মঙ্গলবার আচমকাই শুনতে পাওয়া যায়, 'এরাও মানুষ দ্যা সার্চ উইদিন' - এর সেটে সকলের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন জীতু কমল। পরিচালকের অভিযোগ, ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে চাননি অভিনেতা, এমনকি অতিরিক্ত পারিশ্রমিকও দাবি করেছিলেন তিনি। যদিও এই অভিযোগ ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেন জীতু, যেখানে সেটে এক সহকারীকে বলতে শোনা যায়, উত্তেজনার বশে গালাগালি দিয়ে ফেলেছেন পরিচালক।

জীতু যখন এই নতুন সমস্যায় জর্জরিত, ঠিক তখনই অভিনেতার পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন অভিনেত্রী সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। কিছুদিন আগেই সুদীপার স্বামী অর্থাৎ অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়ের ‘চোর’ ছবিতে অভিনয় করেছেন জীতু। খুব স্বাভাবিকভাবেই বিগত বেশ কিছু দিনে অভিনেতাকে খুব কাছ থেকে চিনেছেন সুদীপা। এবার এই কঠিন সময়ে জীতুর হয়ে কিছু কথা লিখলেন অভিনেত্রী।
আরও পড়ুন: ‘অভিমান’-এর সেটে কাটা হল দুটি জন্মদিনের কেক, একটি যিশুর, অন্যটি?
সুদীপা লেখেন, ‘জীতু, বিতর্ক যাকে পিছু ছাড়ে না। এমন একটা নাম। আমার সঙ্গে জীতুর ঝগড়া সপ্তাহে একদিন বাঁধা থাকে। আবার পরের দিন থেকে, যেন কিছুই হয়নি এরকম করে ভাব হয়ে যায়। আমি আজ প্রায় ২০ বছর ধরে এই বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে দিয়ে অনেক ঘটনার সাক্ষী হয়ে থেকেছি। কোনওদিনও, কোনও বিষয়ে কোনও মন্তব্য করিনি।’
অভিনেত্রী লেখেন, ‘আজকে মনের ভেতর থেকে একটা তাগিদ অনুভব করে বাধ্য হয়ে এই লেখাটা সবার কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। জীতু মানুষ হিসাবে কেমন? একটু ইন্ট্রোভার্ট, ভীষণভাবে আবেগপ্রবণ, পুরোটাই স্পিরিচুয়াল, প্রচার বিমুখ, আদ্যপ্রান্ত একজন প্রাইভেট মানুষ।’
{{/usCountry}}অভিনেত্রী লেখেন, ‘আজকে মনের ভেতর থেকে একটা তাগিদ অনুভব করে বাধ্য হয়ে এই লেখাটা সবার কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। জীতু মানুষ হিসাবে কেমন? একটু ইন্ট্রোভার্ট, ভীষণভাবে আবেগপ্রবণ, পুরোটাই স্পিরিচুয়াল, প্রচার বিমুখ, আদ্যপ্রান্ত একজন প্রাইভেট মানুষ।’
{{/usCountry}}এ তো গেল ব্যক্তিগতভাবে জীতু কেমন, কিন্তু পেশাগতভাবে? সেটাও লিখেছেন অভিনেত্রী। সুদীপার কথায়, ‘জীতু অত্যন্ত সহযোগী, বাধ্য, শ্রদ্ধাশীল, সংবেদনশীল এবং বুদ্ধিমান, চাহিদা বিহীন একজন অভিনেতা।' অভিনেতার সহযোগিতা ছাড়া যে ৯ দিনে ‘চোর’ সিনেমার শ্যুটিং শেষ করা যেত না, সেটাও লিখেছেন সুদীপা।
অগ্নিদেব পত্নী জীতুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে লেখেন, ‘ও চুপচাপ একটা চেয়ার পেতে বাইপাসের খোলা রাস্তায় বসে থেকেছে, অপেক্ষা করেছে। রেললাইনের ধারে ঘুমিয়ে পড়েছে, তবু পরিচালক না বলা অবধি সেট ছেড়ে বেরিয়ে যায় নি। রোজ ওকে বলতে হত, জীতু তুমি ঘুমাও। আর কাজ করো না।’
আরও পড়ুন: এক দিনেই বন্ধ টেকনিশিয়ানদের স্বাস্থ্যসাথী রেজিস্ট্রেশনের কাজ, 'আমি ক্ষমাপ্রার্থী...', বললেন দেব
সবশেষে সুদীপা সকলের উদ্দেশ্যে লেখেন, ‘এবার আমাদের অর্থাৎ আর্টিস্টদের সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার সময়। শ্যুটিংয়ে একমাত্র অভিনেতা হল অপরিহার্য, তার কোনও সহকারী নেই, যে তার হয়ে কাজটা করে দেবে। তাই অভিনেতা-অভিনেত্রীদের এই প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতেই হবে।’