তারকা খসল ঘাসফুলের! ‘হেরে ভূত’ সোহম-সায়ন্তিকা-রাজ-লাভলি, পদ্মঝড়ে দিশেহারা তৃণমূল
বাংলায় বইল প্রবল পদ্মঝড়! নির্বাচনী লড়াইয়ে ধরাশায়ী সোহম, সায়ন্তিকা, রাজ ও লাভলি। টলিউড তারকাদের ম্যাজিক কি তবে শেষ? তৃণমূলের তারকা প্রার্থীদের ভরাডুবির আসল কারণ ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ পড়ুন এখানে।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল স্পষ্ট হতেই দেখা গেল, রূপোলি পর্দার গ্ল্যামার বা পরিবারের পরিচিতি দিয়ে আর বাংলার মানুষের ভোট জেতা সম্ভব নয়। আরজি কর আবহে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবার ব্যালট বাক্সে আছড়ে পড়েছে। শাসকদলের হেভিওয়েট তারকা প্রার্থীরা কেবল হারলেনই না, বরং হারের ব্যবধান বুঝিয়ে দিল ভোটারদের মোহভঙ্গ হয়েছে।

বরাহনগরে সজল-ঝড়, সায়ন্তিকার ভরাডুবি:
বরাহনগর কেন্দ্রে এবার কড়া টক্কর ছিল। কিন্তু গণনার শেষে দেখা গেল বিজেপির সজল ঘোষের কাছে ১৬,৯৫৬ ভোটে পরাজিত হয়েছেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপনির্বাচনের জয় ধরে রাখতে ব্যর্থ সায়ন্তিকা এবারও ‘পরাজিত’ তকমা নিয়েই মাঠ ছাড়লেন।
সোনারপুরে রূপার দাপট, ধরাশায়ী লাভলি:
সোনারপুর দক্ষিণে দুই অভিনেত্রীর লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলেন অভিজ্ঞ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ই। বিদায়ী বিধায়ক লাভলি মৈত্রকে তিনি হারালেন বিশাল ৩৫,৭৮২ ভোটে। রূপার এই বিপুল ব্যবধানের জয় প্রমাণ করল সোনারপুরের মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
মানিকতলায় মুখ থুবড়ে পড়ল ‘সহানুভূতি’ কার্ড:
প্রয়াত সাধন পাণ্ডের গড়ে এবার তাঁর মেয়ে শ্রেয়া পাণ্ডেকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। কিন্তু মানিকতলার মানুষ এবার আর আবেগ বা পারিবারিক ঐতিহ্যের পথে হাঁটেননি। বিজেপির হেভিওয়েট নেতা তাপস রায়ের কাছে ১৫,৬৪৪ ভোটে হেরে গেলেন শ্রেয়া। তাপস রায়ের এই জয় বুঝিয়ে দিল উত্তর কলকাতার রাজনীতিতে তাঁর দখল আজও অটুট।
ব্যর্থ অদিতি ও সোহমও:
রাজারহাট-গোপালপুরে বিজেপির তরুণজ্যোতি তিওয়ারির কাছে পরাস্ত হয়েছেন গায়িকা অদিতি মুন্সী। একইভাবে নদিয়ার করিমপুর কেন্দ্রে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীকেও হারের মুখ দেখতে হয়েছে। পরাজয় নিশ্চিত হতেই গণনাকেন্দ্র থেকে কার্যত ‘মুখ লুকিয়ে’ বেরিয়ে যান এই তারকা প্রার্থীরা।
বিশ্লেষণ:
রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্নীতির অভিযোগ এবং আমজনতার সুবিধা-অসুবিধা থেকে তারকা বিধায়কদের দূরত্বই এই হারের প্রধান কারণ। মানুষ এবার ‘পার্ট টাইম’ রাজনীতিবিদের বদলে ২৪ ঘণ্টার জনপ্রতিনিধি বেছে নিতে চেয়েছেন।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


