গুরুগ্রামের নামী স্কুলগুলোতে সাম্প্রতিক বোমাতঙ্কের নেপথ্যে কি কোনও বড়সড় ষড়যন্ত্র আছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে এক রোমহর্ষক সাইবার অপরাধের জাল উন্মোচন করল পুলিশ। স্কুলগুলিতে বোমা মারার হুমকি দিয়ে ইমেল পাঠানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে সৌরভ বিশ্বাস ওরফে মাইকেল নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে। ধৃত এই যুবক সাইবার অপরাধের এক অন্ধকার জগতের কারিগর বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
কী ঘটেছিল গুরুগ্রামের স্কুলগুলোতে?

গত কয়েক সপ্তাহে গুরুগ্রামের একাধিক নামী বেসরকারি স্কুলে ইমেলের মাধ্যমে বোমার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে অভিভাবক এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ও বোম স্কোয়াড তল্লাশি চালালেও কোনও সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই ক্রমাগত হুমকির জেরে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা তদন্ত শুরু করে এবং ইমেলগুলোর আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করা শুরু করে।
তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
গুরুগ্রাম পুলিশের এসিপি (সাইবার ক্রাইম) প্রিয়াংশু দেওয়ান জানিয়েছেন, ধৃত সৌরভ বিশ্বাস আদতে বাংলাদেশের নাগরিক। সে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে পরিচয় গোপন করে থাকছিল। তদন্তে দেখা গিয়েছে, সৌরভ শুধুমাত্র গুরুগ্রাম নয়, বরং দেশের বিভিন্ন বড় শহরে ৩০০-এর বেশি ভুয়ো ইমেল পাঠিয়েছিল। এই ইমেলগুলোর মাধ্যমেই সে স্কুল ও অন্যান্য জনবহুল জায়গায় নাশকতার ভুয়ো হুমকি দিত।
লাইভ হিন্দুস্তানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ সুপার (সাইবার ক্রাইম) জানিয়েছেন, আমদাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে সৌরভকে। তদন্তে জানা গিয়েছে যে নয় বছর আগে বেআইনিভাবে ভারতে এসেছিল সৌরভ। সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে এজেন্টদের মাধ্যমে ভুয়ো সরকারি নথি তৈরি করেছিল। প্রাথমিকভাবে শ্রমিক হিসেবে কাজ করত।
ভিপিএন এবং প্রক্সি সার্ভারের কারসাজি
সাইবার অপরাধে সিদ্ধহস্ত সৌরভ তার পরিচয় গোপন রাখতে অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করত। সে বিভিন্ন দেশের প্রক্সি সার্ভার এবং ভিপিএনব্যবহার করে এই হুমকি ইমেলগুলো পাঠাত, যাতে পুলিশ সহজেই তার অবস্থান শনাক্ত করতে না পারে। তবে গুরুগ্রামের সাইবার সেল টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস এবং ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট অনুসরণ করে শেষপর্যন্ত তার ডেরায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
কেন এই হুমকি? কী ছিল উদ্দেশ্য?
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, ধৃত সৌরভ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এক ধরণের 'মজা' বা 'ডার্ক ওয়েব' অ্যাক্টিভিটির সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে এর পিছনে কোনও নাশকতামূলক গোষ্ঠীর উস্কানি আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও।
আতঙ্কে অভিভাবকরা, সতর্ক প্রশাসন
এই গ্রেফতারির পরে গুরুগ্রামের স্কুলগুলোতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডার্ক ওয়েবে আজকাল এই ধরণের 'বম্ব থ্রেট প্র্যাঙ্ক' একটি বিপজ্জনক ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। প্রশাসন স্কুলগুলোকে তাদের ডিজিটাল ফায়ারওয়াল শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছে এবং অভিভাবকদের অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।