Sign in

গলছে বরফ! ইউনূসের আমলে অবনতি, দুয়ার খুলছে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তির

এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ ও কৃষিপণ্যের জন্য ভারতের বাজারে আরও ভালো প্রবেশাধিকার পেতে আগ্রহী।

Published on: Mar 25, 2026, 13:43:59 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্ক গত ১৫ বছরে অনেকটা ঘনিষ্ঠতা অর্জন করলেও, মহম্মদ ইউনূসের আমলে নানা কারণে চরম অবনতির দিকে ধাবিত হয়। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর, দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন ধরনের উত্তেজনার মধ্যে প্রবাহিত হয়েছে। তবে তারেক রহমান গদিতে বসতেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে ফের উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছিল। এই আবহে ভারত ও বাংলাদেশ একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা জোরদার করেছে নয়া দিল্লি ও ঢাকা।

দুয়ার খুলছে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তির
দুয়ার খুলছে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তির

সূত্রের খবর, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক একীকরণ গভীর করার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হল ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরও ভারতের বাজারে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। পাশাপাশি এ চুক্তির মাধ্যমে ব্যবসাবাণিজ্য, সরবরাহ চেইন, সেবা খাত, প্রযুক্তি ও পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারি সূত্রে খবর, ঢাকা ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য সময় নির্ধারিত থাকলেও বিএনপি সরকার ইতিমধ্যে তিন বছর সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। এ প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিকে ভবিষ্যৎ বাণিজ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে ঢাকা। আলোচনায় সংশ্লিষ্ট ওপার বাংলার কর্মকর্তারা জানান, ভারতের সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি প্রচলিত মুক্তবাণিজ্য চুক্তির তুলনায় অধিক বিস্তৃত। এতে পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি সেবা খাত, বিনিয়োগ সহজীকরণ এবং নিয়ন্ত্রক সহযোগিতার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ ও কৃষিপণ্যের জন্য ভারতের বাজারে আরও ভালো প্রবেশাধিকার পেতে আগ্রহী। একই সঙ্গে সে দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ভারতীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বলে রাখা ভালো, ২০১৮ সালে দুই দেশ প্রথম সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করে এবং একটি যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমীক্ষা সম্পন্ন করে বাণিজ্য মন্ত্রকে রিপোর্ট জমা দেয়। রিপোর্ট পর্যালোচনার পর বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রক মত দেয় যে, এলডিসি উত্তরণের পরও সাফটা চুক্তির সুবিধা ধরে রাখতে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ভৌগোলিক নিকটতা থাকা সত্ত্বেও অশুল্ক বাধা এবং লজিস্টিক জটিলতা-বিশেষ করে পেট্রাপোল-বেনাপোল স্থলবন্দর করিডর-দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে রয়ে গেছে। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং সে দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুকতাদির চুক্তির অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে একমত হন। উভয় পক্ষ দ্রুত কারিগরি আলোচনা সম্পন্ন করে চুক্তি চূড়ান্ত করার ওপর জোর দিয়েছে। তবে এখনও কিছু জটিল বিষয় সমাধান বাকি রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে পণ্যের উৎস নির্ধারণ, অ্যান্টি-ডাম্পিং ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক মানের সমন্বয়।

এছাড়া সীমান্ত বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণ এবং রেল ও নৌপথ-সহ বহুমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা চলছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হবে। নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কেবল একটি শুল্ক হ্রাস চুক্তি নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা কাঠামো, যা ভবিষ্যতে ভারত-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, 'আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা সম্ভব বলে আমরা আশা করছি। ভারতীয় পক্ষ এখনও প্রস্তুতি প্রক্রিয়ায় রয়েছে।'

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হয়েছিল ৷ ২০২৫ সালের প্রথম দিকেও দু’দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বেশ গতিশীল ছিল ৷ কিন্তু প্রতিবেশী দেশের ছাত্র আন্দোলন এবং তার পরবর্তী সময়ে সে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়ে বাণিজ্যে ৷ সেই কারণে ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর দু’দেশের বাণিজ্য অনেকটাই কমে যায় ৷