন। উনি ভীষণ স্পষ্টবাদী ছিলেন। হয়তো রুক্ষ ছিলেন কিন্তু বড্ড বেশি সৎ ছিলেন। ওনার ভালোবাসা দেখানোর একটা অন্যরকম ভঙ্গি ছিল। প্রথমে উনি আপনার উপর চিৎকার করবেন, কিন্তু তারপর আপনি বুঝতে পারবেন এটাই ওর ভালবাসার ধরন।
{{/usCountry}}নানার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে শাহরুখ আরও লিখেছেন, ‘উনি ছিলেন একজন পথপ্রদর্শক, একজন শিক্ষক, একজন সমালোচক এবং একজন বন্ধু, যিনি আমাকে এবং তাঁর চারপাশের সবাইকে একের পর এক ক্যারাম খেলায় হারিয়ে দিতেন এবং নিজের জয়গুলো উপভোগ করতেন। নানা, তোমার তীব্রতা, হাসি, পাগলামি এবং ভালোবাসা চিরকাল আমাদের মাঝে থাকবে। আমার শুধু একটাই আফসোস, যদি আমাদের আরও কিছুক্ষণ কথা বলার, আরেকবার তর্ক করার, আরেক কাপ চা খাওয়ার এবং এক দফা ক্যারাম খেলার মতো সময় থাকত।’
সবশেষে তিনি লেখেন, 'আপনি শুধু সিনেমার জগতেই নয়, সমস্ত ভারতীয় এবং বিশ্বের হৃদয়েও এক শূন্যতা রেখে গেলেন। আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি, আমি আপনাকে খুব মিস করব এবং আপনার কথাগুলো আমৃত্যু আমার হৃদয়ে বহন করব.... 'হিরো হতে গিয়ে অভিনেতাকে হারিয়ে ফেলো না'।'
আরও পড়ুন: 'সাবিত্রী আন্টির সঙ্গে ৫ মিনিটের জন্য বসা যায় না', কেন এমন কথা বললেন প্রসেনজিৎ?
'আপনার আত্মা শান্তিতে থাকুক নানা এবং আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুন। আপনাকে পেয়ে স্বর্গ ধন্য হবে... একজন নিপুণ অভিনেতা এবং এক অপরাজেয় ক্যারাম চ্যাম্পিয়ন। আপনাকে ভালোবাসি এবং খুব মিস করি!! খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলে আমার হিরো অভিনেতা! শান্তিতে বিশ্রাম নাও।'