কাল তো দোল, এখনও রং কেনেননি? তাহলে আজই বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন হার্বাল কালার, ত্বকেরও উপকার হবে
বাড়িতেই বানাতে পারেন দোলের রং। ভেষজ আবির বানানোর সহজ উপায় কী কী? জেনে নিন এখনই।
বসন্তের রঙিন উৎসব দোলযাত্রা বা হোলি দোরগোড়ায়। আগামিকালই রঙের উৎসবে মাতবেন সব বয়সের মানুষ। কিন্তু বাজারের সস্তা ও রাসায়নিকযুক্ত রং বা আবির নিয়ে চিন্তা থাকে সবার মনেই। কৃত্রিম রঙে থাকা লেড অক্সাইড, কপার সালফেট বা পারদের মতো ক্ষতিকর উপাদান ত্বক, চোখ এবং চুলের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই এবারের দোল হোক নিরাপদ এবং প্রাকৃতিক।

আপনার রান্নাঘরে থাকা সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়েই আজ বাড়িতে বানিয়ে ফেলুন চমৎকার হার্বাল রং বা ভেষজ আবির। কীভাবে বানাবেন এবং এর সুবিধা কী কী, তা জেনে নিন।
(আরও পড়ুন: আগামিকাল দোলযাত্রা, প্রিয়জনদের রঙের উৎসবের শুভেচ্ছা জানান আজই, কী লিখবেন জেনে নিন)
উৎসবের আনন্দ তখন বিষাদে পরিণত হয়, যখন রঙের অ্যালার্জি বা র্যাশের কারণে আমাদের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়। বিশেষ করে শিশুদের কোমল ত্বকের জন্য রাসায়নিক রং অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই সমস্যার সমাধান লুকিয়ে আছে আমাদের প্রকৃতিতে। ভেষজ রং যেমন পরিবেশবান্ধব, তেমনই এটি ব্যবহারের পর ত্বক থেকে তোলাও খুব সহজ।
বাড়িতে হার্বাল রং তৈরির সহজ উপায়
ভেষজ আবির তৈরির মূল ভিত্তি হিসেবে আপনি অ্যারারুট পাউডার (Arrowroot Powder), কর্নফ্লাওয়ার বা ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। নিচে বিভিন্ন রঙের তৈরির পদ্ধতি দেওয়া হলো:
১. হলুদ আবির:
হলুদ রং তৈরি করা সবথেকে সহজ। কর্নফ্লাওয়ার বা অ্যারারুট পাউডারের সঙ্গে ভালো মানের হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। যদি উজ্জ্বল হলুদ চান, তবে এতে সামান্য গাঁদা ফুলের পাপড়ি বাটা মেশাতে পারেন। মিশ্রণটি শুকিয়ে গেলে চালনি দিয়ে চেলে নিলেই তৈরি আপনার ভেষজ হলুদ আবির।
২. গোলাপি বা লাল আবির:
বিটরুট বা বিট হলো লাল রঙের সেরা উৎস। বিট গ্রেট করে তার রস বের করে নিন। এবার এই রস অ্যারারুট পাউডারের সঙ্গে ভালো করে মাখিয়ে রোদে শুকিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে এটি গুঁড়ো করে নিলেই পাবেন খাসা গোলাপি বা লাল রং। এছাড়া শুকনো লাল গোলাপের পাপড়ি গুঁড়ো করেও মেশাতে পারেন সুন্দর সুগন্ধের জন্য।
৩. সবুজ আবির:
সবুজ রঙের জন্য ব্যবহার করুন পালং শাক বা নিম পাতা। পালং শাকের পেস্ট তৈরি করে তার রস পাউডারের সঙ্গে মেশান। নিম পাতা ব্যবহার করলে রঙের পাশাপাশি এটি ত্বকের জন্য অ্যান্টি-সেপটিক হিসেবেও কাজ করবে। মেহেদি পাতার গুঁড়ো ব্যবহার করেও সুন্দর কলাপাতা সবুজ রং তৈরি করা সম্ভব।
৪. নীল আবির:
নীল রং তৈরি করতে নীল অপরাজিতা ফুল ফুটিয়ে সেই জল ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া বাজারে পাওয়া ভেষজ নীল (Indigo) গুঁড়ো পাউডারের সঙ্গে মিশিয়েও নীল আবির তৈরি করা যায়।
(আরও পড়ুন: হোলিকা দহনের দিনে কী ঘটেছিল? কীভাবে ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় রক্ষা পান ভক্ত প্রহ্লাদ, জেনে নিন সেই গল্প)
ভেষজ রং ব্যবহারের সুবিধা
১. ত্বকের সুরক্ষা: হার্বাল রঙে কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে না। ফলে ত্বক জ্বালা করা, র্যাশ বের হওয়া বা চুলকানির ভয় থাকে না। সংবেদনশীল ত্বকের মানুষের জন্য এটি আদর্শ।
২. চোখ ও চুলের যত্ন: রাসায়নিক রং চোখে গেলে কর্নিয়ার ক্ষতি হতে পারে। ভেষজ রং প্রাকৃতিক হওয়ায় এতে বিপদের ঝুঁকি অনেক কম। এছাড়া এটি চুল রুক্ষ করে দেয় না।
৩. সহজে পরিষ্কার হয়: বাজারের পাকা রং তুলতে সাবান দিয়ে ঘষাঘষি করতে হয়, যা ত্বকের ক্ষতি করে। ভেষজ রং সাধারণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেললেই সহজে উঠে যায়।
৪. পরিবেশবান্ধব: এই রং জলে মিশলে জলজ প্রাণীর ক্ষতি হয় না এবং মাটি দূষণ করে না।
৫. সাশ্রয়ী: বাড়িতে থাকা ফেলে দেওয়া জিনিস বা সস্তা প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি হওয়ায় এটি বাজারের দামি ভেষজ আবিরের চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী।
(আরও পড়ুন: ন্যাড়াপোড়া শব্দটা এল কোথা থেকে? দোলযাত্রার আগের রাতে এটি করা হয় কেন)
দোল মানেই অশুভ শক্তির বিনাশ আর প্রীতির বন্ধন। সেই উৎসবে বিষাক্ত রাসায়নিকের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়। আজই বাড়িতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে মেতে উঠুন এই ভেষজ রং তৈরির আনন্দে। নিজের হাতে বানানো রঙে প্রিয়জনকে রাঙিয়ে দেওয়ার তৃপ্তিই আলাদা।
E-Paper











