এই সময়ের সবচেয়ে রহস্যময় শিল্পী, অবশেষে খসে গেল মুখোশ! আড়ালের মুখটা দেখে হতবাক দুনিয়া
পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় শিল্পী। এত দিন তাঁর পরিচয় কেউ জানতেন না। অথচ নিত্য শিল্প সৃষ্টি করে যেতেন তিনি। কে এই মানুষটি? অবশেষে প্রকাশ্যে পরিচয়।
বিশ্বখ্যাত স্ট্রিট আর্টিস্ট ব্যাঙ্কসি (Banksy)—এই নামটির আড়ালে কে লুকিয়ে আছেন, তা নিয়ে গত কয়েক দশক ধরে বিশ্বজুড়ে জল্পনার অন্ত নেই। সম্প্রতি বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যম ব্যাঙ্কসির আসল পরিচয় উন্মোচনের চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের রহস্যের যবনিকা টেনে দাবি করা হচ্ছে, এই রহস্যময় শিল্পী আর কেউ নন, বরং এক পরিচিত ব্যক্তি।

(আরও পড়ুন: কলকাতার এই জায়গাগুলি নিয়ে আছে গা ছমছমে গল্প! ভূতের ভয়ে রাতে অনেকেই এড়িয়ে যান জায়গাগুলি)
স্ট্রিট আর্ট বা গ্রাফিতির জগতে ব্যাঙ্কসি এক জীবন্ত কিংবদন্তি। যুদ্ধ, পুঁজিবাদ এবং সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁর ব্যঙ্গাত্মক ছবিগুলো রাতারাতি কোনো দেওয়াল বা ব্রিজের নিচে ভেসে ওঠে। কিন্তু তিনি নিজে কখনোই জনসমক্ষে আসেননি। তবে সম্প্রতি এক আইনি লড়াই এবং পুলিশি রেকর্ডের সূত্রে দাবি করা হচ্ছে যে, 'ডেভিড জোনস' বা 'ব্যাঙ্কসি' আসলে রবিন গানিংহাম।
রহস্যের সূত্রপাত ও পুলিশি স্বীকারোক্তি
ব্যাঙ্কসির পরিচয় নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে দুটি নাম আলোচনায় ছিল—রবিন গানিংহাম এবং রবার্ট ডেল নাজা। তবে সাম্প্রতিক তথ্যে গানিংহামের পাল্লাই ভারী। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকে ব্রিস্টলে গ্রাফিতি করার অপরাধে পুলিশ এক যুবককে আটক করেছিল। সেই সময় পুলিশি নথিতে যে নাম ও বিবরণ নথিভুক্ত হয়েছিল, তার সাথে রবিন গানিংহামের হুবহু মিল পাওয়া যায়।
সবচেয়ে বড় চমক আসে যখন এক পুরনো রেডিও সাক্ষাৎকারে ব্যাঙ্কসি নিজেই তাঁর নাম 'রবিন' বলে স্বীকার করেছিলেন বলে জানা যায়। দীর্ঘকাল ধরে এই অডিও ক্লিপটি আড়ালে থাকলেও, সম্প্রতি তা প্রকাশ্যে আসায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে তাঁর পরিচয়।
(আরও পড়ুন: মৃত শিকারিদের অতৃপ্ত আত্মা নাকি আজও ঘুরে বেড়ায় এই পাহাড়ে! জানেন কি আইরি ভূতের কাহিনি? পড়ে নিন গা ছমছমে গল্প)
লুকোচুরি ও ‘হিডেন ইন প্লেন সাইট’
ব্যাঙ্কসি সবসময় চোখের সামনেই ছিলেন, কিন্তু চেনা যায়নি। ২০০৪ সালে জামাইকায় এক পর্যটকের তোলা একটি ছবি ব্যাঙ্কসি রহস্যের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ছবিতে দেখা গিয়েছিল এক ব্যক্তি স্প্রে ক্যান হাতে দেওয়ালে ছবি আঁকছেন। পরবর্তীতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জ্যামিতিক প্রফাইল বিশ্লেষণের মাধ্যমে দাবি করেন, ছবির ওই ব্যক্তিই রবিন গানিংহাম। ব্রিস্টলের কুইন এলিজাবেথ হসপিটাল স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র রবিন নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাড়ি ছেড়ে লন্ডনে চলে আসেন এবং সেখান থেকেই ‘ব্যাঙ্কসি’ হিসেবে তাঁর উত্থান শুরু হয়।
(আরও পড়ুন: একই সঙ্গে ভয়ঙ্কর এবং করুণ ভূত ‘আভি’! তার ইতিহাস ও লোককথা শুনলে চমকে যাবেন)
কেন ব্যাঙ্কসি নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাখেন?
গ্রাফিতি বা দেওয়ালে ছবি আঁকা বিশ্বের অনেক দেশেই বেআইনি বা ‘ভ্যান্ডালিজম’ হিসেবে গণ্য করা হয়। শুরুর দিকে আইনি ঝামেলা এড়াতে এবং গ্রেফতারি এড়াতে তিনি মুখোশ বা ছদ্মনামের আশ্রয় নেন। তবে পরবর্তীতে এই রহস্যই তাঁর শিল্পের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়। তাঁর ছবির দাম কোটি কোটি টাকায় পৌঁছালেও তিনি পর্দার আড়ালেই থেকে যান। এমনকি তাঁর নিজের তৈরি তথ্যচিত্র ‘এগজিট থ্রু দ্য গিফট শপ’-এও তাঁর মুখ অস্পষ্ট করে রাখা হয়েছিল।
আইনি লড়াই ও বর্তমান পরিস্থিতি
সম্প্রতি একটি মানহানি মামলার সূত্রে ব্যাঙ্কসির কোম্পানি ‘পেশ্ট কন্ট্রোল’ (Pest Control)-কে তাঁর আসল নাম প্রকাশ করার জন্য আইনি চাপের মুখে পড়তে হয়। আদালতে জমা দেওয়া নথিতেও রবিন গানিংহামের নাম উঠে এসেছে। যদিও ব্যাঙ্কসি বা তাঁর প্রতিনিধিরা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেননি, তবে আন্তর্জাতিক মিডিয়া এখন প্রায় নিশ্চিত যে ব্রিস্টলের সেই সাধারণ যুবকই আজকের বিশ্বখ্যাত ব্যাঙ্কসি।

(আরও পড়ুন: হিমালয়ের এই এলাকায় ছোট মেয়েদের আজও লাল পোশাক পরতে মানা করা হয়! নাহলেই নাকি ধরবে আছেরি ভূত)
ব্যাঙ্কসি কেবল একজন শিল্পী নন, তিনি একটি আদর্শ। তাঁর পরিচয় রবিন গানিংহাম হোক বা অন্য কেউ, তাঁর সৃষ্টি করা ‘Girl with Balloon’ বা ‘Love is in the Bin’-এর মতো কাজগুলো মানুষের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। পরিচয় ফাঁস হওয়া কি ব্যাঙ্কসির শিল্পের আবেদন কমিয়ে দেবে? উত্তর সম্ভবত ‘না’। কারণ ব্যাঙ্কসি বলেছিলেন, "শিল্পকে এমন হতে হবে যা শান্ত মানুষকে অস্থির করে এবং অস্থির মানুষকে শান্তি দেয়।" সেই উদ্দেশ্য তিনি সফলভাবে পূরণ করে চলেছেন।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


