তামিলনাড়ুর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এক অভাবনীয় নির্বাচনী ইস্তাহার বা প্রতিশ্রুতির কথা ঘোষণা করেছেন বিজয়। দক্ষিণী চলচ্চিত্রের সুপারস্টার এখন তাঁর রাজনৈতিক দল ‘তামিলনাগা ভেট্রি কাজাগাম’-এর প্রধান। রাজনীতিতে পা রেখেই তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে টেক্কা দিতে জনমোহিনী প্রকল্পের ডালি সাজিয়ে বসেছেন। তাঁর সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি— ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মহিলাদের জন্য সোনার কয়েন এবং প্রতিটি পরিবারের জন্য মাসিক নগদ অর্থ প্রদান।
সোনার কয়েন ও মাসিক ভাতার ঘোষণা
বিজয় ঘোষণা করেছেন যে, যদি তাঁর দল TVK তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় আসে, তবে মহিলাদের মাসে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। কিন্তু এখানেই চমকের শেষ নয়। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, রাজ্যের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মহিলাদের জন্য ৮ গ্রামের একটি সোনার কয়েন (এক ভরি) উপহার দেওয়া হবে। দক্ষিণ ভারতে বরাবরই ‘ডোল রাজনীতির’ চল রয়েছে, কিন্তু বিজয়ের এই 'গোল্ড কার্ড' খেলা তামিল রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান
শুধুমাত্র বিনামূল্যে সামগ্রী নয়, থালাপতি বিজয় নজর দিয়েছেন তরুণ প্রজন্মের উপরেও। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তাঁর সরকার গঠন হলে তামিলনাড়ুর প্রতিটি শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীর জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। যতক্ষণ না চাকরি মিলছে, ততক্ষণ তাঁদের জন্য বিশেষ বেকার ভাতার ব্যবস্থা করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। বিজয়ের কথায়, 'তামিলনাড়ুর উন্নয়ন হবে সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে।'
ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-কে চ্যালেঞ্জ
{{/usCountry}}ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-কে চ্যালেঞ্জ
{{/usCountry}}তামিলনাড়ুর রাজনীতি গত কয়েক দশক ধরে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের হাতেই আবর্তিত হয়েছে। কমল হাসান বা রজনীকান্তের মতো তারকারা সেভাবে ছাপ ফেলতে না পারলেও বিজয়ের এই রাজনৈতিক উত্থানকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে রাজনৈতিক মহল। বিজয়ের এই মেগা প্রতিশ্রুতি সরাসরি বর্তমান শাসক দল ডিএমকেকে চাপে ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ডিএমকে বর্তমানে মহিলাদের মাসিক ১,০০০ টাকা করে অনুদান দেয়, সেখানে বিজয় ২,৫০০ টাকার পাশাপাশি সোনার গয়না দেওয়ার কথা বলছেন।
বিজয় ও তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ
নিজের রাজনৈতিক সভায় বিজয় স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর দল জাতি-ধর্মের উর্ধ্বে উঠে 'তামিল অস্মিতা' এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ করবে। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে স্রেফ রাজনীতি করতে আসিনি, আমি এসেছি মানুষের সেবা করতে এবং তামিলনাড়ুকে দুর্নীতির হাত থেকে মুক্ত করতে।’ তবে নির্বাচনের আগে এই ধরনের প্রতিশ্রুতি ভোটারদের কতটা প্রভাবিত করবে, তা সময়ই বলবে। তবে বিজয়ের এই 'সোনার চাল' তামিলনাড়ুর নির্বাচনী লড়াইকে যে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সিনেমার পর্দার সুপারস্টার কি পারবেন তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মঞ্চের আসল 'কিং' হতে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা দেশ।