ডাইনোসরের আগে থেকে পৃথিবীতে আছে এই মাছগুলি! এর মধ্যে একটি তো সকলেরই চেনা
ডাইনোসররা প্রায় সাড়ে ৬ কোটি বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে গেলেও, প্রকৃতি কিছু প্রাণীকে অলৌকিকভাবে টিকিয়ে রেখেছে। তার মধ্যে রয়েছে এই অদ্ভুত ৮ মাছ।
পৃথিবীর বিবর্তনের ইতিহাসে ডাইনোসরদের যুগকে আমরা সবথেকে প্রাচীন এবং রহস্যময় বলে মনে করি। কিন্তু সমুদ্রের অতল গভীরে আজও এমন কিছু প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে, যারা ডাইনোসরদের জন্মের লক্ষ লক্ষ বছর আগে থেকেই এই পৃথিবীতে বিচরণ করছে। মানি-কন্ট্রোল (Moneycontrol)-এ প্রকাশিত একটি ভিজ্যুয়াল স্টোরি অবলম্বনে আজ আমরা চিনে নেব এমন ৮টি মাছের প্রজাতিকে, যারা আক্ষরিক অর্থেই 'জীবন্ত জীবাশ্ম' (Living Fossils)।

পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ ও বিলুপ্তির চক্র কোটি কোটি বছর ধরে চলছে। ডাইনোসররা প্রায় সাড়ে ৬ কোটি বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে গেলেও, প্রকৃতি কিছু প্রাণীকে অলৌকিকভাবে টিকিয়ে রেখেছে। এই মাছগুলো পাঁচটি বড় ধরণের 'ম্যাস এক্সটিংশন' বা মহাবিলুপ্তি কাটিয়ে আজও টিকে আছে।
(আরও পড়ুন: আকাশছোঁয়া গ্যাসের দাম! রান্নায় আনুন এই সামান্য বদল, মাসের শেষে বাঁচবে বিপুল টাকা)
১. সিলোক্যান্থ (Coelacanth)
এই মাছটিকে একসময় মনে করা হতো ডাইনোসরদের সাথেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু ১৯৩৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে এটি হঠাৎ আবিষ্কৃত হয়। বিজ্ঞানীরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করেন যে, ৪২ কোটি বছর আগের ফসিলের সাথে আজকের সিলোক্যান্থের কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। এদের পাখনাগুলো অনেকটা পায়ের মতো শক্তিশালী, যা বিবর্তনের এক অনন্য নিদর্শন।

২. ল্যাম্প্রে (Lamprey)
দেখতে অনেকটা বাইন মাছের মতো হলেও ল্যাম্প্রে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। এদের কোনো চোয়াল নেই, পরিবর্তে রয়েছে গোল ফানেলের মতো মুখ এবং সারিবদ্ধ দাঁত। এরা ৩৬ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে আছে। এরা মূলত পরজীবী হিসেবে অন্য বড় মাছের শরীর থেকে রক্ত চুষে বেঁচে থাকে।

(আরও পড়ুন: এই সময়ের সবচেয়ে রহস্যময় শিল্পী, অবশেষে খসে গেল মুখোশ! আড়ালের মুখটা দেখে হতবাক দুনিয়া)
৩. স্টার্জন (Sturgeon)
স্টার্জন মাছকে 'বিবর্তনের জয়ী' বলা হয়। প্রায় ২০ কোটি বছর আগে থেকে এদের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এদের শরীর হাড়ের মতো শক্ত আবরণে ঢাকা থাকে। আজ আমরা যে দামি 'ক্যাভিয়ার' (মাছের ডিম) খাই, তা মূলত এই স্টার্জন মাছেরই। তবে বর্তমানে চোরাশিকারের কারণে এই প্রজাতিটি বিলুপ্তির পথে।

৪. হ্যাগফিশ (Hagfish)
হ্যাগফিশ বা ‘স্লাইম ইল’ প্রায় ৩০ কোটি বছর ধরে সমুদ্রের তলদেশে বাস করছে। এদের বিশেষত্ব হলো আত্মরক্ষার জন্য এরা প্রচুর পরিমাণে আঠালো পিচ্ছিল পদার্থ (Slime) নিঃসরণ করতে পারে। এদের কোনো মেরুদণ্ড নেই, কেবল একটি আদিম কঙ্কাল রয়েছে।

৫. প্যাডেলফিশ (Paddlefish)
প্যাডেলফিশের বিশেষত্ব হলো এদের থুতনির মতো লম্বা নাক, যা দেখতে অনেকটা নৌকার দাঁড়ের মতো। প্রায় ১২ কোটি বছর আগে থেকে এদের বিচরণ। এই লম্বা নাকের সাহায্যে এরা জলে বৈদ্যুতিক তরঙ্গ অনুভব করে শিকার খুঁজে পায়।

৬. এলিগেটর গার (Alligator Gar)
দেখতে অনেকটা কুমিরের মতো লম্বা মুখ বিশিষ্ট এই মাছটি উত্তর আমেরিকায় পাওয়া যায়। প্রায় ১০ কোটি বছর আগে থেকে এদের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। এরা খুব প্রতিকূল পরিবেশেও ডাঙায় এসে শ্বাস নিতে পারে।

৭. লাংফিশ (Lungfish)
লাংফিশ বা ফুসফুসধারী মাছ বিবর্তনের এক আশ্চর্য বিস্ময়। প্রায় ৪০ কোটি বছর আগে এদের উদ্ভব। এদের ফুলকার পাশাপাশি ফুসফুসও রয়েছে। খরা বা জলের অভাব হলে এরা মাটির নিচে গর্ত করে বছরের পর বছর ঘুমিয়ে থাকতে পারে।

৮. হাঙ্গর (Shark)
অনেকেই জানেন না যে হাঙ্গররা ডাইনোসরদের চেয়েও অনেক বেশি পুরনো। প্রায় ৪০ কোটি বছর আগে হাঙ্গরদের প্রথম পূর্বপুরুষদের দেখা মেলে। তারা একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় সহ্য করেও সমুদ্রের রাজা হিসেবে টিকে আছে।
(আরও পড়ুন: গরম পড়তেই দুপুরবেলা মাটিতে শুয়ে পড়ছেন? শরীরের কী হচ্ছে এতে)

এই মাছগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃতি কতটা সহনশীল। ডাইনোসররা পৃথিবী শাসন করে হারিয়ে গেলেও এই ৮টি প্রজাতি আজও তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানুষের অত্যধিক মাছ ধরার ফলে আজ এই 'জীবন্ত জীবাশ্ম'রা সংকটে। আমাদের কর্তব্য এই আদিম প্রাণীদের রক্ষা করা, যাতে আগামী প্রজন্মও পৃথিবীর এই ইতিহাসকে চাক্ষুষ করতে পারে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


