Arunachal Siang Dam Project Violence: অরুণাচল প্রদেশে তড়িঘড়ি সিআরপিএফের দু'কোম্পানি র্যাফ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে প্রস্তাবিত সিয়াং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প-বিরোধী বিক্ষোভের সময় পাসিঘাটে যে হিংসা ছড়িয়েছে, তার প্রেক্ষিতে আকাশপথে দু'কোম্পানি র্যাফ উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নবি মুম্বই থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফটে করে পাসিঘাটে নিয়ে গিয়ে আজই মোতায়েন করে দেওয়া হবে দু'কোম্পানি র্যাফকে (প্রতিটি কোম্পানিতে ২৫০ জন থাকেন মোটামুটি)।
হিংসা সামাল দিয়েছে অরুণাচলে থাকা CRPF

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে ইতিমধ্যে হিংসা-কবলিত এলাকায় সিআরপিএফের একাধিক ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। অরুণাচলে এমনিতে স্থায়ীভাবে সিআরপিএফের দুই-তিন ব্যাটেলিয়ন মোতায়েন করা থাকে। শুক্রবার ওই ব্যাটেলিয়নের সদস্যরাই বিক্ষোভ সামাল দিয়েছেন। পরিস্থিতি যাতে পুরোপুরি হাতের বাইরে বেরিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করেছেন। তারইমধ্যে একাধিক পুলিশ অফিসার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন।
আগুন ধরানো হয়, ভাঙচুর চালানো হয়
অরুণাচলের পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে পূর্ব সিয়াং জেলায় ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেডের (এনএইচপিসি) একটি অফিস এবং একটি থানায় আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। রাজ্য বিজেপির সভাপতি-সহ তিন রাজনীতিবিদের বাড়িতে চলে ভাঙুচর।
শান্তি বজায় রাখার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
সেই হিংসার ঘটনার নিন্দা করে অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু জানিয়েছেন, গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ। কিন্তু সেই বিক্ষোভ বা আন্দোলন করা উচিত আইনের সীমার মধ্যেই থেকে। এমন কোনও কাজ করা উচিত নয়, যাতে সম্পত্তি নষ্ট নয় বা আইন-শৃঙ্খলা ব্যাহত হয়। পাসিঘাটে যা হয়েছে, তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। সেইসঙ্গে সমাজের সকল স্তরের মানুষের প্রতি শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী।
{{/usCountry}}সেই হিংসার ঘটনার নিন্দা করে অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু জানিয়েছেন, গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ। কিন্তু সেই বিক্ষোভ বা আন্দোলন করা উচিত আইনের সীমার মধ্যেই থেকে। এমন কোনও কাজ করা উচিত নয়, যাতে সম্পত্তি নষ্ট নয় বা আইন-শৃঙ্খলা ব্যাহত হয়। পাসিঘাটে যা হয়েছে, তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। সেইসঙ্গে সমাজের সকল স্তরের মানুষের প্রতি শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী।
{{/usCountry}}অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে সিয়াং, আপার সিয়াং এবং পূর্ব সিয়াংয়ে যে ১২ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল, তা শুক্রবার মোটের উপরে শান্তই ছিল। কিন্তু বনধ উঠে যাওয়ার পরে পাসিঘাটে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার ভোররাত পর্যন্ত চলে অশান্তি।
কী কারণে সিয়াং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বিরোধিতা?
অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং জেলায় সিয়াং নদীর উপরে ১১,২০০ মেগাওয়াটের সেই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যে নদী থেকে তিব্বত উৎপন্ন হয়ে অরুণাচলে প্রবেশ করে অসমের দিকে চলে যায়। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সেই প্রকল্পের ফলে তাঁদের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি জলের তলায় যেতে পারে। বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে তাঁদের ঐতিহ্য, ইতিহাস। সরকারের তরফে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।