Liver Disease Symptoms and Prevention: মদ্যপান, স্থূলতা ও ভাইরাল হেপাটাইটিস- লিভারের ৩ নীরব ঘাতক, বিপদের লক্ষণ কী কী?
Liver Disease Symptoms and Prevention: অ্যালকোহল, স্থূলতা এবং ভাইরাল হেপাটাইটিস: লিভারের তিন নীরব ঘাতক থেকে বাঁচবেন কীভাবে? কী কী লক্ষণ দেখা যায়? তা নিয়ে পরামর্শ দিলেন মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি মেডিক্যাল স্পেশালিস্ট বিকাশ প্রকাশ।
Liver Disease Symptoms and Prevention: মানবদেহের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল লিভার। খাবার হজমে সহায়তা করা, রক্ত থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বর্জ্য বের করে দেওয়া, শরীরে শক্তি সঞ্চয়, মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি- সবক্ষেত্রেই লিভারের ভূমিকা আছে। নিজের ক্ষতি সামলে মেরামত করে নিতে পারে নিজেকেই। তবে এই ক্ষমতা চিরস্থায়ী বা অসীম নয়। বছরের পর বছর অসচেতনতা ও ভুল জীবনযাত্রার কারণে বারবার আঘাত পেলে একসময় লিভার তার স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, যার ফলে ঘটে স্থায়ী ক্ষতি।

মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি মেডিক্যাল স্পেশালিস্ট বিকাশ প্রকাশ জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে লিভারের রোগ একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় লিভারের রোগে, যার মধ্যে শুধুমাত্র ভাইরাল হেপাটাইটিসেই মারা যান ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। অন্যদিকে, স্থূলতা ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে ফ্যাটি লিভার রোগ দ্রুত বাড়ছে, যা বহু দেশে প্রতি তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের একজনকে প্রভাবিত করছে। ভারতে ক্রমবর্ধমান মদ্যপান, স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং ভাইরাল হেপাটাইটিস একসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি লিভারের রোগের বোঝা বাড়িয়ে তুলছে।
তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে লিভারের ক্ষতির প্রধান তিনটি কারণ হল অতিরিক্ত মদ্যপান, স্থূলতাজনিত ফ্যাটি লিভার এবং ভাইরাল হেপাটাইটিস। প্রতিটি কারণই আলাদাভাবে লিভারের কোষের ক্ষতি করতে পারে। তবে এই তিনটি একসঙ্গে থাকলে ক্ষতির গতি অনেক বেড়ে যায় এবং লিভার ফেলিওর, সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায় বলে জানিয়েছেন মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি মেডিক্যাল স্পেশালিস্ট। সেই রেশ ধরে একাধিক টিপস দিলেন তিনি। জানালেন যে কী কী ভ্রান্ত ধারণা আছে, আসলে কী করা উচিত।
মদ্যপানের অভ্যেস, ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কা
অনেকেই মনে করেন, শুধুমাত্র অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলেই লিভারের রোগ হয়। বাস্তবে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত মদ্যপান করলেও ধীরে ধীরে লিভারের ক্ষতি হয়। প্রথমে লিভারে চর্বি জমে অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার তৈরি হয়। এরপর লিভারে প্রদাহ দেখা দেয়, যাকে অ্যালকোহলিক হেপাটাইটিস বলা হয়। দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে লিভারের স্বাভাবিক টিস্যুর জায়গায় দাগ বা ফাইব্রোসিস তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত সিরোসিস দেখা দেয়, যা লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে নষ্ট করে দেয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, অ্যালকোহলজনিত লিভারের ক্ষতি প্রাথমিক পর্যায়ে কার্যত কোনও লক্ষণই দেখা যায় না। ফলে অনেকেই রোগ ধরা পড়ার আগেই জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যান।
স্থূলতা ও ফ্যাটি লিভার: ক্রমশ বাড়ছে চিন্তা
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে লিভারের রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে স্থূলতা। অতিরিক্ত ওজনের কারণে লিভারে চর্বি জমে যায়, এমনকী যাঁরা কখনও মদ্যপান করেন না, তাঁদেরও এই সমস্যা হতে পারে। বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও ফ্যাটি লিভারের প্রবণতা বাড়ছে।
যাঁদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, মেটাবলিক সিনড্রোম রয়েছে অথবা যাঁরা শারীরিকভাবে কম সক্রিয়, তাঁদের ঝুঁকি আরও বেশি। সময়মতো চিকিৎসা না হলে ফ্যাটি লিভার থেকে লিভারে প্রদাহ, ফাইব্রোসিস, সিরোসিস এবং কিছু ক্ষেত্রে লিভার ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে।
