চার বছরের মেয়ের ধর্ষণকাণ্ডে হরিয়ানার গুরুগ্রাম পুলিশকে তুলোধোনা করল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার বিজেপি-শাসিত রাজ্যের পুলিশের উপরে চূড়ান্ত উষ্মাপ্রকাশ করে শীর্ষ আদালত প্রশ্ন তুলেছে যে কেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না? অভিযুক্তদের সুরক্ষা দেওয়ার 'অল-আউট' চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছে শীর্ষ আদালত। সেইসঙ্গে শিশু কল্যাণ কমিটির চূড়ান্ত ভর্ৎসনা করে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকন্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, ‘এই শিশু কল্যাণ কমিটির সদস্যদের কে নিয়োগ করেছে? ওঁরা এমন আচরণ করেছেন যে নির্যাতিতা যেন টেবিল বা চেয়ার।’
অবিলম্বে সিট গঠনের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

সেই রেশ ধরে হরিয়ানা সরকারকে অবিলম্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ওই ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের জন্য মহিলা আইপিএস অফিসারদের নিয়ে সিট গঠন করতে হবে। অবিলম্বে সেই সিট গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি করারও নির্দেশ দিয়েছে হরিয়ানা সরকারকে। সেইসঙ্গে ওই ঘটনার যাবতীয় নথিপত্র সিটের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য গুরুগ্রাম পুলিশকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
আরও পড়ুন: PM Modi on women security: ‘সন্ধ্যা নামলেই মেয়েদের ফোন করে বাংলার মায়েরা বলেন যে বাড়ি ফিরে এসো’
কী অভিযোগ উঠেছিল?
আর সুপ্রিম কোর্টের গুরুগ্রাম পুলিশকে তুলোধোনা করেছে চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ ওঠায়। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল যে দুই মহিলা গৃহকর্মী ও তাদের এক সহযোগী প্রায় দু'মাস ধরে ওই শিশুকে যৌন হেনস্থা করেছিল। পরবর্তীতে শিশু বিষয়টি বাবা-মা'কে জানানোর পরে অভিযোগ দায়ের করা হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি দায়ের করা হয় এফআইআর। কিন্তু যেভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাতে গুরুগ্রাম পুলিশকে একেবারে তুলোধোনা করেছে শীর্ষ আদালত।
'অপরাধকে লঘু করে দিয়েছে পুলিশ', তুলোধোনা সুপ্রিম কোর্টের
{{/usCountry}}'অপরাধকে লঘু করে দিয়েছে পুলিশ', তুলোধোনা সুপ্রিম কোর্টের
{{/usCountry}}নিজেদের পর্যবেক্ষণে শীর্ষ আদালত বলেছে, এরকম অপরাধকে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করেছে পুলিশ। একেবারে চাঁচাছোলা ভাষায় সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ‘পুলিশ অভিযুক্তকে রক্ষা করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। কমিশনার থেকে সাব-ইনস্পেক্টর- পুরো পুলিশ বাহিনীই সবরকমভাবে চেষ্টা করে গিয়েছে, যাতে তুলে ধরা যায় যে শিশুর কাছে কোনও প্রমাণ নেই বা বাবা-মায়ের (অভিযোগের) কোনও ভিত্তি নেই।'
আরও পড়ুন: গলছে বরফ! ইউনূসের আমলে অবনতি, দুয়ার খুলছে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তির
সেইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, 'যা প্রমাণ মিলেছে, তাতে ছিঁটেফোটাও সন্দেহ নেই যে পকসো আইনের ছয় নম্বর ধারার আওতায় কোনও অপরাধ ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অথচ অজানা কারণে ১০ নম্বর ধারার আওতায় পুলিশ এফআইআর দায়ের করে অপরাধকে লঘু করে দিয়েছে।’