তবে আশার কথা হল ।যে রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সংশ্লিষ্ট রোগের সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি মেডিক্যাল স্পেশালিস্ট।
নীরব ঘাতক ভাইরাল হেপাটাইটিস
তিনি জানিয়েছেন, ভাইরাল হেপাটাইটিস হল এমন একটি সংক্রমণ, যা লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এর মধ্যে হেপাটাইটিস বি এবং হেপাটাইটিস সি সবচেয়ে গুরুতর, কারণ এগুলি বছরের পর বছর শরীরে কোনও লক্ষণ ছাড়াই থেকে লিভারের ক্ষতি করতে পারে।সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা না হলে দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস বি বা সি থেকে সিরোসিস, লিভার ফেলিয়োর এবং লিভার ক্যানসার হতে পারে।
তবে ভালো ব্যাপার হল যে হেপাটাইটিস বি টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং বর্তমানে হেপাটাইটিস বি ও সি—উভয়েরই কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে, যা দ্রুত শনাক্ত করা গেলে জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।
একাধিক ঝুঁকি একসঙ্গে থাকলে বিপদ আরও বাড়ে
যদি একজন ব্যক্তি স্থূল হন, নিয়মিত মদ্যপান করেন এবং একই সঙ্গে ভাইরাল হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হন, তাহলে তাঁর লিভারের মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক বেশি। এই তিনটি কারণ একসঙ্গে লিভারের প্রদাহ বাড়ায়, দ্রুত দাগ তৈরি করে এবং সিরোসিস ও লিভার ফেলিওরের দিকে রোগের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করে।
কোন লক্ষণগুলি এড়িয়ে যাবেন না?
মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি মেডিক্যাল স্পেশালিস্ট জািয়েছেন, লিভারের রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে রোগ বাড়তে থাকলে কিছু সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। সেগুলি হল -
১) দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি অনুভব করা
২) খাওয়ার অনিচ্ছা
৩) পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি
৪) বমিভাব বা বমি
৫) ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)
৬) পা বা পেট ফুলে যাওয়া
৭) গাঢ় রঙের প্রস্রাব
এছাড়া কোনও উপসর্গ না থাকলেও, যদি লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT)-এ AST, ALT বা বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় অথবা আল্ট্রাসোনোগ্রাফিতে ফ্যাটি লিভার ধরা পড়ে, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এগুলি লিভারের অন্তর্নিহিত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
তাঁর মতে, এই লক্ষণগুলিকে কখনও অবহেলা করা উচিত নয়। যত দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যাবে, তত বেশি সম্ভাবনা থাকবে স্থায়ী ক্ষতির আগেই রোগ নিয়ন্ত্রণে আনার। আর তারইমধ্যে ভালো ব্যাপারও রয়েছে। লিভারের অধিকাংশ রোগই প্রতিরোধযোগ্য। কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনুসরণ করলে লিভারকে সুস্থ রাখা সম্ভব।
১) মদ্যপান এড়িয়ে চলুন বা সীমিত করুন।
২) নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম খাদ্যের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৩) হেপাটাইটিস বি-র টিকা নিন।
৪) প্রয়োজনে হেপাটাইটিস বি ও সি-র পরীক্ষা করান।
৫) ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৬) নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান, বিশেষ করে যাঁদের স্থূলতা, ডায়াবেটিস, লিভারের রোগের পারিবারিক ইতিহাস বা দীর্ঘদিন মদ্যপান অভ্যেস রয়েছে।
সুস্থ লিভারই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি
মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি মেডিক্যাল স্পেশালিস্ট জানিয়েছেন, লিভার প্রতিদিন নীরবে আমাদের শরীরের শত-শত গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করে। অথচ বেশিরভাগ মানুষ এর গুরুত্ব উপলব্ধি করেন তখনই, যখন সমস্যা গুরুতর হয়ে ওঠে। অথচ সচেতন জীবনযাপন, সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা, অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, হেপাটাইটিসের টিকা নেওয়া এবং ভাইরাল হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতনতা- এই কয়েকটি পদক্ষেপই লিভারকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে পারে।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


